Elementor #601

সূরা আল-বাকারা — Tajwid

সূরা আল-বাকারা (২) — আয়াত ১-৪

الٓمٓ আলিফ-লাম--- মীম---

(আলিফ-লাম--- মীম---)

অর্থ: আলিফ-লাম-মীম।

Meaning: Alif, Lam, Meem.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-লাযিম হারফী মুছাক্কাল (৬ আলিফ টান) (الٓمٓ — লাম---)
    الٓمٓ (লাম---): এখানে 'লাম' ($ل$) হরফটির ওপর মোটা চিহ্নের মাদ্দ রয়েছে এবং এর শেষে একটি মীম সাকিন উহ্য আছে যা পরের মীমের সাথে তাসদীদ যুক্ত হয়ে মিলিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, হরফের নামের শেষে সাকিন এবং তারপর তাসদীদ থাকলে তাকে মাদ্দ-এ-লাযিম হারফী মুছাক্কাল বলে। এটি পূর্ণ ৬ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  2. ২. ইদগাম-এ-মিছলাইন (১ আলিফ গুন্নাহ) (الم — লাম-ম্মীম)
    الم (লাম-ম্মীম): 'লাম' ($ل$) উচ্চারণ করার সময় শেষে একটি মীম সাকিন আসে এবং তার পরপরই 'মীম' ($م$) হরফটি শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, মীম সাকিনের পর মীম আসলে দুই মীমকে মিলিয়ে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহসহ পড়তে হয়। একে ইদগাম-এ-মিছলাইন বা মীম সাকিনের ইদগাম বলে।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-লাযিম হারফী মুখাফফাফ (৬ আলিফ টান) (الٓمٓ — মীম---)
    الٓمٓ (মীম---): আয়াতে 'মীম' ($م$) হরফটির ওপর মোটা চিহ্নের মাদ্দ রয়েছে এবং এর উচ্চারণের শেষে একটি সাকিন হরফ আসে কিন্তু কোনো তাসদীদ নেই। নিয়ম অনুযায়ী, হরফের নামের শেষে সাকিন থাকলে কিন্তু তাসদীদ না থাকলে তাকে মাদ্দ-এ-লাযিম হারফী মুখাফফাফ বলে। এটিও পূর্ণ ৬ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
ذَٰلِكَ যালিকা الْكِتَابُ আল-কিতাবু لَا লা رَيْبَ ۛ রাইবা فِيهِ ۛ ফীহি هُدًى হুদা لِّلْمُتَّقِينَ লিল-মুত্তাকীন

(যালিকা আল-কিতাবু লা রাইবা; ফীহি; হুদাল-লিল-মুত্তাকীন)

অর্থ: এটাই সেই কিতাব—এতে কোনো সন্দেহ নেই; এতে আছে হিদায়াত—মুত্তাকীদের জন্য।

Meaning: This is the Book about which there is no doubt, a guidance for the righteous.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (ذَٰلِكَ / الْكِتَابُ / لَا / فِيهِ)
    ذَٰلِكَ (যা-): এখানে 'যাল' হরফের ওপর খাড়া যবর রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, খাড়া যবর, খাড়া যের বা উল্টা পেশ থাকলে মাদ্দ-এ-তবায়ি বা আসলি হয় এবং একে ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।

    الْكِتَابُ (তা-): এখানে 'তা' হরফের ওপর খাড়া যবর রয়েছে, তাই এটিও ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।

    لَا (লা-): যবরের পর খালি আলিফ এসেছে। এটি মাদ্-এর স্বাভাবিক হরফ হওয়ায় ১ আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে পড়তে হবে।
  2. ২. লিন-এর নিয়ম (Leen - নরম করে দ্রুত পড়া) (رَيْبَ)
    رَيْبَ (রাই-বা): এখানে যবরের পর 'ইয়া সাকিন' এসেছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, যবরের পর ইয়া সাকিন বা ওয়াও সাকিন আসলে তাকে লিনের হরফ বলে। এটি টান না দিয়ে নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়। (তবে এখানে ওয়াকফ করলে নিয়মের পরিবর্তন হতে পারে)।
  3. ৩. বিশেষ দ্রষ্টব্য (ۛ — ওয়াকফে মুআনাকাহ) (رَيْبَ ۛ / فِيهِ ۛ)
    এই আয়াতে رَيْبَ এবং فِيهِ শব্দের ওপর তিনটি করে বিন্দু (ۛ) আছে। নিয়ম হলো, এর যেকোনো একটিতে আপনাকে থামতে হবে, তবে দুটিতেই থামা যাবে না।
  4. ৪. ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) (هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ)
    هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ (হুদাল-লিল...): এখানে 'দাল' হরফের ওপর তানভীন (দুই যবর) রয়েছে এবং তারপরেই ইদগামের হরফ 'লাম' ($ل$) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তানভীনের পর 'লাম' বা 'র' আসলে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই তানভীনকে পরবর্তী হরফের সাথে সরাসরি মিলিয়ে পড়তে হয়। একে ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ বলে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (لِّلْمُتَّقِينَ)
    لِلْمُتَّقِينَ (ক্বী-ন): আয়াতের শেষ শব্দে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে শেষ হরফ 'নূন' সাকিন হয়ে যায়। সাকিন হওয়া হরফের ঠিক আগে মাদ্-এর হরফ (যেরের পর ইয়া সাকিন) থাকায় এটি ৩ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  6. ৬. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (ق)
    لِلْمُتَّقِينَ (ক্বী-): এখানে 'ক্বাফ' ($ق$) হরফটি 'হরুফে ইস্তিয়ালা' বা সবসময় মোটা হরফ। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে।
الَّذِينَ আল্লাযীনা يُؤْمِنُونَ ইউ'মিনূনা بِالْغَيْبِ বিল-গাইবি وَيُقِيمُونَ ওয়া ইউক্বীমূনা الصَّلَاةَ আস্-সালাতা وَمِمَّا ওয়া মিম্মা رَزَقْنَاهُمْ রাযাক্বনাহুম يُنْفِقُونَ ইউনফিক্বূন

(আল্লাযীনা ইউ'মিনূনা বিল-গাইবি ওয়া ইউক্বীমূনাস-সালাতা ওয়া মিম্মা রাযাক্বনাহুম ইউনফিকূন)

অর্থ: যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।

Meaning: Who believe in the unseen, establish prayer, and spend out of what We have provided for them.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (الَّذِينَ / يُؤْمِنُونَ / وَيُقِيمُونَ / الصَّلَاةَ / وَمِمَّا / رَزَقْنَاهُمْ)
    الَّذِينَ (যী-): এখানে যেরের পর ইয়া সাকিন এসেছে। এটি মাদ্-এর স্বাভাবিক হরফ হওয়ায় একে ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।

    يُؤْمِنُونَ (নূ-): এখানে পেশের পর ওয়াও সাকিন এসেছে, তাই এটি ১ আলিফ পরিমাণ টান হবে।

    وَيُقِيمُونَ (ক্বী-, মূ-): 'ক্বী' অংশে যেরের পর ইয়া সাকিন এবং 'মূ' অংশে পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় উভয় জায়গায় ১ আলিফ করে টানতে হবে।

    الصَّلَاةَ (লা-): লাম-এর ওপর খাড়া যবর থাকায় এটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।

    وَمِمَّا (মা-): যবরের পর খালি আলিফ আসায় ১ আলিফ পরিমাণ টান হবে।
  2. ২. হামজা সাকিন (ঝটকা দিয়ে পড়া) (يُؤْمِنُونَ)
    يُؤْمِنُونَ (ইউ'-মিনূনা): এখানে আলিফ বা হামজার ওপর সাকিন এসেছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, হামজা সাকিন হলে তাকে স্বরযন্ত্রে সামান্য ঝটকা দিয়ে (নাবরা) দ্রুত উচ্চারণ করতে হয়।
  3. ৩. লিন-এর নিয়ম (Leen - নরম করে দ্রুত পড়া) (بِالْغَيْبِ)
    بِالْغَيْبِ (বিল-গাই-বি): এখানে যবরের পর 'ইয়া সাকিন' এসেছে। যবরের পর ইয়া সাকিন আসলে তাকে লিনের হরফ বলে, যা টান না দিয়ে নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়।
  4. ৪. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (بِالْغَيْبِ / وَيُقِيمُونَ / الصَّلَاةَ / رَزَقْنَاهُمْ / يُنْفِقُونَ)
    بِالْغَيْبِ (গাই-): এখানে 'গাইন' (غ) হরফটি মোটা হরফ, তাই এটি ভারী স্বরে পড়তে হবে।

    وَيُقِيمُونَ (ক্বী-): এখানে 'ক্বাফ' (ق) হরফটি সবসময় মোটা হরফ, তাই এটি ভারী আওয়াজে উচ্চারণ করতে হবে।

    الصَّلَاةَ (সো-): 'সোয়াদ' (ص) হরফটি মোটা হরফ। এছাড়া এটি 'হুরুফে শামসিয়া' হওয়ায় লামকে বাদ দিয়ে সরাসরি সোয়াদের সাথে মিলিয়ে পড়তে হবে।

    رَزَقْنَاهُمْ (রা-, যা-): 'র' এর ওপর যবর থাকায় 'র' মোটা হবে এবং 'ক্বাফ' সাকিন অবস্থায় মোটা করে পড়তে হবে।
  5. ৫. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) (رَزَقْنَاهُمْ)
    رَزَقْنَاهُمْ (ক্বক্-): এখানে কলকলাহর হরফ 'ক্বাফ' (ق) সাকিন অবস্থায় শব্দের মাঝখানে এসেছে। তাই একে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (Echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে।
  6. ৬. ওয়াজিব গুন্নাহ (অবশ্যই পালনীয়) (وَمِمَّا)
    وَمِمَّا (মিম্ম-মা): এখানে মীম হরফের ওপর তাসদীদ (ّ) রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, মীম বা নূন তাসদীদ হলে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব।
  7. ৭. ইখফা-এ-হাকীকী (নাকের বাঁশিতে গুন্নাহ) (يُنْفِقُونَ)
    يُنْفِقُونَ (ইউন্-ফিক্বূনা): এখানে নূন সাকিনের পর ইখফার হরফ 'ফা' (ف) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিনকে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (يُنْفِقُونَ)
    يُنْفِقُونَ (ক্বূ-ন): আয়াতের শেষ শব্দে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে শেষ হরফ 'নূন' সাকিন হয়ে যায় এবং তার আগে মাদ্-এর হরফ থাকায় এটি ৩ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  9. শ. লামে শামসিয়া (الَّذِينَ / الصَّلَاةَ)
    ال + শামশী হরফ (যেমন ذ, ص): লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়।
  10. জ. ইজহার-এ-শাফাবী (رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ)
    رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ (হুম-ইউন...): মীম সাকিন (مْ) এর পরে ‘বা’ (ب) বা ‘মীম’ (م) ছাড়া অন্য হরফ (এখানে ي) এলে মীমকে একদম স্পষ্ট করে পড়তে হয়, কোনো গুন্নাহ নয়।
وَالَّذِينَ ওয়াল্লাযীনা يُؤْمِنُونَ ইউ'মিনূনা بِمَا বিমা--- أُنزِلَ উন্-যিলা إِلَيْكَ ইলাইকা وَمَا ওয়া-মা--- أُنزِلَ উন্-যিলা مِن মিন্ قَبْلِكَ ক্বাব্লিকা وَبِالْآخِرَةِ ওয়া বিল-আখিরাতি هُمْ হুম يُوقِنُونَ ইউক্বিনূন

(ওয়াল্লাযীনা ইউ'মিনূনা বিমা---উনযিলা ইলাইকা ওয়া-মা---উনযিলা মিন ক্বাব্লিকা ওয়া বিল-আখিরাতি হুম ইউক্বিনূন)

অর্থ: আর যারা বিশ্বাস করে যা আপনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে নাযিল করা হয়েছে, আর তারা আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।

Meaning: And who believe in what has been revealed to you and what was revealed before you, and they are certain of the Hereafter.

