সূরা আল-কাহফ (১৮) — আয়াত ১
১
ٱلْحَمْدُ
আল-হামদু
لِلَّهِ
লিল্লাহি
ٱلَّذِىٓ
আল্লাযীইই
أَنزَلَ
আন্-যালা
عَلَىٰ
আলা
عَبْدِهِ
আব্দিহী
ٱلْكِتَٰبَ
আল-কিতাবা
وَلَمْ
ওয়া লাম
يَجْعَل
ইয়াজ্'আল
لَّهُۥ
লَّাহূউউ
عِوَجَا ۜ
ইওয়াজাা
(আল-হামদু লিল্লাযীইই আনযালা আলা আব্দিহিল কিতাবা ওয়া লাম ইয়াজ'আল লَّাহূউউ ইওয়াজাা)
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি।
তাজবীদ বিশ্লেষণ (ব্যাজে ক্লিক করুন 👆)
-
১. لَامٌ قَمَرِيَّة (লামে কামারিয়া — লাম স্পষ্ট করা) কٱلْحَمْدُ এবং ٱلْكِতَٰبَ: আলিф-লাম (ال)-এর পর যথাক্রমে 'হা' (ح) এবং 'কাফ' (ك) হরফ এসেছে, যা কামারি হরফ। তাই এখানে 'লাম' অক্ষরটিকে স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
-
২. إِظْهَارٌ شَفَوِيٌّ (ইযهار শাফাওয়ী — মীম সাকিন স্পষ্ট করা) জٱلْحَمْدُ এবং وَلَمْ يَجْعَل: মীম সাকিন (مْ)-এর পর গুন্নাহর হরফ (মীম বা বা) ছাড়া অন্য হরফ আসায় এখানে মীম-কে কোনো প্রকার গুন্নাহ বা দেরি না করে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে হবে।
-
৩. تَرْقِيق (তারকীক — লফজে আল্লাহ-র লাম পাতলা করা) পাلِلَّهِ: আল্লাহ শব্দের 'লাম'-এর ডানে (নিচে) যের থাকার কারণে এখানে 'লাম' হরফটি মোটা (তাফখীম) না হয়ে পাতলা বা বারীক (তারকীক) করে পড়তে হবে।
-
৪. مَدّ جَائِز مُنْفَصِل (মদ্দে মুনফাসিল — ৪/৫ হরকত টানা) ৪/৫ٱلَّذِىٓ أَنزَلَ: প্রথম শব্দের শেষে মাদ্দ-এর হরফ (যের যুক্ত ইয়া—ذِى) এসেছে এবং তার পরের শব্দের শুরুতে পৃথকভাবে হামযা (أَ) এসেছে। একে মদ্দে মুনফাসিল বলে। এখানে ৪ বা ৫ হরকত পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
-
৫. إِخْفَاء (ইখফা — গোপন করে গুন্নাহ করা) খأَنزَلَ: নূন সাকিনের পর ইখফার হরফ 'যা' (ز) এসেছে। তাই নূন সাকিনের উচ্চারণকে গোপন করে নাকের বাঁশিতে নিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
-
৬. مَدٌّ أَصْلِيٌّ (মদ্দে আসলি — ২ হরকত টানা) ২আয়াতে সাধারণ মাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী ২ হরকত টানার স্থানসমূহ:
• ٱلَّذِى: যেরের বাম পাশে জযমযুক্ত ইয়া।
• عَلَىٰ: খাড়া জবর যুক্ত হরফ।
• ٱلْكِতَٰبَ: আলিফ খাড়া জবরের কারণে ২ হরকত স্বর টেনে পড়তে হবে। -
৭. قَلْقَلَة صُغْرَىٰ (ক্বলক্বলা সুগরা — হালকা ধাক্কা দিয়ে পড়া) ক্ব• عَبْدِهِ: ক্বলক্বলার হরফ 'বা' (بْ) শব্দের মাঝে সাকিন অবস্থায় আসায় হালকা প্রতিধ্বনি বা ধাক্কা দিতে হবে।
• يَجْعَل: ক্বলক্বলার হরফ 'জীম' (جْ) সাকিন অবস্থায় আসায় একইভাবে ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে। -
৮. مَدّ صِلَة صُغْرَىٰ (মদ্দে ছিলাহ সুগরা — ২ হরকত টানা) ২عَبْدِهِ: এখানে উল্টা পেশ/খাড়া যেরের মতো গোল 'হা' (সর্বনাম)-এর ডানে ও বামে হরকত রয়েছে এবং তার পরে কোনো হামযা নেই। তাই এটিকে ২ হরকত পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
-
৯. إِدْغَام بِلَا غُنَّة (ইদ্গাম বিলা-গুন্নাহ — গুন্নাহ ছাড়া মিলানো) দيَجْعَل لَّهُۥ: দুটি 'লাম' হরф পরপর এসেছে এবং প্রথম লামটি সাকিন ও দ্বিতীয়টি তাসদীদযুক্ত। প্রথম লামটি দ্বিতীয় লামের সাথে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই সম্পূর্ণ মিলে যাবে (উচ্চারণ: 'ইয়াজ'আল-লাহূ')।
-
১০. مَدّ صِلَة كُبْرَىٰ (মদ্দে ছিলাহ কুবরা — ৪/৫ হরকত টানা) ৪/৫لَّهُۥ عِوَجَا: উল্টা পেশ যুক্ত গোল 'হা' (هُۥ)-এর ঠিক পরেই পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামযা সদৃশ নিয়ম আসায় এটিকে দীর্ঘ করে ৪ বা ৫ হরকত পরিমাণ টানতে হবে।
-
১১. مَدّ عِوَض / سَكْت (মদ্দে আসলি এবং সাকত) ২ থ০عِوَجَا ۜ: দুই জবরের ওপর ওয়াকফ (থামলে) করার কারণে এক জবর বাদ দিয়ে আলিফ আকারে ২ হরকত টানতে হবে (মদ্দে ইওয়াজ)।
সাকত (থ০): এই শব্দের ওপর ছোট 'সাকতাহ' (ۜ) চিহ্ন থাকায় স্বর বন্ধ করে সামান্য সময় শ্বাস না ছেড়ে ক্ষণিক থামতে হবে।
