Elementor #15593

তাজবীদ হাইলাইট
পারা ২২
১
ও
يسٓইয়া-সীন
অর্থ

ইয়া-সীন। **২.**

Yā-Sīn. Ya, Seen.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يسٓ
২
৬ফহল্কতত৩ফ
وَالْقُرْآنِওয়াল কুরআনিWal-Qur'ānil-Ḥakīm.
হল্ক২ফও
الْحَكِيمِল হাকীম
অর্থ

প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ। **৩.**

By the wise Qur'an.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَالْقُرْآنِ
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: وَالْقُرْآنِ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْحَكِيمِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَالْقُرْآنِ ، وَالْقُرْآنِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَالْقُرْآنِ ، وَالْقُرْآنِ ، الْحَكِيمِ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: وَالْقُرْآنِ ، الْحَكِيمِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: وَالْقُرْآنِ ، الْحَكِيمِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْحَكِيمِ
৩
হ্বগ
إِنَّكَইন্নাকাInnaka
لَمِنَলামিনাল
হল্কত২ফও
الْمُرْسَلِينَমুরসালীনlaminal-mursalīn.
অর্থ

নিশ্চয়ই আপনি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত। **৪.**

Indeed, you are among the messengers.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّكَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّكَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
৪
১
عَلَىٰআলা‘Alā
তত২ফদত
صِرَاطٍসিরাতিমṣirāṭim
গত২ফও
مُّسْتَقِيمٍমুস্তাকীমmustaqīm.
অর্থ

সরল-সঠিক পথে। **৫.**

Upon a straight path.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: صِرَاطٍ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مُّسْتَقِيمٍ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: عَلَىٰ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: صِرَاطٍ ، مُّسْتَقِيمٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: صِرَاطٍ ، صِرَاطٍ ، صِرَاطٍ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: صِرَاطٍ ، مُّسْتَقِيمٍ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّسْتَقِيمٍ
৫
২ফ
تَنزِيلَতানযীলালTanzīlal-‘Azīzir-Raḥīm.
হল্ক২ফ
الْعَزِيزِ‘আযীযির
হলত২ফও
الرَّحِيمِরাহীম
অর্থ

এটি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। **৬.**

A revelation from the Almighty, the Most Merciful.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تَنزِيلَ ، الْعَزِيزِ ، الرَّحِيمِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الرَّحِيمِ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحِيمِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: تَنزِيلَ ، الْعَزِيزِ ، الرَّحِيمِ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْعَزِيزِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْعَزِيزِ ، الرَّحِيمِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الرَّحِيمِ
৬
ত
لِتُنذِرَলিতুনযিরাLitunzira
তদইওফ
قَوْمًاকাওমামqawmam
গ৪ফ
مَّاমাmā
হ্বত
أُنذِرَউনযিরাunzira
ব্দফ৩ফহ্বজশ
آبَاؤُهُمْআবা-উহুমābā'uhum
জশ
فَهُمْফাহুমfahum
ত১২ফও
غَافِلُونَগাফিলূনghāfilūn.
অর্থ

যাতে আপনি এমন এক জাতিকে সতর্ক করেন, যাদের পূর্বপুরুষদের সতর্ক করা হয়নি; ফলে তারা উদাসীন। **৭.**

So that you may warn a people whose forefathers were not warned, so they are unaware.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: قَوْمًا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: آبَاؤُهُمْ ، فَهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مَّا
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آبَاؤُهُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: غَافِلُونَ
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: آبَاؤُهُمْ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: مَّا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: غَافِلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: لِتُنذِرَ ، قَوْمًا ، أُنذِرَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَوْمًا ، مَّا ، آبَاؤُهُمْ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: قَوْمًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أُنذِرَ ، آبَاؤُهُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: غَافِلُونَ
৭
তক
لَقَدْলাকাদLaqad
ত
حَقَّহাক্কাল
হল্কতলিফ
الْقَوْلُকাওলুḥaqqal-qawlu
৪ফ
عَلَىٰআলা‘alā
হ্বতারজশ
أَكْثَرِهِمْআকসারিহিমaktharihim
জশ
فَهُمْফাহুমfahum
১
لَاলাlā
হ্ব২ফও
يُؤْمِنُونَইউ'মিনূনyu'minūn.
অর্থ

তাদের অধিকাংশের ওপর অবশ্যই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে; তাই তারা ঈমান আনবে না। **৮.**

The word has certainly come into effect upon most of them, so they will not believe.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَكْثَرِهِمْ ، فَهُمْ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: لَقَدْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: عَلَىٰ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يُؤْمِنُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: لَقَدْ ، حَقَّ ، الْقَوْلُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ ، عَلَىٰ ، يُؤْمِنُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَكْثَرِهِمْ ، يُؤْمِنُونَ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: أَكْثَرِهِمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُؤْمِنُونَ
৮
হ্বগ১
إِنَّاইন্নাInnā
১
جَعَلْنَاজা‘আলনাja‘alnā
৪ফ
فِيফীfī
হ্ব১তজশ
أَعْنَاقِهِمْআ‘নাকিহিমa‘nāqihim
হ্বত১খইওফ
أَغْلَالًاআগলালানaghlālan
فَهِيَফাহিয়াfahiya
হ্ব১
إِلَىইলাল
হল্কহ্বত২ফ
الْأَذْقَانِআযকানিilal-adhqāni
দশ
فَهُمফাহুমfahum
গকত২ফও
مُّقْمَحُونَমুকমাহূনmuqmaḥūn.
অর্থ

নিশ্চয়ই আমরা তাদের গলায় শৃঙ্খল পরিয়েছি, যা চিবুক পর্যন্ত পৌঁছেছে; ফলে তাদের মাথা উঁচু হয়ে আছে। **৯.**

Indeed, We have placed shackles around their necks up to their chins, so their heads are raised.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: أَغْلَالًا
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: فَهُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَعْنَاقِهِمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، مُّقْمَحُونَ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: مُّقْمَحُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، جَعَلْنَا ، أَعْنَاقِهِمْ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: فِي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْأَذْقَانِ ، مُّقْمَحُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَعْنَاقِهِمْ ، أَغْلَالًا ، الْأَذْقَانِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: فِي ، أَغْلَالًا ، الْأَذْقَانِ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: أَغْلَالًا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْأَذْقَانِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْأَذْقَانِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، أَعْنَاقِهِمْ ، أَغْلَالًا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّقْمَحُونَ
৯
১
وَجَعَلْنَاওয়া জা‘আলনাWa ja‘alnā
مِنমিনmin
লিফ
بَيْنِবাইনিbayni
হ্ব১জশ
أَيْدِيهِمْআইদীহিমaydīhim
দইওফ
سَدًّاসাদ্দাওsaddaw
জ
وَمِنْওয়া মিনwa min
তজশ
خَلْفِهِمْখালফিহিমkhalfihim
খইওফ
سَدًّاসাদ্দানsaddan
হ্বত১জশ
فَأَغْشَيْنَاهُمْফা-আগশাইনাহুমfa-aghshaynāhum
জশ
فَهُمْফাহুমfahum
১
لَاলাlā
কতত২ফও
يُبْصِرُونَইউবসিরূনyubṣirūn.
অর্থ

আর আমরা তাদের সামনে একটি প্রাচীর এবং পেছনে একটি প্রাচীর স্থাপন করেছি, অতঃপর তাদের আচ্ছন্ন করে দিয়েছি; ফলে তারা দেখতে পায় না। **১০.**

And We have placed a barrier before them and a barrier behind them and covered them, so they cannot see.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: وَمِنْ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: سَدًّا
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: سَدًّا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَيْدِيهِمْ ، خَلْفِهِمْ ، فَأَغْشَيْنَاهُمْ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: يُبْصِرُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَجَعَلْنَا ، أَيْدِيهِمْ ، فَأَغْشَيْنَاهُمْ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يُبْصِرُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: بَيْنِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: خَلْفِهِمْ ، فَأَغْشَيْنَاهُمْ ، يُبْصِرُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: بَيْنِ ، سَدًّا ، يُبْصِرُونَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: سَدًّا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَيْدِيهِمْ ، فَأَغْشَيْنَاهُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُبْصِرُونَ
১০
৩ফজহ্ব
وَسَوَاءٌওয়া সাওয়াউনWa sawā'un
জশ
عَلَيْهِمْআলাইহিম‘alayhim
হ্বহ্বতজশ
أَأَنذَرْتَهُمْআ-আনযারতাহুমa-andhartahum
হ্বজশ
أَمْআমam
জশ
لَمْলামlam
তারজশ
تُنذِرْهُمْতুনযিরহুমtundhirhum
১
لَاলাlā
হ্ব২ফও
يُؤْمِنُونَইউ'মিনূনyu'minūn.
অর্থ

আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান; তারা ঈমান আনবে না। **১১.**

It is the same for them whether you warn them or do not warn them; they will not believe.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: وَسَوَاءٌ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: عَلَيْهِمْ ، أَأَنذَرْتَهُمْ ، أَمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَسَوَاءٌ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يُؤْمِنُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَأَنذَرْتَهُمْ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَسَوَاءٌ ، يُؤْمِنُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَسَوَاءٌ ، أَأَنذَرْتَهُمْ ، أَأَنذَرْتَهُمْ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: تُنذِرْهُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُؤْمِنُونَ
১১
হ্বগ১
إِنَّمَاইন্নামাInnamā
ত
تُنذِرُতুনযিরুtundhiru
مَنِমানিman
اتَّبَعَত্তাবা‘আয
হলত
الذِّكْرَযিকরাittaba‘adh-dhikra
ত
وَخَشِيَওয়া খাশিয়ারwa
হলত২ফ
الرَّحْمَٰنَরাহমানাkhashiyar-Raḥmāna
হল্কতলিফক
بِالْغَيْبِবিলগাইবিbil-ghaybi
তার
فَبَشِّرْهُফাবাশশিরহুfabashshirhu
ততদ
بِمَغْفِرَةٍবিমাগফিরাতিওbimaghfiratin
হ্বকতার
وَأَجْرٍওয়া আজরিনwa ajrin
তার২ফও
كَرِيمٍকারীমkarīm.
অর্থ

আপনি তো কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ অনুসরণ করে এবং না দেখেও পরম দয়ালুকে ভয় করে। অতএব তাকে ক্ষমা ও সম্মানজনক পুরস্কারের সুসংবাদ দিন। **১২.**

You can only warn the one who follows the reminder and fears the Most Merciful unseen. So give him good news of forgiveness and an honorable reward.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: بِمَغْفِرَةٍ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّمَا
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: وَأَجْرٍ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: بِالْغَيْبِ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: إِنَّمَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنَ ، كَرِيمٍ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: بِالْغَيْبِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: تُنذِرُ ، الذِّكْرَ ، وَخَشِيَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الذِّكْرَ ، الرَّحْمَٰنَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنَ ، بِالْغَيْبِ ، كَرِيمٍ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: بِالْغَيْبِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الذِّكْرَ ، الرَّحْمَٰنَ ، بِالْغَيْبِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّمَا ، وَأَجْرٍ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: فَبَشِّرْهُ ، وَأَجْرٍ ، كَرِيمٍ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: كَرِيمٍ
১২
হ্বগ১
إِنَّاইন্নাInnā
نَحْنُনাহনুnaḥnu
১
نُحْيِيনুহইয়ি
হল্ক১
الْمَوْتَىٰল মাওতাnuḥyil-mawtā
ক
وَنَكْتُبُওয়া নাকতুবুwa naktubu
১
مَاমাmā
ত২ফ
قَدَّمُواকাদ্দামূqaddamū
৩ফ১তজশ
وَآثَارَهُمْওয়া আসারাহুমwa āthārahum,
وَكُلَّওয়া কুল্লাwa kulla
লিফজহ্ব
شَيْءٍশাইইনshay'in
হ্বত২ফ
أَحْصَيْنَاهُআহসাইনাহুaḥṣaynāhu
৪ফ
فِيফীfī
হ্ব২ফদ
إِمَامٍইমামিমimāmim
গ২ফও
مُّبِينٍমুবীনmubīn.
অর্থ

নিশ্চয়ই আমরাই মৃতদের জীবিত করি এবং তারা যা আগে পাঠিয়েছে ও তাদের রেখে যাওয়া প্রভাবসমূহ লিখে রাখি। আর সবকিছুই আমরা সুস্পষ্ট কিতাবে সংরক্ষণ করেছি। **১৩.**

Indeed, We give life to the dead and record what they have sent ahead and what they left behind. We have recorded everything in a clear register.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: شَيْءٍ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: إِمَامٍ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: وَآثَارَهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، مُّبِينٍ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَنَكْتُبُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، نُحْيِي ، الْمَوْتَىٰ
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَآثَارَهُمْ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: فِي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَدَّمُوا ، أَحْصَيْنَاهُ ، إِمَامٍ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: شَيْءٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَدَّمُوا ، وَآثَارَهُمْ ، أَحْصَيْنَاهُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَدَّمُوا ، وَآثَارَهُمْ ، شَيْءٍ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْمَوْتَىٰ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْمَوْتَىٰ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، شَيْءٍ ، أَحْصَيْنَاهُ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّبِينٍ
১৩
৬ফততারক
وَاضْرِبْওয়াদরিবWaḍrib
দশ
لَهُمলাহুমlahum
গজইওফ
مَّثَلًاমাসালানmathalan
হ্বত২ফক
أَصْحَابَআসহাবাল
হল্কতত
الْقَرْيَةِকারইয়াতিaṣḥābal-qaryati
হ্ব
إِذْইযidh
৩ফহ্ব১
جَاءَهَاজা-আহাল
হল্কত২ফও
الْمُرْسَلُونَমুরসালূনjā'ahal-mursalūn.
অর্থ

তাদের জন্য সেই জনপদের অধিবাসীদের উদাহরণ বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রাসূলগণ এসেছিল। **১৪.**

And present to them the example of the people of the town when the messengers came to them.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: مَّثَلًا
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: لَهُم
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مَّثَلًا
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَاضْرِبْ ، أَصْحَابَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: جَاءَهَا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: جَاءَهَا
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: وَاضْرِبْ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: أَصْحَابَ ، الْمُرْسَلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَاضْرِبْ ، أَصْحَابَ ، الْقَرْيَةِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَاضْرِبْ ، مَّثَلًا ، أَصْحَابَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: مَّثَلًا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْقَرْيَةِ ، الْمُرْسَلُونَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْقَرْيَةِ ، الْمُرْسَلُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَصْحَابَ ، إِذْ ، جَاءَهَا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: وَاضْرِبْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلُونَ
১৪
হ্ব
إِذْইযIdh
হ্বত৪ফ
أَرْسَلْنَاআরসালনাarsalnā
হ্ব
إِلَيْهِمُইলাইহিমুilayhim
লিফ
اثْنَيْنِসনাইনিithnaini
১১
فَكَذَّبُوهُمَاফাকাযযাবূহুমাfakadhdhabūhumā
১
فَعَزَّزْنَاফা‘আজ্জাজনাfa‘azzaznā
১খ
بِثَالِثٍবিছালিছিনbithālithin
ত১২ফ
فَقَالُواফাকালূfaqālū
হ্বগ৪ফ
إِنَّاইন্নাinnā
হ্বদশ
إِلَيْكُمইলাইকমilaykum
গত২ফও
مُّرْسَلُونَমুরসালূনmursalūn.
অর্থ