তাজবীদ বিশ্লেষণ (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (بِمَا أُنزِلَ / وَمَا أُنزِلَ)
    بِمَا أُنزِلَ (বিমা---উন্যিলা): এখানে 'বিমা' শব্দের শেষে মাদ্-এর হরফ (আলিফ) এবং পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামজা এসেছে। মাদ্ ও হামজা পৃথক দুটি শব্দে হওয়ায় একে মাদ্দ-এ-মুনফাসিল বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।

    وَمَا أُنزِلَ (ওয়ামা---উন্যিলা): এখানেও একই নিয়মে ৪ আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে টানতে হবে।
  2. ২. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (وَالَّذِينَ / يُؤْمِنُونَ / يُوقِنُونَ)
    وَالَّذِينَ (যী-): যেরের পর ইয়া সাকিন আসায় ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।

    يُؤْمِنُونَ (নূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন আসায় ১ আলিফ টান হবে।

    يُوقِنُونَ (ইউ-, নূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন আসায় ১ আলিফ টান হবে।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-বদল (১ আলিফ টান) (وَبِالْآخِرَةِ)
    وَبِالْآخِرَةِ (আ-): হামজার ওপর খাড়া যবর থাকায় একে মাদ্দ-এ-বদল বলা হয় এবং এটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।
  4. ৪. ইখফা-এ-হাকীকী (أُنزِلَ / مِن قَبْلِكَ)
    أُنزِلَ (উন্-যিলা): নূন সাকিনের পর 'যা' (ز) আসায় ইখফা হবে।

    مِن قَبْلِكَ (মিং-ক্বাব্লিকা): নূন সাকিনের পর 'ক্বাফ' (ق) আসায় ইখফা হবে, এবং ক্বাফ মোটা হরফ হওয়ায় গুন্নাহ কিছুটা মোটা হবে।
  5. ৫. লিন-এর নিয়ম (إِلَيْكَ)
    إِلَيْكَ: যবরের পর ইয়া সাকিন আসায় লিন হবে।
  6. ৬. কলকলাহ (قَبْلِكَ)
    قَبْلِكَ: 'বা' সাকিন হওয়ায় কলকলাহ হবে।
  7. ৭. তাখফিম (قَبْلِكَ / وَبِالْآخِرَةِ / يُوقِنُونَ)
    ق সবসময় মোটা। রা-তে যবর থাকায় মোটা। ক্বাফ থাকলে ভারী উচ্চারণ।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ) (يُوقِنُونَ)
    আয়াতের শেষে থামলে শেষ নূন সাকিন হয়, তার আগের মাদ্ হরফ ৩ আলিফ টান হবে।
  9. শ. লামে শামসিয়া (وَالَّذِينَ)
    ال + শামশী হরফ (যেমন ذ): লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়।
أُولَٰئِكَ উলা---ইকা عَلَىٰ আলা- هُدًى হুদা مِّن মিন্ন رَّبِّهِمْ ۖ রাব্বিহিম وَأُولَٰئِكَ ওয়া উলা---ইকা هُمُ হুমু الْمُفْلِحُونَ আল-মুফলিহূন

(উলা---ইকা আলা- হুদাম-মিন্ন রাব্বিহিম; ওয়া উলা---ইকা হুমুল-মুফলিহূন)

অর্থ: তারাই তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে; আর তারাই সফলকাম।

Meaning: Those are upon guidance from their Lord, and it is they who are the successful.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল (৪ আলিফ টান) (أُولَٰئِكَ / وَأُولَٰئِكَ)
    أُولَٰئِكَ (উলা---ইকা): এখানে মাদ্ (খাড়া যবর/মাদ্দ চিহ্ন)–এর পর একই শব্দের ভেতরে হামজা এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মাদ্ ও হামজা একই শব্দে হলে একে মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল বলে এবং ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। (শব্দটি আয়াতে দুইবার আছে)
  2. ২. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (عَلَىٰ)
    عَلَىٰ (আলা-): এখানে খাড়া যবর রয়েছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, খাড়া যবর/খাড়া যের/উল্টা পেশ থাকলে মাদ্দ-এ-তবায়ি বা আসলি হয় এবং ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।
  3. ৩. ইদগাম-এ-মাআল গুন্নাহ (মিলিয়ে গুন্নাহ করা) (هُدًى مِّن)
    هُدًى مِّن (হুদাম-মিন): এখানে দাল-এর ওপর তানভীন (দুই যবর) আছে এবং পরের শব্দে ইদগামের হরফ ‘মীম’ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তানভীনের পর মীম/নূন/ওয়াও/ইয়া এলে তাকে মিলিয়ে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ সময় গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
  4. ৪. ওয়াজিব গুন্নাহ (مِّن)
    مِّن (মিন্ন-): এখানে মীমের ওপর তাশদীদ আছে। নিয়ম অনুযায়ী, মীম/নূন তাশদীদ হলে ১ আলিফ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব।
  5. ৫. ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) (مِّن رَّبِّهِمْ)
    مِّن رَّبِّهِمْ (মির-রাব্বিহিম): এখানে নূন সাকিনের পর ‘র’ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিন/তানভীনের পর ‘র’ বা ‘লাম’ এলে গুন্নাহ ছাড়াই সরাসরি পরের হরফে মিলিয়ে পড়তে হয়।
  6. ৬. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (رَّبِّهِمْ)
    رَّبِّهِمْ (রাব-): এখানে ‘র’ হরফটি মোটা (ভারী) করে পড়তে হবে।
  7. ৭. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম স্পষ্ট করা) (رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَٰئِكَ)
    رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَٰئِكَ (হিম-ওয়া...): এখানে মীম সাকিনের পরে ‘ওয়াও’ এসেছে। নিয়ম হলো—মীম সাকিনের পরে ‘মীম’ বা ‘বা’ ছাড়া অন্য হরফ এলে মীমকে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (الْمُفْلِحُونَ)
    الْمُفْلِحُونَ (হূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ নূন সাকিন হয়। তার আগে পেশের পর ওয়াও (مادّ حرف) থাকায় ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।
  9. ৯. আল-কামারিয়া (স্পষ্ট লাম) (الْمُفْلِحُونَ)
    الْمُفْلِحُونَ (আল-): এখানে ‘আল’ (ال)–এর পরে কামারি হরফ ‘মীম’ এসেছে, তাই লামকে স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
إِنَّ ইন্না الَّذِينَ আল্লাযীনা كَفَرُوا কাফারূ سَوَاءٌ সাওয়া---উন عَلَيْهِمْ আলাইহিম أَأَنذَرْتَهُمْ আ-আং-যারতাহুম أَمْ আম لَمْ লাম تُنذِرْهُمْ তুং-যিরহুম لَا লা يُؤْمِنُونَ ইউ'মিনূন

(ইন্না আল্লাযীনা কাফারূ সাওয়া---উন আলাইহিম আ-আং-যারতাহুম আম লাম তুং-যিরহুম লা ইউ'মিনূন)

অর্থ: নিশ্চয় যারা কুফর করেছে—তাদের জন্য সমান, আপনি সতর্ক করুন বা না করুন—তারা ঈমান আনবে না।

Meaning: Indeed, those who disbelieve—it is all the same for them whether you warn them or do not warn them—they will not believe.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ওয়াজিব গুন্নাহ (إِنَّ)
    إِنَّ (ইন্না): এখানে নূন (ن) হরফে তাশদীদ (ّ) আছে। নিয়ম অনুযায়ী নূন/মীম তাশদীদ হলে ১ আলিফ সময় নাকে গুন্নাহ করা বাধ্যতামূলক—এটাই ওয়াজিব গুন্নাহ।
  2. ২. লামে শামসিয়া (الَّذِينَ)
    الَّذِينَ: “الـ” এর পরে শামসী হরফ (ذ) এসেছে। নিয়ম: লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়। তাই “الَّذِينَ” পড়া হবে “আল্লাযীনা”।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ) (الَّذِينَ / لَا)
    الَّذِينَ: যেরের পরে ইয়া মাদ্দ/ইয়া টান হওয়ায় ১ আলিফ টান।

    لَا: যবরের পরে আলিফ এসেছে—এটা মাদ্দ-এ-আসলি; ১ আলিফ টান।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল (৪ আলিফ) (سَوَاءٌ)
    سَوَاءٌ (সাওয়া---উন): একই শব্দের ভিতরে মাদ্দের হরফের পরে হামজা এসেছে। নিয়ম: মাদ্দ+হামজা একই শব্দে হলে মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল—আপনার সেটিং অনুযায়ী ৪ আলিফ টান।
  5. ৫. ইজহার-এ-হাকীকী (তানভীন স্পষ্ট) (سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ)
    سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ: এখানে তানভীন (ٌ) এর পরে “ع” (আইন) এসেছে, যা হলকের হরফ। নিয়ম: নূন সাকিন/তানভীনের পরে হলকের ৬ হরফ (ء، ه، ع، ح، غ، خ) এলে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়—এটাই ইজহার-এ-হাকীকী।
  6. ৬. লীন (عَلَيْهِمْ)
    عَلَيْهِمْ (আলাইহিম): এখানে “يْ” লীন হরফ হিসেবে আসে—এটা টান না দিয়ে নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয় (ওয়াকফ করলে নিয়ম বদলাতে পারে)।
  7. ৭. ইখফা (أَأَنذَرْتَهُمْ / تُنذِرْهُمْ)
    أَأَنذَرْتَهُمْ: নূন সাকিন (নূনের সাকিন অংশ) এর পরে ইখফার হরফ “ذ” এসেছে। নিয়ম: নূন সাকিনকে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হয়—এটাই ইখফা।

    تُنذِرْهُمْ: এখানেও নূনের সাকিন অংশের পরে “ذ” থাকায় একইভাবে ইখফা হবে।
  8. ৮. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) (عَلَيْهِمْ / أَأَنذَرْتَهُمْ / تُنذِرْهُمْ / أَمْ / لَمْ)
    মীম সাকিন (مْ) এর পরে “ب” বা “م” ছাড়া অন্য যে কোনো হরফ এলে মীমকে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়—এটাই ইজহার-এ-শাফাবী।
  9. ৯. তাখফিম (রা মোটা) (كَفَرُوا)
    كَفَرُوا: রা-এর উপর পেশ (رُ) থাকলে রা মোটা/ভারী করে পড়তে হয়।
  10. ১০. তাখফিম (রা মোটা) (أَأَنذَرْتَهُمْ)
    أَأَنذَرْتَهُمْ: রা সাকিন (رْ) এবং তার আগে খোলা স্বর থাকায় রা মোটা/ভারী হবে।
  11. ১১. তারক্বীক্ব (রা চিকন) (تُنذِرْهُمْ)
    تُنذِرْهُمْ: রা সাকিন (رْ) এবং তার আগে পাতলা স্বর থাকায় রা চিকন করে পড়তে হয়—এটাই তারক্বীক্ব।
  12. ১২. হামজা সাকিন (ঝটকা) (يُؤْمِنُونَ)
    يُؤْمِنُونَ: এখানে “ؤْ” (হামজা+সাকিন) আছে। নিয়ম: হামজা সাকিন হলে স্বরযন্ত্রে সামান্য ঝটকা দিয়ে দ্রুত উচ্চারণ করতে হয়।
  13. ১৩. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ) (يُؤْمِنُونَ)
    يُؤْمِنُونَ (নূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ নূন সাকিন হয়। তার আগে মাদ্দের হরফ (و) থাকায় ৩ আলিফ টেনে পড়া হবে—এটাই মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন।
خَتَمَ খাতামা اللَّهُ আল্লাহু عَلَىٰ আলা--- قُلُوبِهِمْ কুলূবিহিম وَعَلَىٰ ওয়া-আলা--- سَمْعِهِمْ ۖ সাম'ইহিম وَعَلَىٰ ওয়া-আলা---(৪) أَبْصَارِهِمْ আব্‌স্‌লাঃরিহিম غِشَاوَةٌ ۖ গিশাওয়াতুন وَلَهُمْ ওয়ালাহুম عَذَابٌ আযাবুন عَظِيمٌ আযীম(ওয়াকফ ৩)

(খাতামাল্লা-হু আলা--- কুলূবিহিম ওয়া-আলা--- সাম'ইহিম; ওয়া-আলা--- আব্‌স্‌লাঃরিহিম গিশাওয়াতুন; ওয়ালাহুম আযাবুন আযীম)

অর্থ: আল্লাহ তাদের হৃদয় ও শ্রবণশক্তির উপর মোহর মেরে দিয়েছেন; আর তাদের দৃষ্টির উপর আছে পর্দা। তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

Meaning: Allah has set a seal upon their hearts and upon their hearing, and over their vision is a veil. And for them is a great punishment.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. আল্লাহ শব্দের লাম (তাখফিম) (خَتَمَ اللَّهُ)
    خَتَمَ اللَّهُ: আল্লাহ শব্দের আগে (ডানে) যবর/পেশ থাকলে “اللَّه” এর লামকে ভারী/মোটা করে পড়তে হয়। এখানে “خَتَمَ” এর শেষে যবর থাকায় “খাতামাল্লা-হু” হবে।
  2. ২. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ) (وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ)
    وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ: “عَلَىٰ” এর শেষে মাদ্দ (খাড়া যবর/আলিফ ধ্বনি) আছে এবং পরের শব্দ “أَبْ...” হামজা দিয়ে শুরু—দুই শব্দ আলাদা, তাই মাদ্দ-এ-মুনফাসিল; আপনার সেটিং অনুযায়ী ৪ আলিফ টান।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ) (عَلَىٰ / أَبْصَارِهِمْ / غِشَاوَةٌ)
    عَلَىٰ: খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান। (প্রথম দুইবার)।

    أَبْصَارِهِمْ: “صَا” অংশে আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।

    غِشَاوَةٌ: “شَا” অংশে আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ) (عَظِيمٌ)
    عَظِيمٌ: আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ “م” সাকিন হয়ে যায়। তার আগে মাদ্দের হরফ (ي) থাকায় ৩ আলিফ টেনে পড়া হবে।
  5. ৫. কলকলাহ (أَبْصَارِهِمْ)
    أَبْصَارِهِمْ: “بْ” সাকিন অবস্থায় এসেছে এবং “ب” কলকলাহর হরফ। তাই ধাক্কা/echo দিয়ে পড়তে হবে (আব্‌)।
  6. ৬. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) (قُلُوبِهِمْ وَ / سَمْعِهِمْ وَ / أَبْصَارِهِمْ غِ / وَلَهُمْ عَ)
    মীম সাকিন (مْ) এর পরে “ب/م” ছাড়া অন্য হরফ এলে মীমকে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়। এখানে “و/غ/ع” আসায় সব জায়গায় ইজহার-এ-শাফাবী হবে।
  7. ৭. ইজহার-এ-হাকীকী (তানভীন স্পষ্ট) (عَذَابٌ عَظِيمٌ)
    عَذَابٌ عَظِيمٌ: তানভীন (ٌ) এর পরে হলকের হরফ “ع” এসেছে। নিয়ম: নূন সাকিন/তানভীনের পরে হলকের ৬ হরফ (ء، ه، ع، ح، غ، خ) এলে গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  8. ৮. তাখফিম (মোটা) (خ / ص / غ / ظ)
    خَتَمَ: “خ” মোটা হরফ—ভারী স্বরে পড়তে হবে।

    أَبْصَارِهِمْ: “ص” সবসময় মোটা—ভারী উচ্চারণ।

    غِشَاوَةٌ: “غ” মোটা—ভারী উচ্চারণ।

    عَظِيمٌ: “ظ” মোটা—ভারী উচ্চারণ।
  9. ৯. তারক্বীক্ব (চিকন) (أَبْصَارِهِمْ — رِ)
    أَبْصَارِهِمْ: “رِ” এর নিচে যের থাকায় রা চিকন/পাতলা করে পড়তে হয়—এটাই তারক্বীক্ব।
  10. আ. ওয়াকফ চিহ্ন (ۖ) (… ۖ …)
    ۖ: থামার জায়গা/ওয়াকফের ইশারা। এখানে থামলে আগের হরফের উচ্চারণ নিয়ম (মাদ্দ/সাকিন) পরিবর্তন হতে পারে।
وَمِنَ ওয়া-মিনা النَّاسِ আন্-নাসি مَن মান يَقُولُ ইয়াক্বূলু آمَنَّا আমান্-না بِاللَّهِ বিল-লাহি وَبِالْيَوْمِ ওয়া বিল-ইয়াওমি الْآخِرِ আল-আখিরি وَمَا ওয়া-মা هُم হুম بِمُؤْمِنِينَ বিমু’মিনীন

(ওয়া-মিনা আন্-নাসি মান ইয়াক্বূলু আমান্-না বিল-লাহি ওয়া বিল-ইয়াওমিল-আখিরি ওয়া-মা হুম বিমু’মিনীন)

অর্থ: মানুষের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা বলে—আমরা আল্লাহ ও আখিরাতের দিনে ঈমান এনেছি; অথচ তারা মুমিন নয়।

Meaning: And of the people are some who say, “We believe in Allah and the Last Day,” but they are not believers.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ওয়াজিব গুন্নাহ (Wajib Ghunnah) (النَّاسِ / آمَنَّا)
    النَّاسِ (আন্-নাসি): এখানে নূন হরফের ওপর তাসদীদ (ّ) রয়েছে। আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী, নূন বা মীম হরফে তাসদীদ থাকলে সেখানে ১ আলিফ পরিমাণ সময় নাকের বাঁশিতে গুন্নাহ করা বাধ্যতামূলক। একে ওয়াজিব গুন্নাহ বলে।

    آمَنَّا (আমাল্-না): এখানেও নূন হরফের ওপর তাসদীদ থাকায় ১ আলিফ পরিমাণ সময় নিয়ে গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
  2. ২. ইদগাম-এ-মাআল গুন্নাহ (মিলিয়ে গুন্নাহ করা) (مَن يَقُولُ)
    مَن يَقُولُ (মাই-ইয়াক্বূলু): এখানে নূন সাকিনের পর ইদগামের হরফ 'ইয়া' (ي) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিনের পর 'ইয়া' আসলে নূনকে ইয়ার সাথে মিলিয়ে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
  3. ৩. ইখফা-এ-শাফাবী (মীম সাকিন গোপন করে গুন্নাহ করা) (هُم بِمُؤْمِنِينَ)
    هُم بِمُؤْمِنِينَ (হুম-বিমু’মিনীন): এটি মীম সাকিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। মীম সাকিনের পর যদি 'বা' (ب) হরফ আসে, তবে মীমকে ঠোঁটের মাঝে হালকা রেখে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহর সাথে লুক্কায়িত করে পড়তে হয়। একে ইখফা-এ-শাফাবী বলে।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (النَّاسِ / يَقُولُ / آمَنَّا)
    مাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান):
    النَّاسِ (না-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।

    يَقُولُ (ক্বূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান হবে।

    آمَنَّا (না-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-বদল (১ আলিফ টান) (آمَنَّا / الْآخِرِ)
    آمَنَّا (আ-): হামজার ওপর খাড়া যবর বা হামজার পর মাদ্-এর হরফ আসায় এটি মাদ্দ-এ-বদল, যা ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।

    الْآخِرِ (আ-): এখানেও হামজার ওপর খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (بِمُؤْمِنِينَ)
    بِمُؤْمِنِينَ (নী-ন): আয়াতের শেষ শব্দে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে শেষ হরফ 'নূন' সাকিন হয়ে যায়। সাকিন হওয়া হরফের ঠিক আগে মাদ্-এর হরফ (যেরের পর ইয়া সাকিন) থাকায় এটি ৩ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  7. ৭. আল্লাহ শব্দের লাম (তারক্বীক্ব - চিকন করা) (بِاللَّهِ)
    بِاللَّهِ (বিল-লাহি): আল্লাহ শব্দের ঠিক আগের হরফে (বা) 'যের' রয়েছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, আল্লাহ শব্দের ডানে (আগের হরফে) যের থাকলে আল্লাহ শব্দের লাম-কে চিকন বা পাতলা করে পড়তে হয়।
  8. ৮. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (يَقُولُ)
    يَقُولُ (ক্বূ-): এখানে 'ক্বাফ' (ق) হরফটি 'হরুফে ইস্তিয়ালা' বা সবসময় মোটা হরফ। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে।
  9. ৯. হামজা সাকিন (ঝটকা দিয়ে পড়া) (بِمُؤْمِنِينَ)
    بِمُؤْمِنِينَ (বিমু’-মিনীন): এখানে হামজার ওপর সাকিন (ْ) রয়েছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, হামজা সাকিন হলে তাকে স্বরযন্ত্রে সামান্য ঝটকা দিয়ে দ্রুত উচ্চারণ করতে হয়।
  10. শ. লামে শামসিয়া (النَّاسِ)
    النَّاسِ: “الـ” এর পরে শামসী হরফ (ن) এসেছে। নিয়ম: লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়। তাই “النَّاسِ” পড়া হবে “আন্-নাসি”।
يُخَادِعُونَ ইউখা-দিউনা اللَّهَ আল্লাহা وَالَّذِينَ ওয়াল্লাযীনা آمَنُوا আ-মানূ وَمَا ওয়া-মা يَخْدَعُونَ ইয়াখদাঊনা إِلَّا ইল্লা--- أَنفُسَهُمْ আং-ফুসাহুম وَمَا ওয়া-মা يَشْعُرُونَ ইয়াশ’উরূন