যখন আমরা তাদের কাছে দুজন রাসূল পাঠিয়েছিলাম, তখন তারা উভয়কে মিথ্যাবাদী বলেছিল। অতঃপর আমরা তৃতীয়জন দ্বারা তাদের শক্তিশালী করলাম। তারা বলল, ‘নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের কাছে প্রেরিত।’ **১৫.**

When We sent two messengers to them, they rejected them, so We strengthened them with a third. They said, “Indeed, we have been sent to you.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: بِثَالِثٍ
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: إِلَيْكُم
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، مُّرْسَلُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فَكَذَّبُوهُمَا ، فَكَذَّبُوهُمَا ، فَعَزَّزْنَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: أَرْسَلْنَا ، إِنَّا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: فَقَالُوا ، مُّرْسَلُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: اثْنَيْنِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَرْسَلْنَا ، فَقَالُوا ، مُّرْسَلُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: أَرْسَلْنَا ، اثْنَيْنِ ، فَقَالُوا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِذْ ، أَرْسَلْنَا ، إِلَيْهِمُ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّرْسَلُونَ
১৫
ত১২ফ
قَالُواকালূQālū
৪ফ
مَاমাmā
হ্বজশ
أَنتُمْআনতুমantum
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
ত
بَشَرٌবাশারুমbasharum
গ১
مِّثْلُنَاমিছলুনাmithlunā
৪ফ
وَمَاওয়া মাwa mā
হ্ব
أَنزَلَআনযালার
হলত২ফ
الرَّحْمَٰنُরাহমানুanzalar-Raḥmānu
مِنমিনmin
লিফজহ্ব
شَيْءٍশাইইনshay'in
হ্বজ
إِنْইনin
হ্বজশ
أَنتُمْআনতুমantum
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
২ফও
تَكْذِبُونَতাকযিবূনtakdhibūn.
অর্থ

তারা বলল, ‘তোমরা তো আমাদের মতোই মানুষ। পরম দয়ালু কোনো কিছুই অবতীর্ণ করেননি। তোমরা কেবল মিথ্যা বলছ।’ **১৬.**

They said, “You are only human beings like us, and the Most Merciful has not revealed anything. You are only lying.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: شَيْءٍ ، إِنْ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَنتُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّثْلُنَا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، إِلَّا ، مِّثْلُنَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: مَا ، وَمَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، الرَّحْمَٰنُ ، تَكْذِبُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: شَيْءٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَالُوا ، بَشَرٌ ، الرَّحْمَٰنُ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَالُوا ، مَا ، وَمَا
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَنتُمْ ، إِلَّا ، أَنزَلَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تَكْذِبُونَ
১৬
ত১২ফ
قَالُواকালূQālū
ত১
رَبُّنَاরব্বুনাrabbunā
يَعْلَمُইয়া‘লামুya‘lamu
হ্বগ৪ফ
إِنَّاইন্নাinnā
হ্বজশ
إِلَيْكُمْইলাইকুমilaykum
ত২ফও
لَمُرْسَلُونَলামুরসালূনlamursalūn.
অর্থ

তারা বলল, ‘আমাদের রব জানেন যে, আমরা অবশ্যই তোমাদের কাছে প্রেরিত।’ **১৭.**

They said, “Our Lord knows that we have indeed been sent to you.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: إِلَيْكُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، رَبُّنَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، لَمُرْسَلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَالُوا ، رَبُّنَا ، لَمُرْسَلُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَالُوا ، إِنَّا ، لَمُرْسَلُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، إِلَيْكُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: لَمُرْسَلُونَ
১৭
১
وَمَاওয়া মাWa mā
৪ফ
عَلَيْنَاআলাইনা‘alaynā
হ্ব১
إِلَّاইল্লাল
হল্ক২ফত
الْبَلَاغُবালাগুillal-balāghul-mubīn.
হল্ক২ফও
الْمُبِينُল মুবীন
অর্থ

আর আমাদের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। **১৮.**

And our duty is only to convey the message clearly.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَمَا ، إِلَّا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: عَلَيْنَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْبَلَاغُ ، الْمُبِينُ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الْبَلَاغُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: عَلَيْنَا ، الْبَلَاغُ ، الْمُبِينُ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْبَلَاغُ ، الْمُبِينُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْبَلَاغُ ، الْمُبِينُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِلَّا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُبِينُ
১৮
ত১২ফ
قَالُواকালূQālū
হ্বগ১
إِنَّاইন্নাinnā
তত১
تَطَيَّرْنَاতাতাইয়ারনাtaṭayyarna
জশ
بِكُمْবিকুমbikum;
হ্বদ
لَئِنলাইনla'in
জশ
لَّمْলামlam
২ফ
تَنتَهُواতান্তাহূtantahū
তগজশ
لَنَرْجُمَنَّكُمْলানারজুমান্নাকুমlanarjumannakum
গদশ
وَلَيَمَسَّنَّكُمওয়া লায়ামাসসান্নাকুমwa layamassannakum
গগ১
مِّنَّاমিন্নাminnā
২ফজ
عَذَابٌআযাবুন‘adhābun
হ্ব২ফও
أَلِيمٌআলীমalīm.
অর্থ

তারা বলল, ‘আমরা তোমাদের অমঙ্গলের কারণ মনে করি। তোমরা যদি বিরত না হও, তবে আমরা অবশ্যই তোমাদের পাথর মেরে হত্যা করব এবং আমাদের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে।’ **১৯.**

They said, “We consider you an evil omen. If you do not stop, we will surely stone you, and a painful punishment from us will afflict you.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: عَذَابٌ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: لَئِن
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: وَلَيَمَسَّنَّكُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: بِكُمْ ، لَّمْ ، لَنَرْجُمَنَّكُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، لَنَرْجُمَنَّكُمْ ، وَلَيَمَسَّنَّكُم
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، إِنَّا ، تَطَيَّرْنَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، تَنتَهُوا ، عَذَابٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَالُوا ، تَطَيَّرْنَا ، تَطَيَّرْنَا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَالُوا ، تَنتَهُوا ، عَذَابٌ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا ، لَئِن ، أَلِيمٌ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: أَلِيمٌ
১৯
ত১২ফ
قَالُواকালূQālū
ত৩ফহ্বতদশ
طَائِرُكُمতাঈরুকুমṭā'irukum
গজশ
مَّعَكُمْমা‘আকুমma‘akum;
হ্বহ্ব
أَئِنআ-ইনa-in
তার
ذُكِّرْتُمযুক্কিরতুমdhukkirtum?
بَلْবালBal
হ্বজশ
أَنتُمْআনতুমantum
তলিফদ
قَوْمٌকাওমুমqawmum
গতার২ফও
مُّسْرِفُونَমুসরিফূনmusrifūn.
অর্থ

তারা বলল, ‘তোমাদের অমঙ্গল তোমাদের সঙ্গেই রয়েছে। তোমাদের উপদেশ দেওয়া হলে কি তোমরা এমন কথা বলছ? বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী জাতি।’ **২০.**

They said, “Your omen is with you. Is it because you were reminded? Rather, you are a transgressing people.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: قَوْمٌ
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: طَائِرُكُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: مَّعَكُمْ ، أَنتُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مَّعَكُمْ ، مُّسْرِفُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: قَالُوا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: طَائِرُكُم
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، مُّسْرِفُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: قَوْمٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَالُوا ، طَائِرُكُم ، طَائِرُكُم
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَالُوا ، طَائِرُكُم ، قَوْمٌ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: طَائِرُكُم ، أَئِن ، أَئِن
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: ذُكِّرْتُم ، مُّسْرِفُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّسْرِفُونَ
২০
৩ফহ্ব
وَجَاءَওয়া জা-আWa jā'a
জ
مِنْমিনmin
হ্বকতত১
أَقْصَىআকসা
হল্ক১
الْمَدِينَةِল মাদীনাতিaqṣal-madīnati
তদ
رَجُلٌরাজুলুনrajulun
১
يَسْعَىٰইয়াস‘আyas‘ā
ত২ফ
قَالَকালাqāla
১
يَاইয়াyā
তলিফ
قَوْمِকাওমিqawmi
২ফ
اتَّبِعُواত্তাবি‘উ
হল্কত২ফও
الْمُرْسَلِينَল মুরসালীনittabi‘ul-mursalīn.
অর্থ

আর শহরের প্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এসে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলদের অনুসরণ করো।’ **২১.**

And a man came running from the farthest part of the city. He said, “O my people, follow the messengers.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: مِنْ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: رَجُلٌ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: أَقْصَى
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَقْصَى ، الْمَدِينَةِ ، يَسْعَىٰ
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَجَاءَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالَ ، اتَّبِعُوا ، الْمُرْسَلِينَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: قَوْمِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَقْصَى ، أَقْصَى ، رَجُلٌ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَجَاءَ ، قَالَ ، قَوْمِ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْمَدِينَةِ ، الْمُرْسَلِينَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْمَدِينَةِ ، الْمُرْسَلِينَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَجَاءَ ، أَقْصَى
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلِينَ
২১
২ফ
اتَّبِعُواইত্তাবি‘উIttabi‘ū
দ
مَنমানman
১
لَّاলাlā
হ্বজশ
يَسْأَلُكُمْইয়াসআলুকুমyas'alukum
হ্বকইওফত
أَجْرًاআজরাওajraw
দশ
وَهُمওয়া হুমwa hum
গ২ফও
مُّهْتَدُونَমুহতাদূনmuhtadūn.
অর্থ

তোমরা তাদের অনুসরণ করো, যারা তোমাদের কাছে কোনো পারিশ্রমিক চায় না এবং যারা সঠিক পথে পরিচালিত। **২২.**

Follow those who ask no payment from you and are rightly guided.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: مَن
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: وَهُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: يَسْأَلُكُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مُّهْتَدُونَ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: أَجْرًا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَّا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: اتَّبِعُوا ، مُّهْتَدُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَجْرًا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: اتَّبِعُوا ، أَجْرًا ، مُّهْتَدُونَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: أَجْرًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: يَسْأَلُكُمْ ، أَجْرًا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّهْتَدُونَ
২২
১
وَمَاওয়া মাWa mā
لِيَলিয়াliya
৪ফ
لَاলাlā
হ্বক
أَعْبُدُআ‘বুদুa‘budulladhī
হল১
الَّذِيল্লাযী
তত১
فَطَرَنِيফাতারানীfaṭaranī
হ্বলিফ
وَإِلَيْهِওয়া ইলাইহিwa ilayhi
ত২ফও
تُرْجَعُونَতুরজা‘ূনturja‘ūn.
অর্থ

‘আর আমি কেন তাঁর ইবাদত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’ **২৩.**

And why should I not worship the One who created me, and to Him you will be returned?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: أَعْبُدُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَمَا ، الَّذِي ، فَطَرَنِي
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: لَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تُرْجَعُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: وَإِلَيْهِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: فَطَرَنِي ، فَطَرَنِي ، تُرْجَعُونَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: لَا ، وَإِلَيْهِ ، تُرْجَعُونَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَعْبُدُ ، وَإِلَيْهِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تُرْجَعُونَ
২৩
হ্বহ্বত
أَأَتَّخِذُআ-আত্তাখিযুA-attakhidhu
مِنমিনmin
১
دُونِهِদুনিহিdūnihī
ব্দফজ
آلِهَةًআলিহাতানālihatan?
হ্ব
إِنইনIn
তারক
يُرِدْنِইউরিদনির
হলত২ফ
الرَّحْمَٰنُরাহমানুyuridnir-Raḥmānu
ততার
بِضُرٍّবিদুররিলbiḍurril-lā
১
لَّاলা
ত
تُغْنِতুগনীtughnī
গ১
عَنِّي‘আন্নী‘annī
১জশ
شَفَاعَتُهُمْশাফা‘আতুহুমshafā‘atuhum
দইওফহ্ব
شَيْئًاশাইআওshay'aw
১
وَلَاওয়া লাwa lā
ত২ফও
يُنقِذُونِইউনকিযূনyunqidhūn.
অর্থ

‘আমি কি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য উপাস্য গ্রহণ করব? পরম দয়ালু আমার কোনো ক্ষতি চাইলে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না।’ **২৪.**

Should I take gods besides Him? If the Most Merciful intends harm for me, their intercession cannot benefit me at all, nor can they save me.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: آلِهَةً
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: شَيْئًا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: شَفَاعَتُهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: عَنِّي
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: يُرِدْنِ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آلِهَةً
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: دُونِهِ ، لَّا ، عَنِّي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ ، يُنقِذُونِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَأَتَّخِذُ ، الرَّحْمَٰنُ ، بِضُرٍّ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: آلِهَةً ، الرَّحْمَٰنُ ، شَيْئًا
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: شَيْئًا
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَأَتَّخِذُ ، أَأَتَّخِذُ ، إِن
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: يُرِدْنِ ، بِضُرٍّ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُنقِذُونِ
২৪
হ্বগ৪ফ
إِنِّيইন্নীInnī
হ্বদইওফ
إِذًاইযালidhan
১
لَّفِيলাফীlafī
ত২ফদ
ضَلَالٍদালালিমḍalālim
গ২ফও
مُّبِينٍমুবীনmubīn.
অর্থ

‘তাহলে আমি অবশ্যই সুস্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে থাকব।’ **২৫.**

Indeed, I would then be in clear error.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: ضَلَالٍ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: إِذًا
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنِّي ، مُّبِينٍ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَّفِي
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: إِنِّي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: ضَلَالٍ ، مُّبِينٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: ضَلَالٍ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: إِنِّي ، إِذًا ، ضَلَالٍ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: إِذًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنِّي ، إِذًا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّبِينٍ
২৫
হ্বগ৪ফ
إِنِّيইন্নীInnī
ব্দফ
آمَنتُআমানতুāmantu
তজশ
بِرَبِّكُمْবিরব্বিকুমbirabbikum
৬ফ২ফও
فَاسْمَعُونِফাসমা‘ূনfasma‘ūn.
অর্থ

‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছি; অতএব আমার কথা শোনো।’ **২৬.**

Indeed, I have believed in your Lord, so listen to me.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: بِرَبِّكُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنِّي
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آمَنتُ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: إِنِّي
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: فَاسْمَعُونِ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: فَاسْمَعُونِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: بِرَبِّكُمْ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: إِنِّي ، آمَنتُ ، فَاسْمَعُونِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنِّي
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: فَاسْمَعُونِ
২৬
ত২ফ
قِيلَকীলাQīla
কত
ادْخُلِদখুলিল
হল্কগ
الْجَنَّةَজান্নাহudkhulil-jannah.
ত২ফ
قَالَকালাQāla
১
يَاইয়াyā
লিফ
لَيْتَলায়তাlayta
ত১
قَوْمِيকাওমীqawmī
২ফও
يَعْلَمُونَইয়া‘লামূনya‘lamūn.
অর্থ

তাকে বলা হলো, ‘জান্নাতে প্রবেশ করো।’ সে বলল, ‘হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানত— **২৭.**

It was said, “Enter Paradise.” He said, “If only my people knew—

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: الْجَنَّةَ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: ادْخُلِ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: يَا ، قَوْمِي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قِيلَ ، قَالَ ، يَعْلَمُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: لَيْتَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قِيلَ ، ادْخُلِ ، قَالَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قِيلَ ، قَالَ ، لَيْتَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْجَنَّةَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْجَنَّةَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَعْلَمُونَ
২৭
১
بِمَاবিমাBimā
তত
غَفَرَগাফারাghafara
১
لِيলীlī
ত১
رَبِّيরব্বীrabbī
১
وَجَعَلَنِيওয়া জা‘আলানীwa ja‘alanī
مِنَমিনা
হল্কত২ফও
الْمُكْرَمِينَল মুকরামীনminal-mukramīn.
অর্থ