(ইউখা-দিউনা আল্লা-হা ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া-মা ইয়াখদাঊনা ইল্লা--- আং-ফুসাহুম ওয়া-মা ইয়াশ’উরূন)

অর্থ: তারা আল্লাহ ও মুমিনদের সাথে ধোঁকা করে; অথচ তারা ধোঁকা করে কেবল নিজেদের সাথেই, কিন্তু তারা তা বুঝে না।

Meaning: They try to deceive Allah and those who believe, but they deceive only themselves and do not perceive it.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (إِلَّا أَنفُسَهُمْ)
    إِلَّا أَنفُسَهُمْ (ইল্লা---আংফুসাহুম): এখানে প্রথম শব্দের শেষে মাদ্-এর হরফ (আলিফ) এবং পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামজা এসেছে। মাদ্ ও হামজা পৃথক দুটি শব্দে হওয়ায় একে মাদ্দ-এ-মুনফাসিল বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  2. ২. ইখফা-এ-হাকীকী (১ আলিফ গুন্নাহ) (أَنفُسَهُمْ)
    أَنفُسَهُمْ (আং-ফুসাহুম): এখানে নূন সাকিনের পর ইখফার হরফ 'ফা' (ف) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিনকে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ সময় নিয়ে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
  3. ৩. আল্লাহ শব্দের লাম (মোটা বা তাখফিম) (يُخَادِعُونَ اللَّهَ)
    يُخَادِعُونَ اللَّهَ (ইউখা-দিউনাল-ল্লাহ): আল্লাহ শব্দের ঠিক আগের হরফে (নূন) যবর রয়েছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, আল্লাহ শব্দের ডানে যবর বা পেশ থাকলে আল্লাহ শব্দের লাম-কে অত্যন্ত মোটা বা ভারী আওয়াজে পড়তে হয়।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-বদল (১ আলিফ টান) (آمَنُوا)
    آمَنُوا (আ-মানূ): এখানে হামজার ওপর খাড়া যবর এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, হামজার সাথে মাদ্-এর হরফ যুক্ত হয়ে আসলে তাকে মাদ্দ-এ-বদল বলে এবং এটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (يُخَادِعُونَ / الَّذِينَ / آمَنُوا / يَشْعُرُونَ)
    يُخَادِعُونَ (খা-, ঊ-): এখানে খাইন-এর সাথে আলিফ এবং দাল-এর ওপর পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ করে টানতে হবে।

    الَّذِينَ (যী-): যেরের পর ইয়া সাকিন আসায় ১ আলিফ টান হবে।

    آمَنُوا (নূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান হবে।

    يَشْعُرُونَ (রূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান হবে।
  6. ৬. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম স্পষ্ট করা) (أَنفُسَهُمْ وَ)
    أَنفُسَهُمْ وَ (হুম-ওয়া): মীম সাকিনের পর 'ওয়াও' আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়া একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  7. ৭. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (يُخَادِعُونَ)
    يُخَادِعُونَ (খা-): এখানে 'খাইন' (خ) হরফটি মোটা হরফ।
  8. ৮. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (يَشْعُرُونَ)
    يَشْعُرُونَ (রূ-): এখানে 'র' এর ওপর পেশ থাকায় 'র' অক্ষরটি মোটা হবে।
  9. ৯. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (يَشْعُرُونَ)
    يَشْعُرُونَ (রূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে শেষ হরফ 'নূন' সাকিন হয়ে যায় এবং তার আগে মাদ্-এর হরফ থাকায় এটি ৩ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  10. শ. লামে শামসিয়া (وَالَّذِينَ)
    ال + শামশী হরফ (যেমন ذ): লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়।
১০ فِي ফী قُلُوبِهِم কুলূবিহিম مَّرَضٌ ম্মারাদুন فَزَادَهُمُ ফাযাদাহুমু اللَّهُ আল্লাহু مَرَضًا ۖ মারাদাঁ وَلَهُمْ ওয়ালাহুম عَذَابٌ আযাবুন أَلِيمٌ আলীমুন بِمَا বিমা كَانُوا কানূ يَكْذِبُونَ ইয়াকযিবূন

(ফী কুলূবিহিম ম্মারাদুন ফাযাদাহুমুল-ল্লাহু মারাদাঁও; ওয়ালাহুম আযাবুন আলীমুন বিমা কানূ ইয়াকযিবূন)

অর্থ: তাদের অন্তরে রোগ আছে; অতঃপর আল্লাহ তাদের রোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি—কারণ তারা মিথ্যা বলত।

Meaning: In their hearts is a disease, so Allah has increased their disease; and for them is a painful punishment because they used to lie.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ইদগাম-এ-মিছলাইন (মীম সাকিনের গুন্নাহ) (قُلُوبِهِم مَّرَضٌ)
    قُلُوبِهِم مَّرَضٌ (হিম-ম্মারাদুন): এখানে মীম সাকিনের পর আবার একটি 'মীম' (م) হরফ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মীম সাকিনের পর মীম আসলে দুই মীমকে মিলিয়ে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
  2. ২. ইখফা-এ-হাকীকী (নাকের বাঁশিতে গুন্নাহ) (مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ)
    مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ (মারাদুন-ফাযাদা...): এখানে তানভীনের (দুই পেশ) পর ইখফার হরফ 'ফা' (ف) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তানভীনকে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হয়।
  3. ৩. আল্লাহ শব্দের লাম (মোটা বা তাখফিম) (فَزَادَهُمُ اللَّهُ)
    فَزَادَهُمُ اللَّهُ (হুমুল-ল্লাহু): এখানে আল্লাহ শব্দের ঠিক আগের হরফে (মীম) পেশ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, আল্লাহ শব্দের ডানে যবর বা পেশ থাকলে আল্লাহ শব্দের লাম-কে মোটা বা ভারী আওয়াজে পড়তে হয়।
  4. ৪. ইদগাম-এ-মাআল গুন্নাহ (মিলিয়ে গুন্নাহ করা) (مَرَضًا وَلَهُمْ)
    مَرَضًا وَلَهُمْ (মারাদাঁও-ওয়ালাহুম): এখানে তানভীনের (দুই যবর) পর ইদগামের হরফ 'ওয়াও' (و) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তানভীনের পর ওয়াও আসলে তাকে মিলিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
  5. ৫. ইজহার-এ-হাকীকী (স্পষ্ট করা) (عَذَابٌ أَلِيمٌ)
    عَذَابٌ أَلِيمٌ (আযাবুন আলীম): এখানে তানভীনের (দুই পেশ) পর হলকের হরফ 'হামজা' (আলিফ) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিন বা তানভীনের পর হামজা আসলে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  6. ৬. ইক্বলাব (নূনকে মীম দিয়ে পরিবর্তন করা) (أَلِيمٌ بِمَا)
    أَلِيمٌ بِمَا (আলীমুম-বিমা): এখানে তানভীনের পর 'বা' (ب) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তানভীন বা নূন সাকিনের পর 'বা' আসলে তাকে একটি ছোট মীম দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহর সাথে পড়তে হয়।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (فِي / قُلُوبِهِم / فَزَادَهُمُ / بِمَا / كَانُوا / يَكْذِبُونَ)
    فِي (ফী-): যেরের পর ইয়া সাকিন আসায় ১ আলিফ টান।

    قُلُوبِهِم (লূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন আসায় ১ আলিফ টান।

    فَزَادَهُمُ (যা-): যবরের পর খালি আলিফ আসায় ১ আলিফ টান।

    بِمَا (মা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।

    كَانُوا (কা- / নূ-): ১ আলিফ করে টান হবে।

    يَكْذِبُونَ (বূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (يَكْذِبُونَ)
    يَكْذِبُونَ (বূ-ন): আয়াতের শেষে থামার কারণে শেষ হরফ সাকিন হয়ে যায়, তাই মাদ্-এর হরফ থাকায় এটি ৩ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
  9. ৯. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (مَّرَضٌ)
    مَّرَضٌ (রা- / দদ): 'র' এর ওপর যবর থাকায় 'র' মোটা হবে এবং 'দদ' (ض) সবসময় মোটা হরফ।
  10. আ. ওয়াকফ চিহ্ন (ۖ) (… ۖ …)
    ۖ: থামার জায়গা/ওয়াকফের ইশারা। এখানে থামলে আগের হরফের উচ্চারণ নিয়ম (মাদ্দ/সাকিন) পরিবর্তন হতে পারে।
১১ وَإِذَا ওয়া-ইযা قِيلَ ক্বীলা لَهُمْ লাহুম لَا লা تُفْسِدُوا তুফসিদূ فِي ফী الْأَرْضِ আল-আরদ্বি قَالُوا ক্বালূ--- إِنَّمَا ইন্নামা نَحْنُ নাহনু مُصْلِحُونَ মুস্‌লিহূন

(ওয়া-ইযা ক্বীলা লাহুম লা তুফসিদূ ফী আল-আরদ্বি ক্বালূ--- ইন্নামা নাহনু মুস্‌লিহূন)

অর্থ: আর যখন তাদেরকে বলা হয়—পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না—তখন তারা বলে, আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।

Meaning: And when it is said to them, “Do not cause corruption on the earth,” they say, “We are only reformers.”

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (قَالُوا إِنَّمَا)
    قَالُوا إِنَّمَا (ক্বালু---ইন্নামা): এখানে প্রথম শব্দ 'ক্বালু' (قَالُوا) এর শেষে মাদ্-এর হরফ (ওয়াও সাকিন) এবং পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামজা এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মাদ্ ও হামজা পৃথক দুটি শব্দে থাকলে তাকে মাদ্দ-এ-মুনফাসিল বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে টেনে পড়তে হয়।
  2. ২. ওয়াজিব গুন্নাহ (Wajib Ghunnah) (إِنَّمَا)
    إِنَّمَا (ইন্নামা): এখানে নূন হরফের ওপর তাসদীদ (ّ) রয়েছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, নূন বা মীম হরফে তাসদীদ থাকলে সেখানে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা বাধ্যতামূলক।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (وَإِذَا / قِيلَ / لَا / تُفْسِدُوا / فِي / قَالُوا / إِنَّمَا)
    وَإِذَا (যা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।

    قِيلَ (ক্বী-): যেরের পর ইয়া সাকিন আসায় ১ আলিফ টান হবে।

    لَا (লা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।

    تُفْسِدُوا (দূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন আসায় ১ আলিফ টান হবে।

    فِي (ফী-): যেরের পর ইয়া সাকিন আসায় ১ আলিফ টান হবে।

    قَالُوا (ক্বা-): ক্বাফ-এর সাথে খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।

    إِنَّمَا (মা-): নূনের গুন্নাহর পর যবরের সাথে খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।
  4. ৪. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (قِيلَ / قَالُوا / الْأَرْضِ / مُصْلِحُونَ)
    قِيلَ / قَالُوا (ক্বী- / ক্বা-): 'ক্বাফ' (ق) হরফটি মোটা হরফ, তাই এটি ভারী স্বরে পড়তে হবে।

    الْأَرْضِ (আর-দ্বি): এখানে 'র' সাকিন এবং তার ডানে যবর থাকায় 'র' মোটা হবে। এছাড়া 'দ্বদ' (ض) হরফটি সবসময় মোটা করে পড়তে হয়।

    مُصْلِحُونَ (সো-): 'সোয়াদ' (ص) একটি মোটা হরফ, তাই এটি পড়ার সময় ভারী হবে।
  5. ৫. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম স্পষ্ট করা) (لَهُمْ لَا)
    لَهُمْ لَا (হুম-লা): এখানে মীম সাকিনের পর 'লাম' এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মীম সাকিনের পর মীম বা বা ছাড়া অন্য হরফ আসলে মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (مُصْلِحُونَ)
    مُصْلِحُونَ (হূ-ন): আয়াতের একদম শেষ হরফ 'নূন' সাকিন হয়ে গেছে (থামার কারণে)। সাকিন হওয়া হরফের ঠিক আগে মাদ্-এর হরফ (পেশের পর ওয়াও সাকিন) থাকায় একে ৩ আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে টেনে পড়তে হয়।
১২ أَلَا আলা--- إِنَّهُمْ ইন্নাহুম هُمُ হুমু الْمُفْسِدُونَ আল-মুফসিদূন وَلَٰكِن ওয়া-লা--- لَّا ল্লা يَشْعُرُونَ ইয়াশ’উরূন

(আলা--- ইন্নাহুম হুমুল-মুফসিদূন ওয়া-লা---কিন ল্লা ইয়াশ’উরূন)

অর্থ: শুনে রেখো, নিশ্চয় তারাই ফাসাদকারী; কিন্তু তারা উপলব্ধি করে না।

Meaning: Unquestionably, it is they who are the corrupters, but they perceive it not.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-мুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (أَلَا إِنَّهُمْ)
    أَلَا إِنَّهُمْ (আলা---ইন্নাহুম): এখানে প্রথম শব্দ 'আলা' এর শেষে মাদ্-এর হরফ (আলিফ) এবং পরবর্তী শব্দের শুরুতে হামজা এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মাদ্ ও হামজা পৃথক দুটি শব্দে থাকলে তাকে মাদ্দ-এ-мুনফাসিল বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ দীর্ঘ করে টেনে পড়তে হয়।
  2. ২. ওয়াজিব গুন্নাহ (Wajib Ghunnah) (إِنَّهُمْ)
    إِنَّهُمْ (ইন্নাহুম): এখানে নূন হরফের ওপর তাসদীদ (ّ) রয়েছে। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী, নূন বা মীম হরফে তাসদীদ থাকলে সেখানে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা বাধ্যতামূলক।
  3. ৩. ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) (وَلَٰكِن لَّا)
    وَلَٰكِن لَّا (ওয়ালাকিল-লা): এখানে নূন সাকিনের পর ইদগামের হরফ 'লাম' (ل) এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিন বা তানভীনের পর 'লাম' অথবা 'র' আসলে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই সরাসরি পরবর্তী হরফের সাথে মিলিয়ে দ্রুত পড়তে হয়।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (أَلَا / وَلَٰكِن / لَّا)
    وَلَٰكِن (লা-): এখানে লাম-এর ওপর খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।

    لَّا (লা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান হবে।
  5. ৫. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম স্পষ্ট করা) (إِنَّهُمْ هُمُ)
    إِنَّهُمْ هُمُ (হুম-হুমু): এখানে মীম সাকিনের পর 'হা' এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মীম সাকিনের পর মীম বা বা ছাড়া অন্য হরফ আসলে মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  6. ৬. তাখফিম বা মোটা করা (Tafkhim) (يَشْعُرُونَ)
    يَشْعُرُونَ (রূ-): এখানে 'র' হরফের ওপর পেশ থাকায় 'র' অক্ষরটি মোটা বা ভারী আওয়াজে পড়তে হবে।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (الْمُفْسِدُونَ / يَشْعُرُونَ)
    الْمُفْسِدُونَ (দূ-ন) এবং يَشْعُرُونَ (রূ-ন): আয়াতের মাঝখানে এবং শেষে যেখানেই থামবেন, সাকিন হওয়া হরফের ঠিক আগে মাদ্-এর হরফ (ওয়াও সাকিন) থাকায় এটি ৩ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়।
  8. ৯. আল-কামারিয়া (লাম স্পষ্ট) (الْمُفْسِدُونَ)
    الْمُفْسِدُونَ: “الـ” এর পরে কামারী হরফ (م) এসেছে, তাই লাম স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
১৩ وَإِذَا ওয়া-ইযা قِيلَ ক্বীলা لَهُمْ লাহুম آمِنُوا আ-минূ كَمَا কামা آمَنَ আ-মানা النَّاسُ আন্-নাসু قَالُوا ক্বালূ--- أَنُؤْمِنُ আনু’মিনু كَمَا কামা آمَنَ আ-মানা السُّفَهَاءُ ۗ আস্-সুফাহা---উ أَلَا আলা--- إِنَّهُمْ ইন্নাহুম هُمُ হুমু السُّفَهَاءُ আস্-সুফাহা---উ وَلَٰكِن ওয়া-লাকিন لَّا ল্লা يَعْلَمُونَ ইয়া’লামূন

(ওয়া-ইযা ক্বীলা লাহুম আ-минূ কামা আ-মানা আন্-নাসু ক্বালূ--- আনু’মিনু কামা আ-মানা আস্-সুফাহা---উ; আলা--- ইন্নাহুম হুমুস্-সুফাহা---উ ওয়া-লাকিন ল্লা ইয়া’লামূন)

অর্থ: আর যখন তাদেরকে বলা হয়—যেভাবে মানুষ ঈমান এনেছে, তোমরাও ঈমান আনো—তারা বলে, আমরা কি নির্বোধদের মতো ঈমান আনব? শুনে রেখো, নিশ্চয় তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না।

Meaning: And when it is said to them, “Believe as the people have believed,” they say, “Should we believe as the foolish have believed?” Unquestionably, it is they who are the foolish, but they do not know.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (وَإِذَا / قِيلَ / آمِنُوا / كَمَا / النَّاسُ / قَالُوا / وَلَٰكِن / لَّا)
    وَإِذَا (যা-): “ذَا” অংশে যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।

    قِيلَ (ক্বী-): যেরের পর ইয়া সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।

    آمِنُوا (নূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।

    كَمَا (মা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।

    النَّاسُ (না-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।

    قَالُوا (ক্বা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।

    وَلَٰكِن (লা-): খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান।

    لَّا (লা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।
  2. ২. মাদ্দ-এ-বদল (১ আলিফ টান) (آمِنُوا / آمَنَ)
    آمِنُوا (আ-): হামজার ওপর খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান।

    آمَنَ (আ-): এখানেও হামজার ওপর খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (قَالُوا أَنُؤْمِنُ / أَلَا إِنَّهُمْ)
    قَالُوا أَنُؤْمِنُ (লূ---আ): প্রথম শব্দের শেষে মাদ্দ এবং পরের শব্দের শুরুতে হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।

    أَلَا إِنَّهُمْ (লা---ই): “أَلَا” এর শেষে মাদ্দ এবং পরের শব্দে হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল (৪ আলিফ টান) (السُّفَهَاءُ)
    السُّفَهَاءُ (হা---উ): একই শব্দের ভেতরে মাদ্দ-এর হরফ এবং হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।
  5. ৫. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) (النَّاسُ / إِنَّهُمْ)
    النَّاسُ (আন্-নাসু): নূন হরফে তাসদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ।

    إِنَّهُمْ (ইন্নাহুম): এখানেও নূন তাসদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ।
  6. ৬. ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) (وَلَٰكِن لَّا)
    وَلَٰكِن لَّا (ওয়ালাকিল-লা): এখানে নূন সাকিনের পর 'লাম' এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, নূন সাকিন বা তানভীনের পর 'লাম' অথবা 'র' আসলে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই সরাসরি পরবর্তী হরফের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। (ইদ্গামের টুল্টিপ: দ)
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (يَعْلَمُونَ)
    يَعْلَمُونَ (মূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে শেষ হরফ সাকিন হয়ে যায়; তার আগে মাদ্দের হরফ (و) থাকায় ৩ আলিফ টেনে পড়তে হয়।
  8. আ. ওয়াকফ চিহ্ন (ۗ) (… ۗ …)
    ۗ: থামার জায়গা/ওয়াকফের ইশারা। এখানে থামলে আগের শব্দের উচ্চারণ নিয়ম (মাদ্দ/সাকিন) পরিবর্তন হতে পারে।
১৪ وَإِذَا ওয়া-ইযা لَقُوا লাকূ الَّذِينَ আল্লাযীনা آمَنُوا আ-মানূ قَالُوا ক্বালূ--- آمَنَّا আ-মান্না وَإِذَا ওয়া-ইযা خَلَوْا খালাও إِلَىٰ ইলা- شَيَاطِينِهِمْ শাইয়াত্বীনিহিম قَالُوا ক্বালূ--- إِنَّا ইন্না مَعَكُمْ মা‘আকুম إِنَّمَا ইন্নামা نَحْنُ নাহনু مُسْتَهْزِئُونَ মুসতাহ্‌যিঊন

(ওয়া-ইযা লাকূ আল্লাযীনা আ-মানূ ক্বালূ--- আ-মান্না; ওয়া-ইযা খালাও ইলা- শাইয়াত্বীনিহিম ক্বালূ--- ইন্না মা‘আকুম ইন্নামা নাহনু মুসতাহ্‌যিঊন)

অর্থ: আর যখন তারা মুমিনদের সাথে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে—আমরা ঈমান এনেছি; আর যখন তারা তাদের শয়তানদের কাছে একান্তে যায়, তখন বলে—আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই আছি; আমরা তো কেবল ঠাট্টা করি।

Meaning: And when they meet those who believe, they say, “We believe”; but when they are alone with their devils, they say, “Indeed, we are with you; we were only mocking.”