‘আমার রব আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।’ **২৮.**

Of how my Lord has forgiven me and made me among the honored.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: بِمَا ، لِي ، رَبِّي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْمُكْرَمِينَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: غَفَرَ ، غَفَرَ ، رَبِّي
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْمُكْرَمِينَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْمُكْرَمِينَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْمُكْرَمِينَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُكْرَمِينَ
পারা ২৩ শুরু — ওয়ামা লিয়া
২৮
৪ফ
وَمَاওয়া মাWa mā
হ্ব১
أَنزَلْنَاআনযালনাanzalnā
১
عَلَىٰআলা‘alā
ত
قَوْمِهِকাওমিহিqawmihī
مِنমিমmim
بَعْدِهِবা‘দিহিba‘dihī
مِنমিনmin
দ
جُندٍজুনদিমjundim
গ
مِّنَমিনাস
হল৩ফহ্ব
السَّمَاءِসামা-ইminas-samā'i
১
وَمَاওয়া মাwa mā
গ১
كُنَّاকুন্নাkunnā
২ফও
مُنزِلِينَমুনযিলীনmunzilīn.
অর্থ

তারপর তার সম্প্রদায়ের ওপর আমরা আকাশ থেকে কোনো বাহিনী পাঠাইনি এবং পাঠানোর প্রয়োজনও ছিল না। **২৯.**

And We did not send down upon his people after him any army from heaven, nor would We ever send one down.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: جُندٍ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّنَ ، كُنَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا ، عَلَىٰ ، وَمَا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: السَّمَاءِ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: وَمَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: مُنزِلِينَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَوْمِهِ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: السَّمَاءِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَمَا ، السَّمَاءِ ، مُنزِلِينَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: السَّمَاءِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا ، السَّمَاءِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُنزِلِينَ
২৯
হ্ব
إِنইনIn
১
كَانَتْকানাতkānat
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
তদ
صَيْحَةًসাইহাতানṣayḥatan
১খ
وَاحِدَةًওয়াহিদাতানwāḥidatan
হ্ব১
فَإِذَاফাইযাfa-idhā
জশ
هُمْহুমhum
ত১২ফও
خَامِدُونَখামিদূনkhāmidūn.
অর্থ

এটি ছিল শুধু এক প্রচণ্ড শব্দ; তাতেই তারা নিস্তব্ধ হয়ে গেল। **৩০.**

It was only one blast, and suddenly they were extinguished.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: صَيْحَةً
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: وَاحِدَةً
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: هُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: كَانَتْ ، إِلَّا ، وَاحِدَةً
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: خَامِدُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: صَيْحَةً ، خَامِدُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: خَامِدُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِن ، إِلَّا ، فَإِذَا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: خَامِدُونَ
৩০
১
يَاইয়াYā
তজ
حَسْرَةًহাসরাতানḥasratan
১
عَلَىআলাল
হল্ক২ফক
الْعِبَادِ‘ইবাদ‘alal-‘ibād.
১
مَاমাMā
হ্ব১দশ
يَأْتِيهِمইয়াতীহিমya'tīhim
গদ
مِّنমির
ত২ফজ
رَّسُولٍরাসূলিনmir-rasūlin
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
১২ফ
كَانُواকানূkānū
بِهِবিহিbihī
হ্বব্দফও
يَسْتَهْزِئُونَইয়াস্তাহযিঊনyastahzi'ūn.
অর্থ

হায় আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে যখনই কোনো রাসূল এসেছে, তারা তাকে উপহাস করেছে। **৩১.**

How regretful for the servants! Whenever a messenger came to them, they mocked him.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: حَسْرَةً ، رَّسُولٍ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: مِّن
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: يَأْتِيهِم
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّن
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: الْعِبَادِ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: يَسْتَهْزِئُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: يَا ، عَلَى ، مَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْعِبَادِ ، رَّسُولٍ ، كَانُوا
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: حَسْرَةً ، رَّسُولٍ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْعِبَادِ ، رَّسُولٍ ، كَانُوا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْعِبَادِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْعِبَادِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: يَأْتِيهِم ، إِلَّا ، يَسْتَهْزِئُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَسْتَهْزِئُونَ
৩১
হ্বজশ
أَلَمْআলামAlam
তলিফ
يَرَوْاইয়ারাওyaraw
জশ
كَمْকামkam
হ্ব১
أَهْلَكْنَاআহলাকনাahlaknā
তকদশ
قَبْلَهُمকাবলাহুমqablahum
গ
مِّنَমিনাল
হল্কতত২ফ
الْقُرُونِকুরূনিminal-qurūni
হ্বগজশ
أَنَّهُمْআন্নাহুমannahum
হ্বজশ
إِلَيْهِمْইলাইহিমilayhim
১
لَاলাlā
ত২ফও
يَرْجِعُونَইয়ারজি‘ূনyarji‘ūn.
অর্থ

তারা কি দেখেনি, তাদের আগে কত প্রজন্মকে আমরা ধ্বংস করেছি, যারা আর তাদের কাছে ফিরে আসে না? **৩২.**

Have they not seen how many generations We destroyed before them, and that they will not return to them?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: قَبْلَهُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَلَمْ ، كَمْ ، أَنَّهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّنَ ، أَنَّهُمْ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: قَبْلَهُم
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَهْلَكْنَا ، لَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْقُرُونِ ، يَرْجِعُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: يَرَوْا
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَرَوْا ، قَبْلَهُم ، الْقُرُونِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَرَوْا ، الْقُرُونِ ، يَرْجِعُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْقُرُونِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْقُرُونِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَلَمْ ، أَهْلَكْنَا ، أَنَّهُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَرْجِعُونَ
৩২
হ্ব
وَإِنওয়া ইনWa in
দ
كُلٌّকুল্লুলkullul
গ১
لَّمَّاলাম্মাlammā
২ফদ
جَمِيعٌজামি‘উলjamī‘ul
১
لَّدَيْنَاলাদাইনাladaynā
তত২ফও
مُحْضَرُونَমুহদারূনmuḥḍarūn.
অর্থ

আর তাদের সবাইকে অবশ্যই আমাদের সামনে উপস্থিত করা হবে। **৩৩.**

And all of them will be brought before Us.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: كُلٌّ ، جَمِيعٌ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: لَّمَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَّمَّا ، لَّدَيْنَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: جَمِيعٌ ، مُحْضَرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: مُحْضَرُونَ ، مُحْضَرُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: جَمِيعٌ ، مُحْضَرُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَإِن
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُحْضَرُونَ
৩৩
৩ফদ
وَآيَةٌওয়া আয়াতুলWa āyatun
لَّهُمُলাহুমু
হল্কহ্বতত
الْأَرْضُল আরদু
হল্ক
الْمَيْتَةُল মাইতাতুlahumul-arḍul-maytatu
হ্ব১১
أَحْيَيْنَاهَاআহইয়াইনাহাaḥyaynāhā
হ্বততক১
وَأَخْرَجْنَاওয়া আখরাজনাwa akhrajnā
জ১
مِنْهَاমিনহাminhā
খইওফ
حَبًّاহাব্বানḥabban
জ
فَمِنْهُফামিনহুfaminhu
হ্ব২ফও
يَأْكُلُونَইয়াকুলূনya'kulūn.
অর্থ

তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো মৃত জমিন। আমরা তাকে জীবিত করি এবং তা থেকে শস্য বের করি, অতঃপর তারা তা খায়। **৩৪.**

And a sign for them is the dead earth. We give it life and bring forth from it grain, from which they eat.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: مِنْهَا ، فَمِنْهُ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: حَبًّا
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: وَأَخْرَجْنَا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَحْيَيْنَاهَا ، أَحْيَيْنَاهَا ، وَأَخْرَجْنَا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَأْكُلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الْأَرْضُ ، الْأَرْضُ ، وَأَخْرَجْنَا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ ، حَبًّا ، يَأْكُلُونَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: حَبًّا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْأَرْضُ ، الْمَيْتَةُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْأَرْضُ ، الْمَيْتَةُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: الْأَرْضُ ، أَحْيَيْنَاهَا ، وَأَخْرَجْنَا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَأْكُلُونَ
৩৪
১
وَجَعَلْنَاওয়া জা‘আলনাWa ja‘alnā
১১
فِيهَاফীহাfīhā
গ২ফদ
جَنَّاتٍজান্নাতিমjannātim
গদ
مِّنমিনmin
গত২ফদ
نَّخِيلٍনাখীলিওnakhīliw
হ্ব২ফদ
وَأَعْنَابٍওয়া আ‘নাবিওwa a‘nābiw
ত১
وَفَجَّرْنَاওয়া ফাজ্জারনাwa fajjarnā
১১
فِيهَاফীহাfīhā
مِنَমিনা
হল্ক২ফও
الْعُيُونِল ‘উয়ূনminal-‘uyūn.
অর্থ

আর আমরা তাতে খেজুর ও আঙুরের বাগান সৃষ্টি করেছি এবং তাতে ঝরনা প্রবাহিত করেছি। **৩৫.**

And We placed therein gardens of date palms and grapes, and caused springs to flow therein.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: جَنَّاتٍ ، مِّن ، نَّخِيلٍ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: جَنَّاتٍ ، مِّن ، نَّخِيلٍ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَجَعَلْنَا ، فِيهَا ، فِيهَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: جَنَّاتٍ ، نَّخِيلٍ ، وَأَعْنَابٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: نَّخِيلٍ ، وَفَجَّرْنَا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: جَنَّاتٍ ، نَّخِيلٍ ، وَأَعْنَابٍ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْعُيُونِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْعُيُونِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَأَعْنَابٍ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْعُيُونِ
৩৫
হ্ব২ফ
لِيَأْكُلُواলিয়াকুলূLiya'kulū
مِنমিনmin
তার
ثَمَرِهِসামারিহিthamarihī
১
وَمَاওয়া মাwa mā
عَمِلَتْهُ‘আমিলাতহু‘amilathu
হ্ব১জশ
أَيْدِيهِمْআইদীহিমaydīhim
হ্ব১
أَفَلَاআফালাafalā
ত২ফও
يَشْكُرُونَইয়াশকুরূনyashkurūn.
অর্থ

যাতে তারা এর ফল খেতে পারে, অথচ তাদের হাত তা সৃষ্টি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞ হবে না? **৩৬.**

So that they may eat of its fruit, though their hands did not produce it. Will they not then be grateful?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَيْدِيهِمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَمَا ، أَيْدِيهِمْ ، أَفَلَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: لِيَأْكُلُوا ، يَشْكُرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَشْكُرُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: لِيَأْكُلُوا ، يَشْكُرُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: لِيَأْكُلُوا ، أَيْدِيهِمْ ، أَفَلَا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: ثَمَرِهِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَشْكُرُونَ
৩৬
ক২ফ
سُبْحَانَসুবহানাSubḥānalladhī
হল১
الَّذِيল্লাযী
তকত
خَلَقَখালাকা
হল্কহ্ব২ফক
الْأَزْوَاجَল আযওয়াজাkhalaqal-azwāja
১
كُلَّهَاকুল্লাহাkullahā
গ১
مِمَّاমিম্মাmimmā
تُنبِتُতুমবিতুtunbitul-arḍu
হল্কহ্বতত
الْأَرْضُল আরদু
জ
وَمِنْওয়া মিনwa min
হ্বজশ
أَنفُسِهِمْআনফুসিহিমanfusihim
গ১
وَمِمَّاওয়া মিম্মাwa mimmā
১
لَاলাlā
২ফও
يَعْلَمُونَইয়া‘লামূনya‘lamūn.
অর্থ

পবিত্র তিনি, যিনি সব জোড়া সৃষ্টি করেছেন—যা জমিন উৎপন্ন করে, তাদের নিজেদের মধ্য থেকে এবং এমন অনেক কিছু থেকেও যা তারা জানে না। **৩৭.**

Glory be to Him who created all pairs—of what the earth produces, of themselves, and of things they do not know.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: وَمِنْ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَنفُسِهِمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِمَّا ، وَمِمَّا
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: سُبْحَانَ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: خَلَقَ ، الْأَزْوَاجَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: الَّذِي ، كُلَّهَا ، مِمَّا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: سُبْحَانَ ، الْأَزْوَاجَ ، يَعْلَمُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: خَلَقَ ، خَلَقَ ، الْأَرْضُ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: سُبْحَانَ ، الْأَزْوَاجَ ، يَعْلَمُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْأَزْوَاجَ ، الْأَرْضُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي ، الْأَزْوَاجَ ، الْأَرْضُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: الْأَزْوَاجَ ، الْأَرْضُ ، أَنفُسِهِمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَعْلَمُونَ
৩৭
৩ফদ
وَآيَةٌওয়া আয়াতুলWa āyatun
لَّهُمُলাহুমুলlahumul-laylu
হললিফ
اللَّيْلُলাইলু
ত
نَسْلَخُনাসলাখুnaslakhu
জ
مِنْهُমিনহুন
হলগ২ফত
النَّهَارَনাহারাminhun-nahāra
হ্ব১
فَإِذَاফাইযাfa-idhā
দশ
هُمহুমhum
গত২ফও
مُّظْلِمُونَমুযলিমূনmuẓlimūn.
অর্থ

আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো রাত; আমরা তা থেকে দিনকে সরিয়ে নিই, তখনই তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। **৩৮.**

And a sign for them is the night. We strip from it the daylight, and suddenly they are in darkness.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: مِنْهُ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: هُم
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: النَّهَارَ ، مُّظْلِمُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فَإِذَا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: النَّهَارَ ، مُّظْلِمُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: اللَّيْلُ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: نَسْلَخُ ، النَّهَارَ ، مُّظْلِمُونَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: اللَّيْلُ ، النَّهَارَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ ، اللَّيْلُ ، النَّهَارَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: اللَّيْلُ ، النَّهَارَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: فَإِذَا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّظْلِمُونَ
৩৮
১হলজশ
وَالشَّمْسُওয়াশ শামসুWash-shamsu
কতার১
تَجْرِيতাজরীtajrī
ততার
لِمُسْتَقَرٍّলিমুস্তাকাররিলlimustaqarril
১
لَّهَاলাহাlahā;
১
ذَٰلِكَযালিকাdhālika
কত২ফত
تَقْدِيرُতাকদীরুtaqdīrul-‘Azīzil-‘Alīm.
হল্ক২ফ
الْعَزِيزِল ‘আযীযিল
হল্ক২ফও
الْعَلِيمِ‘আলীম
অর্থ

আর সূর্য তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে চলতে থাকে। এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নির্ধারণ। **৩৯.**

And the sun runs to its appointed course. That is the determination of the Almighty, the All-Knowing.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: وَالشَّمْسُ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: تَجْرِي ، تَقْدِيرُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَالشَّمْسُ ، تَجْرِي ، لَّهَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تَقْدِيرُ ، الْعَزِيزِ ، الْعَلِيمِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: لِمُسْتَقَرٍّ ، تَقْدِيرُ ، تَقْدِيرُ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: وَالشَّمْسُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: تَقْدِيرُ ، الْعَزِيزِ ، الْعَلِيمِ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْعَزِيزِ ، الْعَلِيمِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: وَالشَّمْسُ ، الْعَزِيزِ ، الْعَلِيمِ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: تَجْرِي ، لِمُسْتَقَرٍّ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْعَلِيمِ
৩৯
৬ফহল্কতত
وَالْقَمَرَওয়াল কামারাWal-qamara
তত২ফ
قَدَّرْنَاهُকাদ্দারনাহুqaddarnāhu
১
مَنَازِلَমানাযিলাmanāzila
১
حَتَّىٰহাত্তাḥattā
২ফক
عَادَ‘আদা‘āda
৬ফহল্কত২ফ
كَالْعُرْجُونِকাল‘উরজূনিkal-‘urjūnil-qadīm.
হল্কত২ফও
الْقَدِيمِল কাদীম
অর্থ

আর চাঁদের জন্য আমরা বিভিন্ন পর্যায় নির্ধারণ করেছি, অবশেষে তা পুরনো খেজুরের ডালের মতো হয়ে যায়। **৪০.**

And the moon—we have determined phases for it until it returns like an old date stalk.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: عَادَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: مَنَازِلَ ، حَتَّىٰ
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: وَالْقَمَرَ ، كَالْعُرْجُونِ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَدَّرْنَاهُ ، عَادَ ، كَالْعُرْجُونِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَالْقَمَرَ ، وَالْقَمَرَ ، قَدَّرْنَاهُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَالْقَمَرَ ، قَدَّرْنَاهُ ، عَادَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: وَالْقَمَرَ ، كَالْعُرْجُونِ ، الْقَدِيمِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: وَالْقَمَرَ ، كَالْعُرْجُونِ ، الْقَدِيمِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْقَدِيمِ
৪০
১
لَا
হলজশ
الشَّمْسُলাশ শামসুLash-shamsu
ত১
يَنبَغِيইয়ামবাগীyanbaghī
৪ফ
لَهَاলাহাlahā
হ্ব
أَنআনan
কতার
تُدْرِكَতুদরিকাtudrikal-qamara
হল্কতত
الْقَمَرَল কামারা
১
وَلَاওয়াল্লাইwa
হললিফ
اللَّيْلُলুlal-laylu
১কত
سَابِقُসাবিকুন
হলগ২ফতার
النَّهَارِনাহারsābiqun-nahār;
খ
وَكُلٌّওয়া কুল্লুনwa kullun
১
فِيফীfī
দ
فَلَكٍফালাকিনfalakin
২ফও
يَسْبَحُونَইয়াসবাহূনyasbaḥūn.
অর্থ

সূর্যের পক্ষে চাঁদকে ধরে ফেলা সম্ভব নয় এবং রাতও দিনের আগে যেতে পারে না। প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে ভেসে চলছে। **৪১.**

It is not for the sun to overtake the moon, nor does the night overtake the day. Each floats in an orbit.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: فَلَكٍ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: وَكُلٌّ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: الشَّمْسُ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: النَّهَارِ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: تُدْرِكَ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: سَابِقُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَا ، يَنبَغِي ، وَلَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: لَهَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: النَّهَارِ ، يَسْبَحُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: اللَّيْلُ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَنبَغِي ، الْقَمَرَ ، الْقَمَرَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الشَّمْسُ ، اللَّيْلُ ، النَّهَارِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: لَهَا ، اللَّيْلُ ، النَّهَارِ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْقَمَرَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الشَّمْسُ ، الْقَمَرَ ، اللَّيْلُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَن
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: تُدْرِكَ ، النَّهَارِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَسْبَحُونَ
৪১
৩ফদ
وَآيَةٌওয়া আয়াতুলWa āyatun
জশ
لَّهُمْলাহুমlahum
হ্বগ১
أَنَّاআন্নাannā
১
حَمَلْنَاহামালনাḥamalnā
তারজশ
ذُرِّيَّتَهُمْযুররিয়্যাতাহুমdhurriyyatahum
১
فِيফি
হল্ক
الْفُلْكِল ফুলকি
হল্ক২ফও
الْمَشْحُونِল মাশহূনfil-fulkil-mashḥūn.
অর্থ

আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হলো, আমরা তাদের বংশধরদের বোঝাই করা নৌযানে বহন করেছি। **৪২.**

And a sign for them is that We carried their descendants in the loaded ship.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: لَّهُمْ ، ذُرِّيَّتَهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: أَنَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَنَّا ، حَمَلْنَا ، فِي
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْمَشْحُونِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَآيَةٌ ، الْمَشْحُونِ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْفُلْكِ ، الْمَشْحُونِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْفُلْكِ ، الْمَشْحُونِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَنَّا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: ذُرِّيَّتَهُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمَشْحُونِ
৪২
তকত১
وَخَلَقْنَاওয়া খালাকনাWa khalaqnā
দশ
لَهُمলাহুমlahum
গদ
مِّنমিমmim
গ
مِّثْلِهِমিছলিহিmithlihī
১
مَاমাmā
ত২ফও
يَرْكَبُونَইয়ারকাবূনyarkabūn.
অর্থ

আর তাদের জন্য এর অনুরূপ আরও অনেক বাহন সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা আরোহণ করে। **৪৩.**

And We created for them similar things upon which they ride.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: مِّن
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: لَهُم
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّن ، مِّثْلِهِ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: وَخَلَقْنَا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَخَلَقْنَا ، مَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَرْكَبُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَخَلَقْنَا ، وَخَلَقْنَا ، يَرْكَبُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَرْكَبُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَرْكَبُونَ
৪৩
হ্বদ
وَإِنওয়া ইনWa in
গহ্ব
نَّشَأْনাশা'nasha'
ততারকতজশ
نُغْرِقْهُمْনুগরিকহুমnughriqhum
১
فَلَاফালাfalā
ততার২ফত
صَرِيخَসারীখাṣarīkha
জশ
لَهُمْলাহুমlahum
১
وَلَاওয়া লাwa lā
জশ
هُمْহুমhum
ত২ফও
يُنقَذُونَইউনকাযূনyunqadhūn.
অর্থ

আর আমরা চাইলে তাদের ডুবিয়ে দিতে পারি; তখন তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী থাকবে না এবং তারা উদ্ধারও পাবে না। **৪৪.**

And if We will, We can drown them; then there will be no one to respond to their cries, nor will they be saved.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: وَإِن
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: نُغْرِقْهُمْ ، لَهُمْ ، هُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: نَّشَأْ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: نُغْرِقْهُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فَلَا ، وَلَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: صَرِيخَ ، يُنقَذُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: نُغْرِقْهُمْ ، نُغْرِقْهُمْ ، صَرِيخَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: صَرِيخَ ، يُنقَذُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَإِن ، نَّشَأْ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: نُغْرِقْهُمْ ، صَرِيخَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُنقَذُونَ
৪৪
হ্ব১
إِلَّاইল্লাIllā
তদ
رَحْمَةًরাহমাতামraḥmatam
গগ১
مِّنَّاমিন্নাminnā
১জইওফ
وَمَتَاعًاওয়া মাতাআনwa matā‘an
হ্ব১
إِلَىٰইলাilā
২ফও
حِينٍহীনḥīn.
অর্থ

তবে আমাদের পক্ষ থেকে দয়া এবং কিছু সময় পর্যন্ত জীবনোপভোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। **৪৫.**

Except by mercy from Us and enjoyment for a while.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: وَمَتَاعًا
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: رَحْمَةً
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّنَّا ، مِّنَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: إِلَّا ، مِّنَّا ، وَمَتَاعًا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: حِينٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: رَحْمَةً
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَمَتَاعًا ، حِينٍ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: وَمَتَاعًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِلَّا ، إِلَىٰ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: حِينٍ
৪৫
হ্ব১
وَإِذَاওয়া ইযাWa idhā
ত২ফ
قِيلَকীলাqīla
لَهُمُলাহুমুlahum
ত২ফ
اتَّقُواত্তাকূittaqū
১
مَاমাmā
লিফ
بَيْنَবাইনাbayna
হ্ব১জশ
أَيْدِيكُمْআইদীকুমaydīkum
১
وَمَاওয়া মাwa mā
তজশ
خَلْفَكُمْখালফাকুমkhalfakum
জশ
لَعَلَّكُمْলা‘আল্লাকুমla‘allakum
ত২ফও
تُرْحَمُونَতুরহামূনturḥamūn.
অর্থ

আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমাদের সামনে ও পেছনে যা আছে, তা থেকে বাঁচো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়।’ **৪৬.**

And when it is said to them, “Beware of what is before you and what is behind you, so that you may receive mercy.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَيْدِيكُمْ ، خَلْفَكُمْ ، لَعَلَّكُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَإِذَا ، مَا ، أَيْدِيكُمْ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قِيلَ ، اتَّقُوا ، تُرْحَمُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: بَيْنَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قِيلَ ، اتَّقُوا ، خَلْفَكُمْ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قِيلَ ، اتَّقُوا ، بَيْنَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَإِذَا ، أَيْدِيكُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تُرْحَمُونَ
৪৬
১
وَمَاওয়া মাWa mā
হ্ব১দশ
تَأْتِيهِمতা'তীহিমta'tīhim
গ
مِّنْমিনmin
ব্দফদ
آيَةٍআয়াতিমāyatim
গ
مِّنْমিনmin
ব্দফ২ফ
آيَاتِআয়াতিāyāti
তজশ
رَبِّهِمْরব্বিহিমrabbihim
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
১২ফ
كَانُواকানূkānū
জ১
عَنْهَا‘আনহা‘anhā
তারত২ফও
مُعْرِضِينَমু‘রিদীনmu‘riḍīn.
অর্থ

তাদের রবের নিদর্শনসমূহের কোনো নিদর্শনই তাদের কাছে আসে না, অথচ তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। **৪৭.**

No sign from the signs of their Lord comes to them except that they turn away from it.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: عَنْهَا
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: آيَةٍ
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: تَأْتِيهِم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: رَبِّهِمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّنْ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آيَةٍ ، آيَاتِ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَمَا ، تَأْتِيهِم ، إِلَّا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: آيَاتِ ، كَانُوا ، مُعْرِضِينَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: رَبِّهِمْ ، مُعْرِضِينَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: آيَةٍ ، آيَاتِ ، آيَاتِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: تَأْتِيهِم ، إِلَّا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: مُعْرِضِينَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُعْرِضِينَ
৪৭
হ্ব১
وَإِذَاওয়া ইযাWa idhā
ত২ফ
قِيلَকীলাqīla
জশ
لَهُمْলাহুমlahum
হ্বত২ফ
أَنفِقُواআনফিকূanfiqū
গ১
مِمَّاমিম্মাmimmā
তত
رَزَقَكُمُরাযাকাকুমুrazaqakumullāhu
হলত
اللَّهُল্লাহু
ত২ফ
قَالَকালা
হল২ফ
الَّذِينَল্লাযীনাqālalladhīna
ত২ফ
كَفَرُواকাফারূkafarū
২ফ
لِلَّذِينَলিল্লাযীনাlilladhīna
ব্দফ২ফ
آمَنُواআমানূāmanū
হ্বকত
أَنُطْعِمُআনুত‘ইমুanuṭ‘imu
দ
مَنমাman
لَّوْল্লাওlaw
৩ফহ্ব
يَشَاءُইয়াশাউyashā'ullāhu
হলত
اللَّهُল্লাহু
হ্বকত
أَطْعَمَهُআত‘আমাহুaṭ‘amahū
হ্বজ
إِنْইনin
হ্বজশ
أَنتُمْআনতুমantum
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
১
فِيফীfī
ত২ফদ
ضَلَالٍদালালিমḍalālim
গ২ফও
مُّبِينٍমুবীনmubīn.
অর্থ

আর যখন তাদের বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমাদের যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করো,’ তখন কাফিররা মুমিনদের বলে, ‘আল্লাহ চাইলে যাকে খাওয়াতে পারতেন, আমরা কি তাকে খাওয়াব? তোমরা তো সুস্পষ্ট ভ্রান্তিতে আছ।’ **৪৮.**

And when it is said to them, “Spend from what Allah has provided you,” the disbelievers say to the believers, “Should we feed those whom Allah could feed if He willed? You are only in clear error.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: إِنْ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: ضَلَالٍ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: مَن
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: لَهُمْ ، أَنتُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِمَّا ، مُّبِينٍ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: أَنُطْعِمُ ، أَطْعَمَهُ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آمَنُوا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَإِذَا ، مِمَّا ، إِلَّا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: يَشَاءُ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قِيلَ ، أَنفِقُوا ، قَالَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قِيلَ ، أَنفِقُوا ، رَزَقَكُمُ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: اللَّهُ ، الَّذِينَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قِيلَ ، أَنفِقُوا ، قَالَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: اللَّهُ ، الَّذِينَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَإِذَا ، أَنفِقُوا ، أَنُطْعِمُ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّبِينٍ
৪৮
ত১২ফ
وَيَقُولُونَওয়া ইয়াকূলূনাWa yaqūlūna
১
مَتَىٰমাতাmatā
১১
هَٰذَاহাযাhādhā
হল্কক
الْوَعْدُল ওয়া‘দুal-wa‘du
হ্ব
إِنইনin
জশ
كُنتُمْকুনতুমkuntum
ত১ত২ফও
صَادِقِينَসাদিকীনṣādiqīn.
অর্থ

আর তারা বলে, ‘তোমরা সত্যবাদী হলে এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে?’ **৪৯.**

And they say, “When is this promise, if you are truthful?”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: كُنتُمْ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: الْوَعْدُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَيَقُولُونَ ، مَتَىٰ ، هَٰذَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: وَيَقُولُونَ ، صَادِقِينَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَيَقُولُونَ ، صَادِقِينَ ، صَادِقِينَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَيَقُولُونَ ، صَادِقِينَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْوَعْدُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْوَعْدُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِن
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: صَادِقِينَ
৪৯
১
مَاমাMā
তত২ফ
يَنظُرُونَইয়ানযুরূনাyanẓurūna
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
তদ
صَيْحَةًসাইহাতাওṣayḥatan
১খ
وَاحِدَةًওয়াহিদাতানwāḥidatan
হ্বতজশ
تَأْخُذُهُمْতা'খুযুহুমta'khudhuhum
জশ
وَهُمْওয়া হুমwa hum
তত২ফও
يَخِصِّمُونَইয়াখিসসিমূনyakhiṣṣimūn.
অর্থ

তারা কেবল একটি প্রচণ্ড শব্দের অপেক্ষা করছে, যা তাদের পাকড়াও করবে যখন তারা পরস্পর বিতর্কে লিপ্ত থাকবে। **৫০.**

They are only waiting for one blast that will seize them while they are disputing.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: صَيْحَةً
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: وَاحِدَةً
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: تَأْخُذُهُمْ ، وَهُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: مَا ، إِلَّا ، وَاحِدَةً
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَنظُرُونَ ، يَخِصِّمُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَنظُرُونَ ، يَنظُرُونَ ، صَيْحَةً
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَنظُرُونَ ، يَخِصِّمُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِلَّا ، تَأْخُذُهُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَخِصِّمُونَ
৫০
১
فَلَاফালাFalā
ত১২ফ
يَسْتَطِيعُونَইয়াস্তাতী‘ূনাyastaṭī‘ūna
তদ
تَوْصِيَةًতাওসিয়াতাওtawṣiyatan
৪ফ
وَلَاওয়া লাwa lā
হ্ব৪ফ
إِلَىٰইলাilā
হ্বজশ
أَهْلِهِمْআহলিহিমahlihim
ত২ফও
يَرْجِعُونَইয়ারজি‘ূনyarji‘ūn.
অর্থ