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (وَإِذَا / لَقُوا / الَّذِينَ / آمَنُوا / قَالُوا / آمَنَّا / إِلَىٰ / شَيَاطِينِهِمْ / إِنَّا / إِنَّمَا / مُسْتَهْزِئُونَ)
    وَإِذَا (যা-): “ذَا” অংশে যবরের পর আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান। (আয়াতে দুইবার)।

    الَّذِينَ (যী-): যেরের পর ইয়া সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।

    آمَنُوا (নূ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।

    قَالُوا (ক্বা-/লূ-): আলিফ এবং শেষে ওয়াও সাকিন—১ আলিফ টান। (আয়াতে দুইবার)।

    آمَنَّا (না-): যবরের পর আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।

    إِلَىٰ: খাড়া যবর/আলিফ মাকসুরা—১ আলিফ টান।

    شَيَاطِينِهِمْ (ত্বী-): “طِي” অংশে যেরের পর ইয়া সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।

    مُسْتَهْزِئُونَ (ঊ-): পেশের পর ওয়াও সাকিন—১ আলিফ টান।
  2. ২. মাদ্দ-এ-বদল (১ আলিফ টান) (آمَنُوا / آمَنَّا)
    آمَنُوا (আ-): হামজা + মাদ্দ—১ আলিফ টান।

    آمَنَّا (আ-): এখানেও হামজা + মাদ্দ—১ আলিফ টান।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (قَالُوا آمَنَّا / قَالُوا إِنَّا)
    قَالُوا آمَنَّا (লূ---আ): “قَالُوا” এর শেষে মাদ্দ (و) এবং পরের শব্দে হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।

    قَالُوا إِنَّا (লূ---ই): “قَالُوا” এর শেষে মাদ্দ (و) এবং পরের শব্দে হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।
  4. ৪. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) (آمَنَّا / إِنَّا / إِنَّمَا)
    آمَنَّا (আমান্-না): নূন তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ।

    إِنَّا (ইন্-না): নূন তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ।

    إِنَّمَا (ইন্-নামা): নূন তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ।
  5. ৫. লিন-এর নিয়ম (خَلَوْا / شَيَاطِينِهِمْ)
    خَلَوْا (খালাও): যবরের পর ওয়াও সাকিন—লিন; টান নয়, নরমভাবে।

    شَيَاطِينِهِمْ (শাই-): যবরের পর ইয়া সাকিন—লিন; টান নয়, নরমভাবে।
  6. ৬. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম স্পষ্ট করা) (شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا / مَعَكُمْ إِنَّمَا)
    شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا (হিম-ক্বা-): মীম সাকিনের পর ক্বাফ আসায় মীম স্পষ্ট।

    مَعَكُمْ إِنَّمَا (কুম-ইন্-): মীম সাকিনের পর হামজা/আলিফ আসায় মীম স্পষ্ট।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (مُسْتَهْزِئُونَ)
    مُسْتَهْزِئُونَ (ঊ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ নূন সাকিন হয়; তার আগে মাদ্দের হরফ (و) থাকায় ৩ আলিফ টান।
  8. শ. লামে শামসিয়া (الَّذِينَ)
    ال + শামশী হরফ (যেমন ذ): লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়।
১৫ اللَّهُ আল্লাহু يَسْتَهْزِئُ ইয়াস্তাহ্‌যিঊ بِهِمْ বিহিম وَيَمُدُّهُمْ ওয়া ইয়ামুদ্দুহুম فِي ফী طُغْيَانِهِمْ ত্বুঘইয়ানিহিম يَعْمَهُونَ ইয়া’মাহূন

(আল্লাহু ইয়াস্তাহ্‌যিঊ বিহিম ওয়া ইয়ামুদ্দুহুম ফী ত্বুঘইয়ানিহিম ইয়া’মাহূন)

অর্থ: আল্লাহ তাদের সঙ্গে ঠাট্টা করেন এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় ঢিল দিয়ে বাড়িয়ে দেন—তারা অন্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়।

Meaning: Allah mocks them and prolongs them in their transgression; they wander blindly.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. আল্লাহ শব্দের লাম (তাখফিম - মোটা) (اللَّهُ)
    اللَّهُ (আল্লাহু): যেহেতু শব্দটি দিয়ে আয়াত শুরু হয়েছে, তাই আল্লাহ শব্দের লাম-কে অত্যন্ত মোটা/ভারী করে পড়তে হয়।
  2. ২. হামজা (هس — নাবরা) (يَسْتَهْزِئُ)
    يَسْتَهْزِئُ: এখানে হামজা আছে (ئ)। তাজবীদের নিয়ম অনুযায়ী হামজা উচ্চারণে স্বরযন্ত্রে হালকা “নাবরা/ঝটকা” দিয়ে স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (فِي / طُغْيَانِهِمْ)
    فِي (ফী-): যেরের পর ইয়া সাকিন থাকায় ১ আলিফ টান।

    طُغْيَانِهِمْ (য়া-): এখানে আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।
  4. ৪. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) (بِهِمْ وَ / يَمُدُّهُمْ فِي / طُغْيَانِهِمْ يَ)
    بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ: মীম সাকিনের পর ওয়াও আসায় মীম স্পষ্ট।

    وَيَمُدُّهُمْ فِي: মীম সাকিনের পর ফা আসায় মীম স্পষ্ট।

    طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ: মীম সাকিনের পর ইয়া আসায় মীম স্পষ্ট।
  5. ৫. তাখফিম (মোটা) (طُغْيَانِهِمْ)
    طُغْيَانِهِمْ: ‘ত্বোয়া’ (ط) এবং ‘গাইন’ (غ) মোটা হরফ—ভারী স্বরে উচ্চারণ হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (يَعْمَهُونَ)
    يَعْمَهُونَ (হূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ নূন সাকিন হয়; তার আগে ওয়াও মাদ্দ থাকায় ৩ আলিফ টান।
১৬ أُولَٰئِكَ উলা---ইকা الَّذِينَ আল্লাযীনা اشْتَرَوُا ইশতারাও الضَّلَالَةَ আদ্-দালালাতা بِالْهُدَىٰ বিল-হুদা فَمَا ফামা رَبِحَت রাবিহাত تِّجَارَتُهُمْ ত্‌তিজারাতুহুম وَمَا ওয়া-মা كَانُوا কানূ مُهْتَدِينَ মুহতাদীন

(উলা---ইকা আল্লাযীনা ইশতারাও আদ্-দালালাতা বিল-হুদা ফামা রাবিহাত-ত্‌তিজারাতুহুম ওয়া-মা কানূ মুহতাদীন)

অর্থ: তারাই তারা, যারা হিদায়াতের বদলে গোমরাহি ক্রয় করেছে; ফলে তাদের ব্যবসা লাভবান হয়নি, আর তারা হিদায়াতপ্রাপ্তও ছিল না।

Meaning: Those are the ones who have purchased error in exchange for guidance, so their transaction has brought no profit, nor were they guided.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) (تِّجَارَتُهُمْ وَمَا)
    تِّجَارَتُهُمْ وَمَا (হুম-ওয়া): মীম সাকিনের পর ওয়াও আসায় মীমকে গুন্নাহ ছাড়া একদম স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
  2. ২. মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল (৪ আলিফ টান) (أُولَٰئِكَ)
    أُولَٰئِكَ (উলা---ইকা): একই শব্দের ভেতরে মাদ্দ ও হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (الَّذِينَ / بِالْهُدَىٰ / تِّجَارَتُهُمْ / كَانُوا)
    الَّذِينَ (যী-): যেরের পর ইয়া সাকিন—১ আলিফ টান।

    بِالْهُدَىٰ (দা-): “ىٰ” (খাড়া যবর/আলিফ মাকসুরা)—১ আলিফ টান।

    تِّجَارَتُهُمْ (জা-): জীমের পরে আলিফ—১ আলিফ টান।

    كَانُوا (কা-/নূ-): আলিফ ও শেষে ওয়াও—১ আলিফ করে টান।
  4. ৪. ইদগাম-এ-মিছলাইন (মিলে যাওয়া) (رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ)
    رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ: প্রথম “ت” এর পর তাশদীদযুক্ত “تّ” আসায় দুই “ত” মিলে একসাথে পড়তে হয় (ইদগাম-এ-মিছলাইন)।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (مُهْتَدِينَ)
    مُهْتَدِينَ (দী-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ নূন সাকিন হয়; তার আগে “ي” মাদ্দ থাকায় ৩ আলিফ টান।
  6. শ. লামে শামসিয়া (الَّذِينَ / الضَّلَالَةَ)
    ال + শামশী হরফ (যেমন ذ/ض): লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়।
১৭ مَثَلُهُمْ মাসালুহুম كَمَثَلِ কামাসালি الَّذِي আল্লাযী اسْتَوْقَدَ ইস্তাওকাদা نَارًا নারাঁ فَلَمَّا ফাল্যাম্মা--- أَضَاءَتْ আদ্বোয়া---আত مَا মা حَوْلَهُ হাওলাহু ذَهَبَ যাহাবা اللَّهُ আল্লাহু بِنُورِهِمْ বিনূরিহিম وَتَرَكَهُمْ ওয়া তারাকাহুম فِي ফী ظُلُمَاتٍ যুলুমাতিন لَّا ল্লা يُبْصِرُونَ ইউব্‌সিরূন

(মাসালুহুম কামাসালি আল্লাযী ইস্তাওকাদা নারাঁ ফাল্যাম্মা--- আদ্বোয়া---আত মা হাওলাহু যাহাবাল্লাহু বিনূরিহিম ওয়া তারাকাহুম ফী যুলুমাতিন ল্লা ইউব্‌সিরূন)

অর্থ: তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির মতো, যে আগুন জ্বালাল; অতঃপর যখন তা তার চারপাশ আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের আলো নিয়ে গেলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন—তারা দেখে না।

Meaning: Their example is like one who kindled a fire; when it illuminated what was around him, Allah took away their light and left them in darknesses—they do not see.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ইজহার-এ-শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) (مَثَلُهُمْ كَ / بِنُورِهِمْ وَ / تَرَكَهُمْ فِي)
    مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ: মীম সাকিনের পর কাফ—মীম স্পষ্ট।

    بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ: মীম সাকিনের পর ওয়াও—মীম স্পষ্ট।

    وَتَرَكَهُمْ فِي: মীম সাকিনের পর ফা—মীম স্পষ্ট।
  2. ২. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (فَلَمَّا أَضَاءَتْ)
    فَلَمَّا أَضَاءَتْ (মা---আ): “فَلَمَّا” এর শেষে মাদ্দ (ا) এবং পরের শব্দ হামজা দিয়ে শুরু—৪ আলিফ টান।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল (৪ আলিফ টান) (أَضَاءَتْ)
    أَضَاءَتْ (দ্বোয়া---আত): একই শব্দে মাদ্দ + হামজা—৪ আলিফ টান।
  4. ৪. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) (فَلَمَّا)
    فَلَمَّا: মীম তাশদীদ (مّ) থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ করা ওয়াজিব।
  5. ৫. ইখফা-এ-হাকীকী (نَارًا فَ)
    نَارًا فَلَمَّا: তানভীনের পর ফা (ف) আসায় ইখফা—১ আলিফ গুন্নাহসহ।
  6. ৬. ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ (ظُلُمَاتٍ لَّا)
    ظُلُمَاتٍ لَّا: তানভীনের পর লাম আসায় গুন্নাহ ছাড়া ইদগাম হবে।
  7. ৭. আল্লাহ শব্দের লাম (তাখফিম) (ذَهَبَ اللَّهُ)
    ذَهَبَ اللَّهُ: আল্লাহ শব্দের আগে যবর থাকায় লাম মোটা/ভারী করে পড়তে হয়।
  8. ৮. কলকলাহ (يُبْصِرُونَ)
    يُبْصِرُونَ: “بْ” সাকিন—কলকলাহ হবে (ধাক্কা/echo)।
  9. ৯. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ) (يُبْصِرُونَ)
    يُبْصِرُونَ (রূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে শেষ নূন সাকিন হয়; তার আগে ওয়াও মাদ্দ থাকায় ৩ আলিফ টান।
  10. ল. লিন (اسْتَوْقَدَ / حَوْلَهُ)
    যবরের পর ওয়াও সাকিন (وْ) হলে লিন—টান নয়, নরমভাবে দ্রুত পড়া।
  11. শ. লামে শামসিয়া (الَّذِي)
    ال + শামশী হরফ (ذ): লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়।
১৮ صُمٌّ সুম্মুন بُكْمٌ বুকমুন عُمْيٌ উমইউন فَهُمْ ফাহুম لَا লা يَرْجِعُونَ ইয়ারজি‘ঊন

(সুম্মুন বুকমুন উমইউন ফাহুম লা ইয়ারজি‘ঊন)

অর্থ: তারা বধির, বোবা, অন্ধ—তাই তারা ফিরে আসে না।

Meaning: Deaf, dumb, and blind—so they will not return.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) (فَهُمْ لَا)
    فَهُمْ لَا (হুম-লা): এখানে 'ফাহুম' শব্দের শেষে মীম সাকিন আছে এবং ঠিক তারপরেই 'লাম' এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, মীমকে নাকের বাঁশিতে না আটকে খুব দ্রুত ও স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে হবে। অর্থাৎ এখানে কোনো গুন্নাহ করা যাবে না।
  2. ২. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) (صُمٌّ)
    صُمٌّ (সুম্মুন): মীম হরফে তাসদীদ থাকায় এখানে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব)।
  3. ৩. ইক্বলাব (পরিবর্তন করে গুন্নাহ করা) (صُمٌّ بُكْمٌ)
    صُمٌّ بُكْمٌ (সুম্মুম-বুকমুন): এখানে তানভীনের (দুই পেশ) পর 'বা' ($ب$) হরফ এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তানভীনকে একটি ছোট 'মীম' দ্বারা পরিবর্তন করে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহর সাথে পড়তে হবে।
  4. ৪. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) (عُمْيٌ فَهُمْ)
    عُمْيٌ فَهُمْ (উম-ইুং-ফাহুম): এখানে তানভীনের পর ইখফার হরফ 'ফা' আসায় নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (لَا)
    لَا (লা-): যবরের পর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (يَرْجِعُونَ)
    يَرْجِعُونَ (ঊ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করার কারণে এটি ৩ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
১৯ أَوْ আও كَصَيِّبٍ কাসাইয়্যিবিন مِّنَ ম্মিনা السَّمَاءِ সামা---ই فِيهِ ফীহি ظُلُمَاتٌ যুলুমাতুন وَرَعْدٌ ওয়া রা‘দুন وَبَرْقٌ ওয়া বারক্বুন يَجْعَلُونَ ইয়াজ্-আলূনা أَصَابِعَهُمْ আসাবি‘হুম فِي ফী--- آذَانِهِمْ আযানিহিম مِّنَ ম্মিনা الصَّوَاعِقِ আস্-সাওয়াঈক্বি حَذَرَ হাযারা الْمَوْتِ ۚ আল-মাওতি وَاللَّهُ ওয়াল-ল্লাহু مُحِيطٌ মুহীতুন بِالْكَافِرِينَ বিল-কাফিরীন

(আও কাসাইয়্যিবিন-ম্মিনা আস্-সামা---ই ফীহি যুলুমাতুন-ওয়া রা‘দুন ওয়া বারক্বুন ইয়াজ্-আলূনা আসাবি‘হুম ফী--- আযানিহিম-ম্মিনা আস্-সাওয়াঈক্বি হাযারাল-মাওতি; ওয়াল-ল্লাহু মুহীতুম-বিল-কাফিরীন)

অর্থ: অথবা (তাদের দৃষ্টান্ত) আকাশ থেকে নেমে আসা প্রবল বৃষ্টির মতো—যার মধ্যে আছে অন্ধকার, বজ্র ও বিদ্যুৎ। তারা বজ্রপাতের ভয়ে মৃত্যুর আশঙ্কায় নিজেদের আঙুল কানে ঢুকিয়ে দেয়। আর আল্লাহ কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।

Meaning: Or like a rainstorm from the sky, within which is darkness, thunder, and lightning. They put their fingers in their ears against the thunderclaps in fear of death. And Allah is encompassing of the disbelievers.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) (أَصَابِعَهُمْ فِي — হুম-ফী)
    أَصَابِعَهُمْ فِي (হুম-ফী): এখানে মীম সাকিনের পর 'ফা' আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  2. ২. ইদগাম-এ-মিছলাইন (মীম সাকিনের গুন্নাহ) (آذَانِهِم مِّنَ — হিম-ম্মিনা)
    آذَانِهِم مِّنَ (হিম-ম্মিনা): এখানে মীম সাকিনের পর আবার একটি 'মীম' আসায় দুই মীমকে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল (৪ আলিফ টান) (السَّمَاءِ — সামা---ই)
    السَّمَاءِ (সামা---ই): এখানে মাদ্ ও হামজা একই শব্দের ভেতরে থাকায় ৪ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-মুনফাসিল (৪ আলিফ টান) (فِي آذَانِهِمْ — ফী---আযা...)
    أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ (ফী---আযা...): এখানে 'ফী' শব্দের শেষে মাদ্ এবং পরের শব্দের শুরুতে হামজা থাকায় ৪ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) (فِيهِ / يَجْعَلُونَ / الصَّوَاعِقِ / مُحِيطٌ)
    فِيهِ (ফী-হি): যেরের পর ইয়া মাদ্দ (ي) থাকায় ১ আলিফ টান।

    يَجْعَلُونَ (লূ-): পেশের পর ওয়াও মাদ্দ (و) থাকায় ১ আলিফ টান।

    الصَّوَاعِقِ (সাওয়া-): যবরের পর আলিফ মাদ্দ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।

    مُحِيطٌ (হী-): যেরের পর ইয়া মাদ্দ (ي) থাকায় ১ আলিফ টান।
  6. ৬. ইদগাম-এ-মাআল গুন্নাহ (মিলিয়ে গুন্নাহ করা) (كَصَيِّبٍ مِّنَ — সাইয়্যিবিন-ম্মিনা)
    كَصَيِّبٍ مِّنَ (সাইয়্যিবিন-ম্মিনা): তানভীনের পর 'মীম' আসায় মিলিয়ে গুন্নাহ করতে হবে।
  7. ৭. ইদগাম-এ-মাআল গুন্নাহ (মিলিয়ে গুন্নাহ করা) (ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ — তুন-ওয়া / দুন-ওয়া / ক্বুই-য়া)
    ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ (তুন-ওয়া / দুন-ওয়া / ক্বুই-য়া): এই তিনটি জায়গাতেই তানভীনের পর ইদগামের হরফ আসায় মিলিয়ে গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  8. ৮. ইক্বলাব (পরিবর্তন করে গুন্নাহ করা) (مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ — মুহীতুম-বিল...)
    مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ (মুহীতুম-বিল...): তানভীনের পর 'বা' আসায় মীম দিয়ে পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  9. ৯. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) (يَجْعَلُونَ — ইয়াজ্-আলুনা)
    يَجْعَلُونَ (য়াজ্-আলুনা): কলকলাহর হরফ 'জীম' সাকিন অবস্থায় আসায় ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  10. ১০. আল্লাহ শব্দের লাম (মোটা করা) (وَاللَّهُ — ওয়াল-ল্লাহু)
    وَاللَّهُ (ওয়াল-ল্লাহু): আল্লাহ শব্দের আগের হরফে যবর থাকায় আল্লাহ শব্দের লাম-কে মোটা করে পড়তে হবে।
  11. ১১. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) (بِالْكَافِرِينَ — রী-ন)
    بِالْكَافِرِينَ (রী-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করার কারণে এটি ৩ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
২০ يَكَادُ ইয়াকাদু الْبَرْقُ আল-বারকু يَخْطَفُ ইয়াখতাফু أَبْصَارَهُمْ আবসারাহুম كُلَّمَا কুল্লামা--- أَضَاءَ আদ্বোয়া---আ لَهُم লাহুম مَّشَوْا ম্মাশাও فِيهِ ফীহি وَإِذَا ওয়া ইযা--- أَظْلَمَ আযলামা عَلَيْهِمْ আলাইহিম قَامُوا ক্বামূ وَلَوْ ওয়া লাও شَاءَ শা---আ اللَّهُ আল্লাহু لَذَهَبَ লাযাহাবা بِسَمْعِهِمْ বিসাম'ইহিম وَأَبْصَارِهِمْ ওয়া আবসারিহিম إِنَّ ইন্না اللَّهَ আল্লাহা عَلَىٰ আলা كُلِّ কুল্লি شَيْءٍ শাইইন قَدِيرٌ ক্বাদীর

(ইয়াকাদুল বারকু ইয়াখতাফু আবসারাহুম; কুল্লামা--- আদ্বোয়া---আ লাহুম-ম্মাশাও ফীহি ওয়া ইযা--- আযলামা আলাইহিম ক্বামূ; ওয়া লাও শা---আল্লাহু লাযাহাবা বিসাম'ইহিম ওয়া আবসারিহিম; ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি শাইইন-ক্বাদীর)

অর্থ: বিদ্যুৎ প্রায় তাদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। যখনই তা তাদের জন্য আলোকিত করে, তারা তাতে চলে; আর যখনই তাদের ওপর অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, তারা থমকে দাঁড়ায়। আল্লাহ ইচ্ছে করলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