তখন তারা কোনো ওসিয়ত করতে পারবে না এবং তাদের পরিবার-পরিজনের কাছেও ফিরে যেতে পারবে না। **৫১.**

Then they will not be able to make a will, nor will they return to their families.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: تَوْصِيَةً
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَهْلِهِمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فَلَا ، يَسْتَطِيعُونَ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: وَلَا ، إِلَىٰ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَسْتَطِيعُونَ ، يَرْجِعُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَسْتَطِيعُونَ ، تَوْصِيَةً ، يَرْجِعُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَسْتَطِيعُونَ ، وَلَا ، إِلَىٰ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِلَىٰ ، أَهْلِهِمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَرْجِعُونَ
৫১
ত
وَنُفِخَওয়া নুফিখাWa nufikha
১
فِيফিস
হলত২ফতার
الصُّورِসূরিfis-sūri
হ্ব১
فَإِذَاফাইযাfa-idhā
দশ
هُمহুমhum
গ
مِّنَমিনা
হল্কহ্বক২ফ
الْأَجْدَاثِল আজদাসিminal-ajdāthi
হ্ব১
إِلَىٰইলাilā
তজশ
رَبِّهِمْরব্বিহিমrabbihim
২ফও
يَنسِلُونَইয়ানসিলূনyansilūn.
অর্থ

আর শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে দ্রুত ছুটে আসবে। **৫২.**

And the Trumpet will be blown, and suddenly they will rush from the graves toward their Lord.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: هُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: رَبِّهِمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّنَ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: الْأَجْدَاثِ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فِي ، فَإِذَا ، إِلَىٰ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الصُّورِ ، الْأَجْدَاثِ ، يَنسِلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَنُفِخَ ، الصُّورِ ، رَبِّهِمْ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الصُّورِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الصُّورِ ، الْأَجْدَاثِ ، يَنسِلُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْأَجْدَاثِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الصُّورِ ، الْأَجْدَاثِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: فَإِذَا ، الْأَجْدَاثِ ، إِلَىٰ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: الصُّورِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَنسِلُونَ
৫২
ত১২ফ
قَالُواকালূQālū
১
يَاইয়াyā
১
وَيْلَنَاওয়াইলানাwaylanā
مَنমামman
১
بَعَثَنَاবা‘আসানাba‘athanā
দ
مِنমিমmim
গতত১
مَّرْقَدِنَاমারকাদিনাmarqadinā;
ও
ۜ
১১
هَٰذَاহাযাhādhā
১
مَاমাmā
ক
وَعَدَওয়া‘আদার
হলত২ফ
الرَّحْمَٰنُরাহমানুwa‘adar-Raḥmānu
তকত
وَصَدَقَওয়া সাদাকাwa
হল্কত২ফও
الْمُرْسَلُونَল মুরসালূনṣadaqal-mursalūn.
অর্থ

তারা বলবে, ‘হায় আমাদের দুর্ভাগ্য! কে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠিয়ে দিল?’ এটি তো পরম দয়ালু আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ছিল এবং রাসূলগণ সত্য বলেছিলেন। **৫৩.**

They will say, “Woe to us! Who has raised us from our resting place?” This is what the Most Merciful promised, and the messengers spoke the truth.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: مِن
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مَّرْقَدِنَا
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَعَدَ ، وَصَدَقَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، يَا ، وَيْلَنَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالُوا ، الرَّحْمَٰنُ ، الْمُرْسَلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَالُوا ، مَّرْقَدِنَا ، مَّرْقَدِنَا
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ
  • সাকতা (س)ও
    নিয়ম: এই চিহ্নে (ۜ) শ্বাস না ছেড়ে অল্প সময় থেমে আবার পড়া শুরু করতে হয়।
    উদাহরণ: ۜ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: قَالُوا ، الرَّحْمَٰنُ ، الْمُرْسَلُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلُونَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الرَّحْمَٰنُ ، الْمُرْسَلُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُرْسَلُونَ
৫৩
হ্ব
إِنইনIn
১
كَانَتْকানাতkānat
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
তদ
صَيْحَةًসাইহাতানṣayḥatan
১খ
وَاحِدَةًওয়াহিদাতানwāḥidatan
হ্ব১
فَإِذَاফাইযাfa-idhā
জশ
هُمْহুমhum
২ফদ
جَمِيعٌজামি‘উলjamī‘ul
১
لَّدَيْنَاলাদাইনাladaynā
তত২ফও
مُحْضَرُونَমুহদারূনmuḥḍarūn.
অর্থ

এটি হবে কেবল একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ; তখনই তাদের সবাইকে আমাদের সামনে উপস্থিত করা হবে। **৫৪.**

It will be only one blast, and suddenly they will all be brought before Us.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: صَيْحَةً
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: جَمِيعٌ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: وَاحِدَةً
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: هُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: كَانَتْ ، إِلَّا ، وَاحِدَةً
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: جَمِيعٌ ، مُحْضَرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: صَيْحَةً ، مُحْضَرُونَ ، مُحْضَرُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: جَمِيعٌ ، مُحْضَرُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِن ، إِلَّا ، فَإِذَا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُحْضَرُونَ
৫৪
৬ফহল্কলিফ
فَالْيَوْمَফালইয়াওমাFal-yawma
১
لَاলাlā
ত
تُظْلَمُতুযলামুtuẓlamu
খ
نَفْسٌনাফসুনnafsun
দইওফহ্ব
شَيْئًاশাইআওshay'aw
১
وَلَاওয়া লাwa lā
কলিফ
تُجْزَوْنَতুজযাওনাtujzawna
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
১
مَاমাmā
জশ
كُنتُمْকুনতুমkuntum
২ফও
تَعْمَلُونَতা‘মালূনta‘malūn.
অর্থ

অতএব আজ কোনো ব্যক্তির প্রতি সামান্যও জুলুম করা হবে না এবং তোমরা যা করতে, শুধু তারই প্রতিফল পাবে। **৫৫.**

So today no soul will be wronged in the least, and you will only be recompensed for what you used to do.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: شَيْئًا
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: نَفْسٌ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: كُنتُمْ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: تُجْزَوْنَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَا ، وَلَا ، إِلَّا
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: فَالْيَوْمَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تَعْمَلُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: فَالْيَوْمَ ، تُجْزَوْنَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: تُظْلَمُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: فَالْيَوْمَ ، فَالْيَوْمَ ، شَيْئًا
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: شَيْئًا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: فَالْيَوْمَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: فَالْيَوْمَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: شَيْئًا ، إِلَّا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تَعْمَلُونَ
৫৫
হ্বগ
إِنَّইন্নাInna
হ্বত২ফক
أَصْحَابَআসহাবাল
হল্কগ
الْجَنَّةِজান্নাতিলaṣḥābal-jannatil-yawma
হল্কলিফ
الْيَوْمَইয়াওমা
১
فِيফীfī
তখ
شُغُلٍশুগুলিনshughulin
১২ফও
فَاكِهُونَফাকিহূনfākihūn.
অর্থ

নিশ্চয়ই জান্নাতবাসীরা আজ আনন্দময় কাজে ব্যস্ত থাকবে। **৫৬.**

Indeed, the people of Paradise will be joyfully occupied today.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: شُغُلٍ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّ ، الْجَنَّةِ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: أَصْحَابَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فِي ، فَاكِهُونَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: أَصْحَابَ ، فَاكِهُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَصْحَابَ ، شُغُلٍ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: أَصْحَابَ ، الْيَوْمَ ، فَاكِهُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْجَنَّةِ ، الْيَوْمَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْجَنَّةِ ، الْيَوْمَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّ ، أَصْحَابَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: فَاكِهُونَ
৫৬
জশ
هُمْহুমHum
হ্ব১জশ
وَأَزْوَاجُهُمْওয়া আযওয়াজুহুমwa azwājuhum
১
فِيফীfī
ত২ফজ
ظِلَالٍযিলালিনẓilālin
১
عَلَىআলাল
হল্কহ্বত৩ফহ্ব
الْأَرَائِكِআরা-ইকি‘alal-arā'iki
হ্বব্দফও
مُتَّكِئُونَমুত্তাকিঊনmuttaki'ūn.
অর্থ

তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ ছায়ায় আসনে হেলান দিয়ে থাকবে। **৫৭.**

They and their spouses will be in shade, reclining on couches.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: ظِلَالٍ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: هُمْ ، وَأَزْوَاجُهُمْ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: مُتَّكِئُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَأَزْوَاجُهُمْ ، فِي ، عَلَى
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: الْأَرَائِكِ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: ظِلَالٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: ظِلَالٍ ، الْأَرَائِكِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: ظِلَالٍ ، الْأَرَائِكِ ، مُتَّكِئُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْأَرَائِكِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْأَرَائِكِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَأَزْوَاجُهُمْ ، الْأَرَائِكِ ، الْأَرَائِكِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُتَّكِئُونَ
৫৭
জশ
لَهُمْলাহুমLahum
১১
فِيهَاফীহাfīhā
১দ
فَاكِهَةٌফাকিহাতুওfākihatun
দশ
وَلَهُمওয়া লাহুমwa lahum
গ১
مَّاমাmā
২ফও
يَدَّعُونَইয়াদ্দা‘ূনyadda‘ūn.
অর্থ

সেখানে তাদের জন্য ফলমূল থাকবে এবং তারা যা চাইবে তা-ই পাবে। **৫৮.**

For them therein is fruit, and for them is whatever they request.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: فَاكِهَةٌ
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: وَلَهُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: لَهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فِيهَا ، فِيهَا ، فَاكِهَةٌ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَدَّعُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَدَّعُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَدَّعُونَ
৫৮
২ফখ
سَلَامٌসালামুনSalāmun
তদইওফ
قَوْلًاকাওলামqawlam
গদ
مِّنমিরmir
তদ
رَّبٍّরব্বির
ত২ফও
رَّحِيمٍরাহীমrabbir-raḥīm.
অর্থ

পরম দয়ালু রবের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি বলা হবে, ‘সালাম।’ **৫৯.**

“Peace”—a word from a Merciful Lord.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: قَوْلًا
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: مِّن ، رَّبٍّ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: سَلَامٌ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّن
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: سَلَامٌ ، رَّحِيمٍ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَوْلًا ، رَّبٍّ ، رَّحِيمٍ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: سَلَامٌ ، قَوْلًا ، رَّحِيمٍ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: قَوْلًا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: رَّحِيمٍ
৫৯
৬ফজশ১২ফ
وَامْتَازُواওয়ামতাযুলWamtāzul-yawma
হল্কলিফ
الْيَوْمَইয়াওমা
হ্ব১
أَيُّهَاআইয়ুহাল
হল্ককতার২ফও
الْمُجْرِمُونَমুজরিমূনayyuhal-mujrimūn.
অর্থ

‘হে অপরাধীরা! আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও।’ **৬০.**

“Separate yourselves today, O criminals.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: وَامْتَازُوا
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: الْمُجْرِمُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَامْتَازُوا ، أَيُّهَا
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: وَامْتَازُوا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: وَامْتَازُوا ، الْمُجْرِمُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَامْتَازُوا ، وَامْتَازُوا ، الْيَوْمَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ ، الْمُجْرِمُونَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ ، الْمُجْرِمُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَيُّهَا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: الْمُجْرِمُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْمُجْرِمُونَ
৬০
হ্বজশ
أَلَمْআলামAlam
হ্বক
أَعْهَدْআ‘হাদa‘had
হ্বজশ
إِلَيْكُمْইলাইকুমilaykum
১
يَاইয়াyā
৪ফ
بَنِيবানীbanī
ব্দফ
آدَمَআদামাĀdama
হ্বদ
أَن
১
لَّاআল্লাallā
২ফ
تَعْبُدُواতা‘বুদুশ
হলত২ফ
الشَّيْطَانَশাইতানta‘budush-shayṭān;
হ্বগ
إِنَّهُইন্নাহুinnahu
জশ
لَكُمْলাকুমlakum
দ
عَدُوٌّ‘আদুউম‘aduwwum
গ২ফও
مُّبِينٌমুবীনmubīn.
অর্থ

হে আদমসন্তান! আমি কি তোমাদের নির্দেশ দিইনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করবে না? নিশ্চয়ই সে তোমাদের সুস্পষ্ট শত্রু। **৬১.**

Did I not command you, O children of Adam, that you not worship Satan? Indeed, he is a clear enemy to you.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: عَدُوٌّ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: أَن
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَلَمْ ، إِلَيْكُمْ ، لَكُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّهُ ، مُّبِينٌ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: أَعْهَدْ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آدَمَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: يَا ، لَّا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: بَنِي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تَعْبُدُوا ، الشَّيْطَانَ ، مُّبِينٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الشَّيْطَانَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الشَّيْطَانَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: بَنِي ، آدَمَ ، تَعْبُدُوا
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الشَّيْطَانَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَلَمْ ، أَعْهَدْ ، إِلَيْكُمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّبِينٌ
৬১
হ্ব
وَأَنِওয়াWa
১১
اعْبُدُونِيআনিবুদূনীani‘budūnī
১১
هَٰذَاহাযাhādhā
তত২ফদত
صِرَاطٌসিরাতুমṣirāṭum
গত২ফও
مُّسْتَقِيمٌমুস্তাকীমmustaqīm.
অর্থ

‘আর তোমরা আমারই ইবাদত করো। এটাই সরল পথ।’ **৬২.**

And worship Me. This is the straight path.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: صِرَاطٌ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مُّسْتَقِيمٌ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: اعْبُدُونِي ، اعْبُدُونِي ، هَٰذَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: صِرَاطٌ ، مُّسْتَقِيمٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: صِرَاطٌ ، صِرَاطٌ ، صِرَاطٌ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: صِرَاطٌ ، مُّسْتَقِيمٌ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: وَأَنِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّسْتَقِيمٌ
৬২
তক
وَلَقَدْওয়া লাকাদWa laqad
হ্বত
أَضَلَّআদাল্লাaḍalla
জশ
مِنكُمْমিনকুমminkum
খইওফ
جِبِلًّاজিবিল্লানjibillan
১ইওফত
كَثِيرًاকাছীরানkathīran
হ্বজশ
أَفَلَمْআফালামafalam
১২ফ
تَكُونُواতাকূনূtakūnū
ত২ফও
تَعْقِلُونَতা‘কিলূনta‘qilūn.
অর্থ

সে তোমাদের অনেক মানুষকে পথভ্রষ্ট করেছে। তবুও কি তোমরা বুঝতে না? **৬৩.**

And he has certainly led many of you astray. Did you not use reason?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: جِبِلًّا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: مِنكُمْ ، أَفَلَمْ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَلَقَدْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: كَثِيرًا ، تَكُونُوا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تَكُونُوا ، تَعْقِلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَلَقَدْ ، أَضَلَّ ، كَثِيرًا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: جِبِلًّا ، كَثِيرًا ، تَكُونُوا
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: جِبِلًّا ، كَثِيرًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَضَلَّ ، أَفَلَمْ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تَعْقِلُونَ
৬৩
১
هَٰذِهِহাযিহিHādhihī
গ
جَهَنَّمُজাহান্নামুJahannamullatī
হল১
الَّتِيল্লাতী
জশ
كُنتُمْকুনতুমkuntum
১২ফও
تُوعَدُونَতূ‘াদূনtū‘adūn.
অর্থ

এটাই সেই জাহান্নাম, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছিল। **৬৪.**

This is the Hellfire which you were promised.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: كُنتُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: جَهَنَّمُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: هَٰذِهِ ، الَّتِي ، تُوعَدُونَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تُوعَدُونَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّتِي
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: تُوعَدُونَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّتِي
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تُوعَدُونَ
৬৪
ত১
اصْلَوْهَاইসলাওহালIṣlawhal-yawma
হল্কলিফ
الْيَوْمَইয়াওমা
১
بِمَاবিমাbimā
জশ
كُنتُمْকুনতুমkuntum
ত২ফও
تَكْفُرُونَতাকফুরূনtakfurūn.
অর্থ

আজ তোমরা এতে প্রবেশ করো, কারণ তোমরা কুফরি করতে। **৬৫.**

Enter it today because you used to disbelieve.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: كُنتُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: اصْلَوْهَا ، بِمَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تَكْفُرُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: اصْلَوْهَا ، تَكْفُرُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ ، تَكْفُرُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تَكْفُرُونَ
৬৫
হল্কলিফ
الْيَوْمَআলইয়াওমাAl-yawma
ত
نَخْتِمُনাখতিমুnakhtimu
৪ফ
عَلَىٰআলা‘alā
হ্ব১জশ
أَفْوَاهِهِمْআফওয়াহিহিমafwāhihim
৪ফ
وَتُكَلِّمُنَاওয়া তুকাল্লিমুনাwa tukallimunā
হ্ব১জশ
أَيْدِيهِمْআইদীহিমaydīhim
ক
وَتَشْهَدُওয়া তাশহাদুwa tashhadu
হ্বত
أَرْجُلُهُمআরজুলুহুমarjuluhum
১
بِمَاবিমাbimā
১২ফ
كَانُواকানূkānū
২ফও
يَكْسِبُونَইয়াকসিবূনyaksibūn.
অর্থ

আজ আমরা তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব; তাদের হাত আমাদের সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে তারা যা অর্জন করত সে সম্পর্কে। **৬৬.**

Today We will seal their mouths, while their hands will speak to Us and their feet will testify to what they used to earn.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَفْوَاهِهِمْ ، أَيْدِيهِمْ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَتَشْهَدُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَفْوَاهِهِمْ ، أَيْدِيهِمْ ، بِمَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: عَلَىٰ ، وَتُكَلِّمُنَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: كَانُوا ، يَكْسِبُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: نَخْتِمُ ، أَرْجُلُهُم
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ ، عَلَىٰ ، وَتُكَلِّمُنَا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْيَوْمَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَفْوَاهِهِمْ ، أَيْدِيهِمْ ، أَرْجُلُهُم
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَكْسِبُونَ
৬৬
وَلَوْওয়া লাওWa law
৩ফহ্ব
نَشَاءُনাশাউnashā'u
ত১
لَطَمَسْنَاলাতামাসনাlaṭamasnā
৪ফ
عَلَىٰআলা‘alā
হ্বজশ
أَعْيُنِهِمْআ‘ইউনিহিমa‘yūnihim
৬ফত২ফ
فَاسْتَبَقُواফাস্তাবাকুসfastabaqus-ṣirāṭa
হলতত২ফকত
الصِّرَاطَসিরাতা
হ্বগ১
فَأَنَّىٰফা-আন্নাfa-annā
কতত২ফও
يُبْصِرُونَইউবসিরূনyubṣirūn.
অর্থ

আর আমরা চাইলে তাদের চোখ মুছে দিতে পারতাম; তখন তারা পথের দিকে দৌড়ালেও কীভাবে দেখতে পেত? **৬৭.**

And if We willed, We could have obliterated their eyes, and they would race toward the path, but how could they see?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَعْيُنِهِمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: فَأَنَّىٰ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: يُبْصِرُونَ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: الصِّرَاطَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَطَمَسْنَا ، فَأَنَّىٰ
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: نَشَاءُ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: عَلَىٰ
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: فَاسْتَبَقُوا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: فَاسْتَبَقُوا ، الصِّرَاطَ ، يُبْصِرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: لَطَمَسْنَا ، فَاسْتَبَقُوا ، الصِّرَاطَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الصِّرَاطَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: نَشَاءُ ، عَلَىٰ ، فَاسْتَبَقُوا
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الصِّرَاطَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: نَشَاءُ ، أَعْيُنِهِمْ ، فَأَنَّىٰ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُبْصِرُونَ
৬৭
وَلَوْওয়া লাওWa law
৩ফহ্ব
نَشَاءُনাশাউnashā'u
ত১জশ
لَمَسَخْنَاهُمْলামাসাখনাহুমlamasakhnāhum
১
عَلَىٰআলা‘alā
১জশ
مَكَانَتِهِمْমাকানাতিহিমmakānatihim
১
فَمَاফামাfamastaṭā‘ū
ত১২ফ
اسْتَطَاعُواস্তাতা‘ূ
তদইওফ
مُضِيًّاমুদিয়্যানmuḍiyyan
১
وَلَاওয়া লাwa lā
ত২ফও
يَرْجِعُونَইয়ারজি‘ূনyarji‘ūn.
অর্থ

আর আমরা চাইলে তাদের নিজ স্থানেই তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে দিতে পারতাম; তখন তারা সামনে এগোতেও পারত না এবং ফিরে আসতেও পারত না। **৬৮.**

And if We willed, We could have transformed them in their places, so they could neither proceed nor return.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: مُضِيًّا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: لَمَسَخْنَاهُمْ ، مَكَانَتِهِمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَمَسَخْنَاهُمْ ، عَلَىٰ ، مَكَانَتِهِمْ
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: نَشَاءُ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: اسْتَطَاعُوا ، يَرْجِعُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: لَمَسَخْنَاهُمْ ، اسْتَطَاعُوا ، مُضِيًّا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: نَشَاءُ ، اسْتَطَاعُوا ، مُضِيًّا
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: مُضِيًّا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: نَشَاءُ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَرْجِعُونَ
৬৮
দ
وَمَنওয়া মানWa man
গগতার
نُّعَمِّرْهُনু‘আম্মিরহুnu‘ammirhu
نُنَكِّسْهُনুনাক্কিসহুnunakkishu
১
فِيফি
হল্কতকত
الْخَلْقِল খালকfil-khalq;
হ্ব১
أَفَلَاআফালাafalā
ত২ফও
يَعْقِلُونَইয়া‘কিলূনya‘qilūn.
অর্থ

আর যাকে আমরা দীর্ঘ জীবন দিই, তাকে সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল করে দিই। তবুও কি তারা বোঝে না? **৬৯.**

And whoever We grant long life, We reverse him in creation. Will they not then understand?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: وَمَن
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: نُّعَمِّرْهُ ، نُّعَمِّرْهُ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: الْخَلْقِ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فِي ، أَفَلَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَعْقِلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الْخَلْقِ ، الْخَلْقِ ، يَعْقِلُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَعْقِلُونَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْخَلْقِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْخَلْقِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَفَلَا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: نُّعَمِّرْهُ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَعْقِلُونَ
৬৯
১
وَمَاওয়া মাWa mā
জশ২ফ
عَلَّمْنَاهُআল্লামনাহুশ‘allamnāhush-shi‘ra
হলত
الشِّعْرَশি‘রা
১
وَمَاওয়া মাwa mā
ত১
يَنبَغِيইয়ামবাগীyanbaghī
لَهُলাহুlah;
হ্বজ
إِنْইনin
هُوَহুয়াhuwa
হ্ব১
إِلَّاইল্লাillā
ত
ذِكْرٌযিকরুওdhikrun
তত৩ফদ
وَقُرْآنٌওয়া কুরআনুমwa qur'ānum
গ২ফও
مُّبِينٌমুবীনmubīn.
অর্থ

আর আমরা তাকে কবিতা শিক্ষা দিইনি এবং তা তার জন্য শোভনও নয়। এটি তো কেবল উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন। **৭০.**

We have not taught him poetry, nor is it suitable for him. This is only a reminder and a clear Qur'an.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: إِنْ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: وَقُرْآنٌ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: عَلَّمْنَاهُ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مُّبِينٌ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَمَا ، يَنبَغِي ، إِلَّا
  • মাদ্দে মুত্তাসিল৩
    নিয়ম: একই শব্দের ভেতরে মাদের হরফের পর হামযাহ এলে একে মাদ্দে মুত্তাসিল (সংযুক্ত মাদ) বলে।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি একমত যে এখানে মাদ আসলীর চেয়ে বেশি টানতে হবে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৪ থেকে ৫ আলিফের মতো টান (উস্তাদ অনুযায়ী মাত্রা ঠিক হয়)। পুরো তিলাওয়াতে একই পরিমাণ রাখাই নিয়ম।
    উদাহরণ: جَاءَ، السَّمَاءِ، سُوءٌ।
    উদাহরণ: وَقُرْآنٌ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: عَلَّمْنَاهُ ، مُّبِينٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الشِّعْرَ ، يَنبَغِي ، ذِكْرٌ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الشِّعْرَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: عَلَّمْنَاهُ ، وَقُرْآنٌ ، مُّبِينٌ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الشِّعْرَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنْ ، إِلَّا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّبِينٌ
৭০
ত
لِيُنذِرَলিইউনযিরাLiyundhira
مَنমানman
২ফ
كَانَকানাkāna
দইওফ
حَيًّاহাইয়াওḥayyan
ত
وَيَحِقَّওয়া ইয়াহিক্কাwa
হল্কতলিফ
الْقَوْلُল কাওলুyaḥiqqal-qawlu
১
عَلَىআলাল
হল্ক১তার২ফও
الْكَافِرِينَকাফিরীন‘alal-kāfirīn.
অর্থ

যাতে এটি জীবিত হৃদয়ের মানুষকে সতর্ক করতে পারে এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত সত্য প্রমাণিত হয়। **৭১.**

So that it may warn whoever is alive and establish the word against the disbelievers.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: حَيًّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: عَلَى ، الْكَافِرِينَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: كَانَ ، الْكَافِرِينَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: لِيُنذِرَ ، وَيَحِقَّ ، الْقَوْلُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: كَانَ ، حَيًّا ، الْقَوْلُ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: حَيًّا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ ، الْكَافِرِينَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْقَوْلُ ، الْكَافِرِينَ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: الْكَافِرِينَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْكَافِرِينَ
৭১
হ্বজশ
أَوَلَمْআওয়ালামAwalam
তলিফ
يَرَوْاইয়ারাওyaraw
হ্বগ১
أَنَّاআন্নাannā
তকত১
خَلَقْنَاখালাকনাkhalaqnā
দশ
لَهُمলাহুমlahum
গগ১
مِّمَّاমিম্মাmimmā
عَمِلَتْ‘আমিলাত‘amilat
হ্ব১৪ফ
أَيْدِينَاআইদীনাaydīnā
হ্বজ১খইওফ
أَنْعَامًاআন‘আমানan‘āman
জশ
فَهُمْফাহুমfahum
১
لَهَاলাহাlahā
১২ফও
مَالِكُونَমালিকূনmālikūn.
অর্থ

তারা কি দেখে না যে, আমাদের হাতের সৃষ্টি থেকে আমরা তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, আর তারা সেগুলোর মালিক? **৭২.**

Have they not seen that We created for them livestock from what Our hands have made, and they own them?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: أَنْعَامًا
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: أَنْعَامًا
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: لَهُم
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَوَلَمْ ، فَهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: أَنَّا ، مِّمَّا ، مِّمَّا
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: خَلَقْنَا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَنَّا ، خَلَقْنَا ، مِّمَّا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: أَيْدِينَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: مَالِكُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: يَرَوْا
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَرَوْا ، خَلَقْنَا ، خَلَقْنَا
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَرَوْا ، أَيْدِينَا ، أَنْعَامًا
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: أَنْعَامًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَوَلَمْ ، أَنَّا ، أَيْدِينَا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مَالِكُونَ
৭২
১১
وَذَلَّلْنَاهَاওয়া যাল্লালনাহাWa dhallalnāhā
জশ
لَهُمْলাহুমlahum
জ১
فَمِنْهَاফামিনহাfaminhā
ত১জশ
رَكُوبُهُمْরাকূবুহুমrakūbuhum
জ১
وَمِنْهَاওয়া মিনহাwa minhā
হ্ব২ফও
يَأْكُلُونَইয়াকুলূনya'kulūn.
অর্থ

আর আমরা সেগুলোকে তাদের জন্য বশীভূত করেছি; কিছু তাদের বাহন এবং কিছু তারা খায়। **৭৩.**

And We subjected them to them; some of them they ride and some of them they eat.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: فَمِنْهَا ، وَمِنْهَا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: لَهُمْ ، رَكُوبُهُمْ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: وَذَلَّلْنَاهَا ، وَذَلَّلْنَاهَا ، فَمِنْهَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَأْكُلُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: رَكُوبُهُمْ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَأْكُلُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: يَأْكُلُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَأْكُلُونَ
৭৩
জশ
وَلَهُمْওয়া লাহুমWa lahum
১১
فِيهَاফীহাfīhā
১
مَنَافِعُমানাফি‘উmanāfi‘u
১তারক
وَمَشَارِبُওয়া মাশারিবwa mashārib;
হ্ব১
أَفَلَاআফালাafalā
ত২ফও
يَشْكُرُونَইয়াশকুরূনyashkurūn.
অর্থ

আর তাদের জন্য তাতে রয়েছে নানা উপকার এবং পানীয়। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞ হবে না? **৭৪.**

And for them therein are benefits and drinks. Will they not then be grateful?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: وَلَهُمْ
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَمَشَارِبُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فِيهَا ، فِيهَا ، مَنَافِعُ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَشْكُرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَشْكُرُونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَشْكُرُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَفَلَا
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: وَمَشَارِبُ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يَشْكُرُونَ
৭৪
৬ফত২ফ
وَاتَّخَذُواওয়াত্তাখাযূWattakhadhū
مِنমিনmin
২ফ
دُونِদুনিdūnillāhi
হলতার
اللَّهِল্লাহি
ব্দফদ
آلِهَةًআলিহাতালālihatan
জশ
لَّعَلَّهُمْলা‘আল্লাহুমla‘allahum
তত২ফও
يُنصَرُونَইউনসারূনyunṣarūn.
অর্থ

আর তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে উপাস্য গ্রহণ করেছে, যাতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়। **৭৫.**

Yet they have taken gods besides Allah, hoping that they might be helped.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া)দ
    নিয়ম: নূন সাকিন বা তানবীনের পর ل বা ر এলে নূনকে পুরোপুরি মিলিয়ে পরের হরফকে তাশদীদসহ পড়তে হয়, এখানে কোনো গুন্নাহ থাকে না।
    হরফ: ل ر।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের আওয়াজ পুরোপুরি বাদ যায়, নাকের আওয়াজও হয় না। উদাহরণ: مِن رَّبِّهِمْ → "মির রাব্বিহিম"।
    মনে রাখুন: ইদগামে মাআল গুন্নাহ ও বিলা গুন্নাহর পার্থক্য শুধু গুন্নাহতে। বিলা গুন্নাহতে আওয়াজ নাক ছাড়া মুখ দিয়ে বের হয়।
    উদাহরণ: آلِهَةً
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: لَّعَلَّهُمْ
  • মাদ্দে বদলব্দ
    নিয়ম: হামযার পর মাদ্দের হরফ এলে (হামযাহ আগে, মাদ পরে) একে মাদ্দে বদল বলে। এখানে হামযাহের বদলে মাদের হরফ বসে আছে বলে এই নাম।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত (মাদ্দে আসলীর সমান)। এখানে হামযাহ আগে থাকায় মাদটি ফারঈ হয় না।
    উদাহরণ: آمَنُوا (মূলে أَأْمَنُوا), أُوتُوا، إِيمَانًا।
    পার্থক্য: হামযাহ মাদের পর হলে মুত্তাসিল বা মুনফাসিল, আর হামযাহ মাদের আগে হলে বদল।
    উদাহরণ: آلِهَةً
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: وَاتَّخَذُوا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: وَاتَّخَذُوا ، دُونِ ، يُنصَرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَاتَّخَذُوا ، يُنصَرُونَ ، يُنصَرُونَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: اللَّهِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: وَاتَّخَذُوا ، وَاتَّخَذُوا ، دُونِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: اللَّهِ
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: اللَّهِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُنصَرُونَ
৭৫
১
لَاলাLā
ত১২ফ
يَسْتَطِيعُونَইয়াস্তাতী‘ূনাyastaṭī‘ūna
ততজশ
نَصْرَهُمْনাসরাহুমnaṣrahum
জশ
وَهُمْওয়া হুমwa hum
জশ
لَهُمْলাহুমlahum
দ
جُندٌজুনদুমjundum
গতত২ফও
مُّحْضَرُونَমুহদারূনmuḥḍarūn.
অর্থ

তারা তাদের সাহায্য করতে সক্ষম নয়; অথচ তারা তাদের জন্য উপস্থিত সৈন্যসদৃশ। **৭৬.**

They cannot help them, although they are present as troops for them.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: جُندٌ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: نَصْرَهُمْ ، وَهُمْ ، لَهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مُّحْضَرُونَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَا ، يَسْتَطِيعُونَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يَسْتَطِيعُونَ ، مُّحْضَرُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَسْتَطِيعُونَ ، نَصْرَهُمْ ، نَصْرَهُمْ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يَسْتَطِيعُونَ ، مُّحْضَرُونَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّحْضَرُونَ
৭৬
১
فَلَاফালাFalā
يَحْزُنكَইয়াহযুনকাyaḥzunka
তজশ
قَوْلُهُمْকাওলুহুমqawluhum;
হ্বগ১
إِنَّاইন্নাinnā
نَعْلَمُনা‘লামুna‘lamu
১
مَاমাmā
ত২ফ
يُسِرُّونَইউসিররূনাyusirrūna
১
وَمَاওয়া মাwa mā
২ফও
يُعْلِنُونَইউ‘লিনূনyu‘linūn.
অর্থ

অতএব তাদের কথা যেন আপনাকে দুঃখিত না করে। তারা যা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে, আমরা অবশ্যই তা জানি। **৭৭.**

So let not their words grieve you. Indeed, We know what they conceal and what they reveal.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: قَوْلُهُمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّا
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: فَلَا ، إِنَّا ، مَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: يُسِرُّونَ ، يُعْلِنُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قَوْلُهُمْ ، يُسِرُّونَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: يُسِرُّونَ ، يُعْلِنُونَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: يُعْلِنُونَ
৭৭
হ্বজশ
أَوَلَمْআওয়ালামAwalam
ত
يَرَইয়ারাল
হল্কহ্ব২ফ
الْإِنسَانُইনসানুyaral-insānu
হ্বগ১
أَنَّاআন্নাannā
তকত২ফ
خَلَقْنَاهُখালাকনাহুkhalaqnāhu
দ
مِنমিনmin
গকতখ
نُّطْفَةٍনুতফাতিনnuṭfatin
হ্ব১
فَإِذَاফাইযাfa-idhā
هُوَহুয়াhuwa
তত২ফদ
خَصِيمٌখাসীমুমkhaṣīmum
গ২ফও
مُّبِينٌমুবীনmubīn.
অর্থ

মানুষ কি দেখে না যে, আমরা তাকে এক ফোঁটা বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছি? অথচ সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে যায়। **৭৮.**

Does man not see that We created him from a sperm-drop, yet suddenly he becomes a clear adversary?

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: مِن ، خَصِيمٌ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইখফাখ
    নিয়ম: ইখফা মানে গোপন করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ১৫টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে না ইজহার, না ইদগাম, মাঝামাঝিভাবে গোপন করে গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ت ث ج د ذ ز س ش ص ض ط ظ ف ق ك।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বা নূনের মাখরাজে লাগবে না, বরং পরের হরফের মাখরাজের কাছাকাছি থাকবে। গুন্নাহ ২ হরকত পরিমাণ। ص ض ط ظ ق এই ৫টি মোটা হরফের আগে গুন্নাহ মোটা (তাফখীম), বাকিগুলোর আগে চিকন হবে।
    উদাহরণ: مِن قَبْلُ، أَنتُمْ।
    উদাহরণ: نُّطْفَةٍ
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَوَلَمْ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: أَنَّا ، نُّطْفَةٍ ، مُّبِينٌ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: خَلَقْنَاهُ ، نُّطْفَةٍ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: أَنَّا ، فَإِذَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: الْإِنسَانُ ، خَلَقْنَاهُ ، خَصِيمٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: يَرَ ، خَلَقْنَاهُ ، خَلَقْنَاهُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الْإِنسَانُ ، خَلَقْنَاهُ ، خَصِيمٌ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْإِنسَانُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْإِنسَانُ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَوَلَمْ ، الْإِنسَانُ ، أَنَّا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: مُّبِينٌ
৭৮
ততক
وَضَرَبَওয়া দারাবাWa ḍaraba
১
لَنَاলানাlanā
দইওফ
مَثَلًاমাসালাওmathalan
وَنَسِيَওয়া নাসিয়াwa nasiya
তত
خَلْقَهُখালকাহুkhalqah;
ত২ফ
قَالَকালাqāla
مَنমাইmay
১
يُحْيِيইউহইয়িyuḥyil-‘iẓāma
হল্কত২ফ
الْعِظَامَল ‘ইযামা
وَهِيَওয়া হিয়াwa hiya
ত২ফও
رَمِيمٌরামীমramīm.
অর্থ

সে আমাদের সম্পর্কে দৃষ্টান্ত পেশ করে এবং নিজের সৃষ্টির কথা ভুলে যায়। সে বলে, ‘হাড়গুলো যখন পচে যাবে, তখন কে সেগুলো জীবিত করবে?’ **৭৯.**

And he presents an example to Us while forgetting his own creation. He says, “Who will give life to bones when they are decayed?”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: مَثَلًا
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: وَضَرَبَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: لَنَا ، يُحْيِي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: قَالَ ، الْعِظَامَ ، رَمِيمٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: وَضَرَبَ ، وَضَرَبَ ، خَلْقَهُ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: مَثَلًا ، قَالَ ، الْعِظَامَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: مَثَلًا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْعِظَامَ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الْعِظَامَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: رَمِيمٌ
৭৯
ত
قُلْকুলQul
১১
يُحْيِيهَاইউহইহাyuḥyīhā
হল৪ফ
الَّذِيল্লাযীalladhī
হ্বহ্ব৪ফ
أَنشَأَهَاআনশাআহাansha'ahā
হ্ব
أَوَّلَআওয়ালাawwala
তদ
مَرَّةٍমাররাতিওmarratin
وَهُوَওয়া হুয়াwa huwa
بِكُلِّবিকুল্লিbikulli
তজত
خَلْقٍখালকিনkhalqin
২ফও
عَلِيمٌআলীম‘alīm.
অর্থ

বলুন, ‘যিনি প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন, তিনিই এগুলোকে জীবিত করবেন। আর তিনি সব সৃষ্টি সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।’ **৮০.**

Say, “The One who created them the first time will give them life, and He is Knowing of all creation.”

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: خَلْقٍ
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: مَرَّةٍ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: يُحْيِيهَا ، يُحْيِيهَا
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: الَّذِي ، أَنشَأَهَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: عَلِيمٌ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: قُلْ ، مَرَّةٍ ، خَلْقٍ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: الَّذِي ، أَنشَأَهَا ، عَلِيمٌ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَنشَأَهَا ، أَنشَأَهَا ، أَوَّلَ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: عَلِيمٌ
৮০
হল১
الَّذِيআল্লাযীAlladhī
جَعَلَজা‘আলাja‘ala
দশ
لَكُمলাকুমlakum
গ
مِّنَমিনাশ
হলতার
الشَّجَرِশাজারিল
হল্কহ্বতততার
الْأَخْضَرِআখদারিminash-shajaril-akhdari
১ইওফত
نَارًاনারানnāran
হ্ব৪ফ
فَإِذَاফাইযাfa-idhā
হ্বদশ
أَنتُمআনতুমantum
গজ
مِّنْهُমিনহুminhu
১ত২ফও
تُوقِدُونَতূকিদূনtūqidūn.
অর্থ

যিনি তোমাদের জন্য সবুজ গাছ থেকে আগুন সৃষ্টি করেছেন; আর তোমরা তা থেকে আগুন প্রজ্বলিত করো। **৮১.**

He is the One who produced fire for you from the green tree, and from it you kindle.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: مِّنْهُ
  • মীম সাকিনের ইদগামে শাফাওয়ীদশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর আরেকটি م (মীম) এলে দুই মীমকে মিলিয়ে একটি তাশদীদযুক্ত মীমের মতো গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগামে শাফাওয়ী বা ইদগামে মিছলাইন সগীর বলা হয়।
    হরফ: কেবল م।
    পড়ার পদ্ধতি: প্রথম মীম দ্বিতীয় মীমের মধ্যে ঢুকে যায়, ঠোঁট একবার বন্ধ হয়ে ২ হরকত গুন্নাহ হয়। উদাহরণ: لَهُم مَّا → "লাহুম্মা"।
    উদাহরণ: لَكُم ، أَنتُم
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: مِّنَ ، مِّنْهُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: الَّذِي ، نَارًا ، تُوقِدُونَ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: فَإِذَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: تُوقِدُونَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: الْأَخْضَرِ ، الْأَخْضَرِ ، نَارًا
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي ، الشَّجَرِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: نَارًا ، فَإِذَا ، تُوقِدُونَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: نَارًا
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: الْأَخْضَرِ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي ، الشَّجَرِ ، الْأَخْضَرِ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: الْأَخْضَرِ ، فَإِذَا ، أَنتُم
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: الشَّجَرِ ، الْأَخْضَرِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تُوقِدُونَ
৮১
হ্বলিফ
أَوَلَيْسَআওয়ালাইসাAwalaysalladhī
হল১
الَّذِيল্লাযী
তকত
خَلَقَখালাকাস
হল১২ফ
السَّمَاوَاتِসামাওয়াতিkhalaqas-samāwāti
৬ফহল্কহ্বতত
وَالْأَرْضَওয়াল আরদাwal-arḍa
ত১তার
بِقَادِرٍবিকাদিরিনbiqādirin
৪ফ
عَلَىٰআলা‘alā
হ্ব
أَنআইay
তকত
يَخْلُقَইয়াখলুকাyakhluqa
مِثْلَهُمমিসলাহুমmithlahum?
১
بَلَىٰবালাBalā
وَهُوَওয়া হুয়াwa
হল্কত২ফকত
الْخَلَّاقُল খাল্লাকুলhuwal-khallāqul-‘Alīm.
হল্ক২ফও
الْعَلِيمُআলীম
অর্থ

যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? অবশ্যই সক্ষম। আর তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। **৮২.**

Is not the One who created the heavens and the earth able to create the likes of them? Yes indeed, and He is the Supreme Creator, the All-Knowing.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: خَلَقَ ، يَخْلُقَ ، الْخَلَّاقُ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: الَّذِي ، السَّمَاوَاتِ ، بِقَادِرٍ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: عَلَىٰ
  • মাদ্দে লাযিম৬
    নিয়ম: মাদের হরফের পর স্থায়ী সুকুন বা তাশদীদ থাকলে একে মাদ্দে লাযিম (আবশ্যিক মাদ) বলে। এটিই সবচেয়ে লম্বা মাদ।
    হুকুম: ওয়াজিব, সব কারি এর টান সমান পরিমাণ করেন।
    পরিমাণ: ৬ হরকত (৩ আলিফ), ওয়াকফ বা ওয়াসল, সব অবস্থায় একই।
    প্রকার: শব্দের ভেতরে তাশদীদ বা সুকুন থাকলে কালিমী, হুরূফে মুক্বাত্ত্বাআতে থাকলে হারফী।
    উদাহরণ: الضَّالِّينَ، الْحَاقَّةُ، الم।
    উদাহরণ: وَالْأَرْضَ
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: السَّمَاوَاتِ ، الْخَلَّاقُ ، الْعَلِيمُ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: أَوَلَيْسَ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: خَلَقَ ، خَلَقَ ، وَالْأَرْضَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي ، السَّمَاوَاتِ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: أَوَلَيْسَ ، السَّمَاوَاتِ ، وَالْأَرْضَ
  • লামে কামারিয়্যাহল্ক
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি চন্দ্র-হরফের কোনোটি এলে লামকে স্পষ্ট উচ্চারণ করতে হয়। একে লামে কামারিয়্যাহ বলে।
    চন্দ্র-হরফ: ا ب ج ح خ ع غ ف ق ك م ه و ي।
    পড়ার পদ্ধতি: الْقَمَرُ → "আল-কামারু" (লাম পরিষ্কার শোনা যাবে)। লামের ওপর সুকুন থাকে।
    মনে রাখার উপায়: চন্দ্র-হরফের আগের লাম চাঁদের মতো স্পষ্ট দেখা যায়, সূর্যের আগের লাম ঢাকা পড়ে যায়।
    উদাহরণ: وَالْأَرْضَ ، الْخَلَّاقُ ، الْعَلِيمُ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي ، السَّمَاوَاتِ ، وَالْأَرْضَ
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: أَوَلَيْسَ ، وَالْأَرْضَ ، أَن
  • তারকীকতার
    নিয়ম: তারকীক মানে চিকন বা হালকা করে পড়া। এই অবস্থায় আওয়াজ মুখের সামনের দিকে থাকে এবং ভারী হয় না।
    যেখানে হয়: ইস্তি‘লা ছাড়া বাকি হরফ সাধারণত চিকন পড়তে হয়। এছাড়া যেরযুক্ত র (ر) এবং যেরের পর আল্লাহ শব্দের লামও চিকন হয়।
    পড়ার পদ্ধতি: জিহ্বার গোড়া নিচে রেখে হালকাভাবে পড়তে হবে। উদাহরণ: رِزْقًا، بِسْمِ اللَّهِ।
    উদাহরণ: بِقَادِرٍ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: الْعَلِيمُ
৮২
হ্বগ৪ফ
إِنَّمَاইন্নামাInnamā
হ্বজশত
أَمْرُهُআমরুহুamruhū
হ্ব৪ফ
إِذَاইযাidhā
হ্বত২ফক
أَرَادَআরাদাarāda
জইওফহ্ব
شَيْئًاশাইআনshay'an
হ্ব
أَنআইay
ত২ফ
يَقُولَইয়াকূলাyaqūla
لَهُলাহুlahū
كُنকুনkun
২ফও
فَيَكُونُফায়াকূনfa-yakūn.
অর্থ

তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর আদেশ শুধু এই যে, তিনি বলেন, ‘হও’, আর তা হয়ে যায়। **৮৩.**

His command is only that when He intends a thing, He says to it, “Be,” and it is.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইযহারজ
    নিয়ম: ইজহার মানে স্পষ্ট করা। নূন সাকিন বা তানবীনের পর কণ্ঠনালীর ৬টি হরফের যেকোনো একটি এলে নূনকে নিজের মাখরাজ থেকে পরিষ্কার উচ্চারণ করতে হয়।
    হরফ: ء ه ع ح غ خ (কণ্ঠনালীর হরফ)।
    কেন: নূনের মাখরাজ (জিহ্বার অগ্রভাগ) আর এই হরফগুলোর মাখরাজ (কণ্ঠ) অনেক দূরে, তাই মিলে যাওয়া বা গোপন হওয়া সম্ভব নয়।
    পড়ার পদ্ধতি: গুন্নাহ ছাড়া, নূনের আওয়াজ ঠিকঠাক বের করে সঙ্গে সঙ্গে পরের হরফে যেতে হবে।
    উদাহরণ: شَيْئًا
  • মীম সাকিনের ইযহারে শাফাওয়ীজশ
    নিয়ম: মীম সাকিনের পর ب ও م ছাড়া যেকোনো হরফ এলে মীম সাকিনকে ঠোঁট থেকে স্পষ্ট করে, গুন্নাহ ছাড়া পড়তে হয়। একে ইজহারে শাফাওয়ী বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: ঠোঁট বন্ধ করে মীম পরিষ্কার উচ্চারণ করে সাথে সাথে পরের হরফে যেতে হবে, নাকের আওয়াজ টানা যাবে না।
    বিশেষ সতর্কতা: মীমের পর و বা ف এলে মীমকে আরও ভালো করে স্পষ্ট করতে হবে, যাতে ইখফার সাথে গুলিয়ে না যায়। উদাহরণ: هُمْ فِيهَا، أَنتُمْ وَ।
    উদাহরণ: أَمْرُهُ
  • নূন ও মীম মুশাদ্দাদে গুন্নাহগ
    নিয়ম: নূন বা মীমে তাশদীদ থাকলে নাকের ভেতর দিয়ে বের হওয়া মিষ্টি আওয়াজকে গুন্নাহ বলে। এটি এখানে ওয়াজিব।
    হরফ: نّ ও مّ।
    পরিমাণ: ২ হরকত, অর্থাৎ ১ আলিফ পরিমাণ।
    পড়ার পদ্ধতি: আওয়াজ নাকের ভেতর দিয়ে বের হবে, তবে সেটা খুব লম্বা বা খুব ছোট করা যাবে না। উদাহরণ: إِنَّ، ثُمَّ।
    উদাহরণ: إِنَّمَا
  • ক্বলকলাহ (কুবরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের হরফ যখন ওয়াকফের কারণে শেষ হরফে সাকিন হয়, তখন বেশি জোরে প্রতিধ্বনি করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে কুবরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: শেষ হরফ ق ط ب ج د-এর কোনোটি হলে এবং সেখানে থামলে ঝংকার সবচেয়ে স্পষ্ট হয়। শেষ হরফে তাশদীদ থাকলে এই ঝংকার আরও জোরালো হয়।
    উদাহরণ: الْفَلَقِ، أَحَدْ।
    উদাহরণ: أَرَادَ
  • মাদ্দে মুনফাসিল৪
    নিয়ম: মাদের হরফ এক শব্দের শেষে এবং হামযাহ পরের শব্দের শুরুতে এলে একে মাদ্দে মুনফাসিল (বিচ্ছিন্ন মাদ) বলে।
    হুকুম: জায়েয, কারণ মাদ আর হামযাহ আলাদা শব্দে আছে।
    পরিমাণ: সাধারণত ৩ থেকে ৪ আলিফের মতো টান, মুত্তাসিলের সমান বা একটু কম। তবে একই তিলাওয়াতে একই মাত্রা ধরে রাখতে হবে।
    উদাহরণ: فِي أَنفُسِكُمْ، بِمَا أُنزِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّمَا ، إِذَا
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: أَرَادَ ، يَقُولَ ، فَيَكُونُ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: أَمْرُهُ ، أَرَادَ ، يَقُولَ
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: إِنَّمَا ، إِذَا ، أَرَادَ
  • মাদ্দে ইওয়াদইও
    নিয়ম: ওয়াকফের সময় দুই যবরকে আলিফ হিসেবে পড়ে ১ আলিফ টানাকে মাদ্দে ইওয়াদ বলে। ইওয়াদ মানে বদল, অর্থাৎ তানবীনের বদলে আলিফ।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    পড়ার পদ্ধতি: عَلِيمًا → ওয়াকফে "আলীমা"। যে শব্দের শেষে গোল তা (ة) আছে, সেখানে তানবীনের আলিফ না পড়ে সাকিন ه-এর মতো পড়া হয় (رَحْمَةً → "রাহমাহ")।
    দুই পেশ বা দুই যের: ওয়াকফে সরাসরি সাকিন হয়ে যায়, টান হয় না।
    উদাহরণ: شَيْئًا
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: إِنَّمَا ، أَمْرُهُ ، إِذَا
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: فَيَكُونُ
৮৩
ক২ফ
فَسُبْحَانَফাসুবহানাFa-subḥānalladhī
হল১
الَّذِيল্লাযী
بِيَدِهِবিইয়াদিহিbiyadihī
২ফ
مَلَكُوتُমালাকূতুmalakūtu
كُلِّকুল্লিkulli
লিফদহ্ব
شَيْءٍশাইইওshay'iw
হ্বলিফ
وَإِلَيْهِওয়া ইলাইহিwa ilayhi
ত২ফও
تُرْجَعُونَতুরজা‘উনturja‘ūn.
অর্থ

অতএব পবিত্র ও মহিমান্বিত তিনি, যার হাতে সবকিছুর রাজত্ব; আর তাঁর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

So glory be to the One in whose hand is the dominion of everything, and to Him you will be returned.

📖 তাজবীদ বিস্তারিত ব্যাখ্যা (যেকোনো সারিতে ক্লিক করলে ওই ব্যাজে নিয়ে যাবে)
  • নূন সাকিন ও তানভীনের ইদগাম (গুন্নাহ সহ)দ
    নিয়ম: ইদগাম মানে মিলিয়ে দেওয়া। নূন সাকিন বা তানবীনের পর ي ن م و (ইয়ানমূ) এলে নূনের আওয়াজ আলাদা না রেখে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    হরফ: ي ن م و।
    পড়ার পদ্ধতি: নূন বা তানবীনের উচ্চারণ থাকে না, তবে নাক দিয়ে গুন্নাহ (২ হরকত পরিমাণ) থাকে। উদাহরণ: مِن وَالٍ → "মিওঁওয়ালিন" এর মতো।
    ব্যতিক্রম: একই শব্দে নূন সাকিনের পর و বা ي এলে (যেমন دُنْيَا، صِنْوَانٌ، قِنْوَانٌ، بُنْيَانٌ) ইদগাম হয় না, ইজহার হয়; একে ইজহারে মুতলাক বলে।
    উদাহরণ: شَيْءٍ
  • ক্বলকলাহ (সুগরা)ক
    নিয়ম: কলকলাহের ৫টি হরফ ق ط ب ج د (কুতবু জাদ) যখন শব্দের মাঝে সাকিন হয়, তখন সামান্য প্রতিধ্বনির মতো আওয়াজ করে পড়তে হয়। একে কলকলায়ে সুগরা বলে।
    পড়ার পদ্ধতি: হরফটি সাকিন হওয়ায় আওয়াজ আটকে যাওয়ার কথা, কিন্তু আটকানো মুহূর্তে মাখরাজ ছেড়ে দিলে একটি ছোট ঝংকারের মতো আওয়াজ বের হয়। এই আওয়াজ আলাদা কোনো হরকত নয়, তাই খুব বেশি করা যাবে না।
    উদাহরণ: يَجْعَلُونَ، يَقْطَعُونَ।
    উদাহরণ: فَسُبْحَانَ
  • মাদ্দে আসলী১
    নিয়ম: মাদ্দে আসলী বা মাদ্দে তাবঈ হলো সবচেয়ে মৌলিক টান। এখানে মাদের হরফের পর হামযাহ বা সাকিন কিছুই থাকে না, তাই স্বাভাবিক পরিমাণে টানা হয়।
    মাদের হরফ ৩টি: যবরের পর সাকিন আলিফ (ا), পেশের পর সাকিন ওয়াও (و), যেরের পর সাকিন ইয়া (ي)। খাড়া যবর, খাড়া যের ও উল্টা পেশও এর অন্তর্ভুক্ত।
    পরিমাণ: ১ আলিফ বা ২ হরকত।
    উদাহরণ: قَالَ، يَقُولُ، قِيلَ।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • মাদ্দে আরিয লিসসুকূন২
    নিয়ম: মাদের হরফের পর শেষ হরফে ওয়াকফের কারণে সাকিন তৈরি হলে একে মাদ্দে আরিয লিসসুকূন বলে। এই সুকুন স্থায়ী নয়, তাই মাদটি জরুরি নয়, শুধু ওয়াকফের সময় ঘটে।
    হুকুম: জায়েয, কেবল থামলে হয়, মিলিয়ে পড়লে হয় না।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, এর মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিয়ে পুরো তিলাওয়াতে সমান রাখতে হয়।
    উদাহরণ: الرَّحِيمْ، يُؤْمِنُونْ।
    উদাহরণ: فَسُبْحَانَ ، مَلَكُوتُ ، تُرْجَعُونَ
  • মাদ্দে লীনলি
    নিয়ম: ওয়াও বা ইয়া সাকিন হলে এবং তার আগের হরফে যবর থাকলে একে লীনের হরফ (নরম হরফ) বলে। ওয়াকফের সময় শেষ হরফে সুকুন তৈরি হলে এ থেকে মাদ্দে লীন হয়।
    পরিমাণ: ২, ৪ বা ৬ হরকত, যেকোনো একটি।
    পড়ার পদ্ধতি: নরমভাবে, কোনো ঝটকা ছাড়াই আওয়াজ টেনে নিতে হবে। উদাহরণ: خَوْفْ، الْبَيْتْ।
    মনে রাখুন: মিলিয়ে পড়লে টান হবে না, শুধু ওয়াকফে হবে।
    উদাহরণ: شَيْءٍ ، وَإِلَيْهِ
  • তাফখীমত
    নিয়ম: তাফখীম মানে মুখ ভরে মোটা করে পড়া। এই হরফগুলোর উচ্চারণের সময় জিহ্বার গোড়া ওপরের তালুর দিকে ওঠে, তাই আওয়াজ ভারী হয়।
    ইস্তি‘লার ৭টি হরফ: خ ص ض غ ط ق ظ। এর মধ্যে ص ض ط ظ-তে জিহ্বা তালুর সাথে লাগে (ইতবাক)।
    মোটা-ভাবের ক্রম: যবর ও তারপর আলিফ থাকলে সবচেয়ে মোটা, তারপর যবর, পেশ, সুকুন, এবং যের থাকলে সবচেয়ে কম মোটা।
    সতর্কতা: এই হরফগুলো কখনোই চিকন করে পড়া যাবে না।
    উদাহরণ: تُرْجَعُونَ
  • লামে শামসিয়্যাহল
    নিয়ম: আলিফ-লামের (ال) পর ১৪টি সূর্য-হরফের কোনোটি এলে লামকে উচ্চারণ করা হয় না। লাম পরের হরফের মধ্যে মিশে যায়, আর পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হয়।
    সূর্য-হরফ: ت ث د ذ ر ز س ش ص ض ط ظ ل ن।
    পড়ার পদ্ধতি: الشَّمْسُ → "আশ-শামসু" (আল-শামসু নয়)। ইদগামের মতো, লামকে একদম বাদ দিয়ে পরের হরফকে জোড়ালো করে পড়তে হবে।
    চেনার উপায়: সূর্য-হরফের ওপর তাশদীদ থাকে আর লামে সুকুন থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • মাদ্দে ফারঈফ
    নিয়ম: মাদ্দে ফারঈ মানে শাখা মাদ। মাদ্দে আসলীর ওপর যখন হামযাহ বা সুকুনের মতো একটি অতিরিক্ত কারণ যোগ হয়, তখন মাদটি আসলীর চেয়ে বেশি টেনে পড়তে হয়।
    প্রকার: মুত্তাসিল, মুনফাসিল, লাযিম, আরিয, লীন, বদল ও ইওয়াদ।
    মূল ভাবনা: কারণ যত শক্ত, টান তত লম্বা। এই ব্যাজটি দেখলে বুঝবেন এখানে মূল টানের চেয়ে বেশি টান বা ভিন্ন নিয়ম আছে।
    উদাহরণ: فَسُبْحَانَ ، مَلَكُوتُ ، شَيْءٍ
  • হামযাতুল ওয়াসলহ
    নিয়ম: হামযাতুল ওয়াসল মানে সংযোগের হামযাহ। কেবল তখনই পড়া হয় যখন এর থেকে কথা শুরু করা হয়। মাঝখানে পড়ার সময় এই হামযাহ উচ্চারিত হয় না, আগের শব্দের সাথে মিলে যায়।
    শুরুতে কী হরকত: ১) ال-এর হামযায় যবর, ২) বেশির ভাগ ইসমে (اسم، ابن، امرأة) যের, ৩) ফেলে তৃতীয় হরফে পেশ থাকলে পেশ, অন্য সব ক্ষেত্রে যের।
    চেনার উপায়: কুরআনে এটি সাধারণত ٱ আকারে লেখা হয়, ওপরে হরকত থাকে না।
    উদাহরণ: الَّذِي
  • হামযাতুল কত্বহ্ব
    নিয়ম: হামযাতুল কত্ব মানে কেটে পড়ার হামযাহ। এটি সবসময় স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হয়, শব্দের শুরুতে হোক, মাঝে হোক বা শেষে।
    রূপ: أ إ ؤ ئ ء।
    পড়ার পদ্ধতি: কণ্ঠনালীর একেবারে গভীর থেকে বিরতি দিয়ে আওয়াজ করতে হয়, তাই এটি পরিষ্কার শোনা যাবে। আগের হরফ বা শব্দের সাথে মিলিয়ে ফেললে ভুল হবে।
    উদাহরণ: أَنزَلْنَا، إِنَّا، سُئِلَ।
    উদাহরণ: شَيْءٍ ، وَإِلَيْهِ
  • ওয়াকফও
    নিয়ম: ওয়াকফ মানে থামা। আয়াতের শেষে সাধারণত থামা সুন্নত, কারণ এখানে অর্থ ও বাক্য সম্পূর্ণ হয়।
    থামার নিয়ম: ১) শেষ হরফে সাকিন দিয়ে থামতে হয় (যেমন رَحِيمٌ → "রাহীম"), ২) শেষে ة থাকলে তা ه-এর মতো পড়া হয়, ৩) দুই যবর থাকলে আলিফের মতো টেনে পড়া হয়।
    থামার পর: শ্বাস নিয়ে পরের আয়াত নতুন করে শুরু করতে হয়। ওয়াকফের চিহ্ন থাকলে সেটিও অনুসরণ করতে হবে।
    উদাহরণ: تُرْجَعُونَ