Meaning: The lightning almost snatches away their sight. Whenever it flashes for them, they walk therein, but when darkness covers them, they stand still. And if Allah willed, He could have taken away their hearing and their sight. Indeed, Allah is over all things competent.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ق / ط / ب
    الْبَرْقُ (ق), يَخْطَفُ (ط), أَبْصَارَهُمْ (ب), وَأَبْصَارِهِمْ (ب): কলকলাহর হরফগুলো সাকিন অবস্থায় আছে। তাই এদেরকে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে।
  2. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) مْ + ك/ق/و/ا
    أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا (مْ + ك), عَلَيْهِمْ قَامُوا (مْ + ق), بِسَمْعِهِمْ وَ (مْ + و), وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ (مْ + ا): মীম সাকিনের পর মীম বা বা ছাড়া অন্য হরফ আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  3. ইদগাম-এ-মিছলাইন (মীম সাকিনের গুন্নাহ) مْ + مّ
    لَهُم مَّشَوْا (লাহুম-ম্মাশাও): মীম সাকিনের পর তাশদীদযুক্ত মীম আসায় দুটি মীমকে মিলিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  4. মাদ্দ-এ-مুত্তাসিল (একই শব্দে মাদ্দ+হামজা) اء
    أَضَاءَ (আদ্বোয়া---আ), شَاءَ (শা---আ): একই শব্দের ভেতরে মাদ্দ-এর হরফের পর হামজা আসায় ৪ বা ৫ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  5. মাদ্দ-এ-مুনফাসিল (পৃথক শব্দে মাদ্দ+হামজা) ا + ا
    كُلَّمَا أَضَاءَ (কুল্লামা--- আ-দ্বোয়া-আ), وَإِذَا أَظْلَمَ (ওয়া ইযা--- আয-লামা): এক শব্দের শেষে মাদ্দ-এর হরফ এবং পরের শব্দের শুরুতে হামজা থাকায় ৪ বা ৫ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  6. ওয়াজিব গুন্নাহ (নূনে তাশদীদ) نّ
    إِنَّ (ইন্না): নূনের ওপর তাশদীদ থাকায় নাকের বাঁশি দিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব।
  7. আল্লাহ শব্দের লাম (মোটা করা) اللّٰه
    وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ (শা-আল্-লাহু), إِنَّ اللَّهَ (ইন্-নাল্-লাহা): আল্লাহ শব্দের আগের হরফে ফাতহা (জবর) থাকায় আল্লাহর লামকে মোটা করে পড়তে হবে।
  8. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ) ٍ + ق
    شَيْءٍ قَدِيرٌ (শাই-ইন্ ক্বাদীর): তানবীন (দ্বি-জের) এর পর ইখফার হরফ ق আসায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
  9. মাদ্দ-এ-আরিয (ওয়াকফের কারণে) ي + سكون
    قَدِيرٌ (ক্বাদীর): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করার কারণে মাদ্দ-এর হরফের পরের হরফে সাকিন হয়ে যাচ্ছে। তাই এখানে ২, ৪ বা ৬ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া যায়।
  10. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) ي / ا / ىٰ
    يَكَادُ (ইয়া-), أَبْصَارَهُمْ (সা-), فِيهِ (ফী-), وَإِذَا (ইযা-), أَظْلَمَ (আ-), قَامُوا (ক্বা-), وَأَبْصَارِهِمْ (সা-), عَلَىٰ (আলা-), كُلِّ (কুল্-লি-), قَدِيرٌ (দী-): যেসব স্থানে মাদ্দের হরফ (ا، و، ي) এর পরে হামজা বা সাকিন নেই, সেসব স্থানে ১ আলিফ পরিমাণ টানতে হবে।
  11. লীন (নরম করে পড়া) وْ / يْ (আগে ফাতহা)
    مَّشَوْا (শাও), عَلَيْهِمْ (লাই), قَامُوا (মূ), وَلَوْ (লাও), شَيْءٍ (শাই): যবর (ফাতহা) এর পর ওয়াও সাকিন বা ইয়া সাকিন আসলে তা লীন। এগুলো টান না দিয়ে নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়।
  12. তাখফিম (রা মোটা) ر (ফাতহা)
    الْبَرْقُ (বার-): রা-এর হরকত ফাতহা (জবর) থাকায় রা-কে মোটা করে পড়তে হবে।
  13. তারক্বীক্ব (রা চিকন) ر (কসরা)
    وَأَبْصَارِهِمْ (রি-): রা-এর হরকত কসরা (ই) থাকায় রা-কে চিকন বা পাতলা করে পড়তে হবে।
  14. লামে শামসিয়া (ال + شمسي حرف) ال + ب
    الْبَرْقُ: 'ال' এর পরে শামসি হরফ 'ب' আসায় লাম পড়া হয় না। সরাসরি 'বার-কু' পড়তে হবে।
২১ يَا ইয়া--- أَيُّهَا আয়্যুহা--- النَّاسُ আন্-নাসু اعْبُدُوا আবুদূ رَبَّكُمُ রাব্বাকুমু الَّذِي আল্লাযী خَلَقَكُمْ খালাকাকুম وَالَّذِينَ ওয়াল্লাযীনা مِن মিন্ قَبْلِكُمْ কাবলিকুম لَعَلَّكُمْ লা‘আল্লাকুম تَتَّقُونَ তাত্তাকূন

(ইয়া--- আয়্যুহান্-নাসু আবুদূ রাব্বাকুমুল্লাযী খালাকাকুম ওয়াল্লাযীনা মিন্ কাবলিকুম লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন)

অর্থ: হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।

Meaning: O mankind, worship your Lord, who created you and those before you, that you may become righteous.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. মাদ্দ-এ-مুনফাসিল (পৃথক শব্দে মাদ্দ+হামজা) ا + ا
    يَا أَيُّهَا (ইয়া--- আয়্যুহা): 'يَا' শব্দের শেষে মাদ্দ-এর হরফ (আলিফ) এবং পরের শব্দ 'أَيُّهَا' এর শুরুতে হামজা থাকায় ৪ বা ৫ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  2. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) ا / ي / و
    أَيُّهَا (হা---), النَّاسُ (না-), الَّذِي (যী-), خَلَقَكُمْ (খা-), وَالَّذِينَ (যী-), تَتَّقُونَ (কূ-): যেসব স্থানে মাদ্দের হরফ (ا، و، ي) এর পরে হামজা বা সাকিন নেই, সেসব স্থানে ১ আলিফ পরিমাণ টানতে হবে।
  3. ওয়াজিব গুন্নাহ (নূনে তাশদীদ) نّ
    النَّاسُ (আন্-না-সু): নূনের ওপর তাশদীদ থাকায় নাকের বাঁশি দিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব।
  4. লামে শামসিয়া (ال + شمسي حرف) ال + ن / ذ
    النَّاسُ (ال + ن): লাম পড়া হয় না, সরাসরি 'আন্-না-সু'।
    وَالَّذِينَ (ال + ذ): লাম পড়া হয় না, সরাসরি 'ওয়াল্লাযীনা'।
  5. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ب / ق
    اعْبُدُوا (ب), خَلَقَكُمْ (ق): কলকলাহর হরফগুলো সাকিন অবস্থায় আছে। তাই এদেরকে ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  6. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) مْ + و/ل/ت
    خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ (কুম-ওয়া), قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ (কুম-লা), لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (কুম-তা): মীম সাকিনের পর মীম বা বা ছাড়া অন্য হরফ আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  7. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ق
    مِن قَبْلِكُمْ (মিন্-কাব্-লি-কুম): নুন সাকিনের পর ইখফার হরফ 'ق' আসায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'মিং-কাব্লিকুম'।
২২ الَّذِي আল্লাযী جَعَلَ জা‘আলা لَكُمُ লাকুমু الْأَرْضَ আল-আরদ্বা فِرَاشًا ফিরাশাঁ وَالسَّمَاءَ ওয়াস্-সামা---আ بِنَاءً বিনা---আন وَأَنزَلَ ওয়া আন্-যালা مِنَ মিনা السَّمَاءِ আস্-সামা---ই مَاءً মা---আন فَأَخْرَجَ ফা-আখরাজা بِهِ বিহি مِنَ মিনা الثَّمَرَاتِ আছ্-ছামারাতি رِزْقًا রিয্ক্বান لَّكُمْ লাকুম فَلَا ফালা تَجْعَلُوا তাজ‘আলূ لِلَّهِ লিল্-লাহি أَندَادًا আন্দাদান وَأَنتُمْ ওয়া আনতুম تَعْلَمُونَ তা‘লামূন

(আল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল-আরদ্বা ফিরাশাঁ ওয়াস্-সামা---আ বিনা---আন ওয়া আন্-যালা মিনাস্-সামা---ই মা---আন ফা-আখরাজা বিহি মিনাছ্-ছামারাতি রিয্ক্বাল-লাকুম; ফালা তাজ‘আলূ লিল্-লাহি আন্দাদান ওয়া আনতুম তা‘লামূন)

অর্থ: যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তা দ্বারা তোমাদের জীবিকার জন্য ফল-ফলাদি উৎপাদন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-শুনে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করো না।

Meaning: Who made for you the earth a bed and the sky a ceiling, and sent down from the sky rain and produced thereby fruits as provision for you. So do not attribute equals to Allah while you know.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (একই শব্দে মাদ্দ+হামজা) اء
    وَالسَّمَاءَ (সামা---আ), بِنَاءً (বিনা---আন), السَّمَاءِ (সামা---ই), مَاءً (মা---আন): একই শব্দের ভেতরে মাদ্দ-এর হরফের পর হামজা আসায় ৪ বা ৫ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  2. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) ا / ي
    الَّذِي (যী-), جَعَلَ (জা-), فِرَاشًا (রা-), الثَّمَرَاتِ (ছা-), رِزْقًا (ক্বা-), فَلَا (লা-), أَندَادًا (দা-): যেসব স্থানে মাদ্দের হরফ (ا، و، ي) এর পরে হামজা বা সাকিন নেই, সেসব স্থানে ১ আলিফ পরিমাণ টানতে হবে।
  3. লামে শামসিয়া (ال + شمسي حرف) ال + س / ث
    وَالسَّمَاءَ (ال + س), السَّمَاءِ (ال + س), الثَّمَرَاتِ (ال + ث): লাম পড়া হয় না, সরাসরি পরের হরফ তাশদীদসহ পড়তে হবে।
  4. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ز/د/ت
    وَأَنزَلَ (আন্-যালা), أَندَادًا (আন্-দাদান), وَأَنتُمْ (আন্-তুম): নুন সাকিনের পর ইখফার হরফ আসায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ করে পড়তে হবে। উচ্চারণ যথাক্রমে 'ওয়া আজ-যালা', 'আদ-দাদান', 'ওয়া আত-তুম'।
  5. তাখফিম (রা মোটা) ر (ফাতহা/সাকিন)
    الْأَرْضَ (আর-), فِرَاشًا (রা-), فَأَخْرَجَ (রা-), الثَّمَرَاتِ (রা-): রা-এর হরকত ফাতহা বা সাকিন থাকায় এবং আগের হরফ ফাতহা থাকায় রা-কে মোটা করে পড়তে হবে।
  6. তারক্বীক্ব (রা চিকন) رِ
    رِزْقًا (রি-): রা-এর হরকত কসরা থাকায় রা-কে চিকন বা পাতলা করে পড়তে হবে।
  7. ইদগাম-এ-বিলা গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) ً + ل
    رِزْقًا لَّكُمْ (রিয্ক্বাল-লাকুম): তানবীন (اً) এর পর লাম আসায় গুন্নাহ ছাড়াই সরাসরি মিলিয়ে পড়তে হবে।
  8. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) مْ + ف/ت
    لَّكُمْ فَلَا (কুম-ফা), وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ (তুম-তা): মীম সাকিনের পর মীম বা বা ছাড়া অন্য হরফ আসায় মীমকে স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  9. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ج
    تَجْعَلُوا (তাজ-আলূ): জীম সাকিন অবস্থায় থাকায় ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  10. লীন (নরম করে পড়া) و (আগে ফাতহা)
    تَجْعَلُوا (লূ), تَعْلَمُونَ (মূ): যবর (ফাতহা) এর পর ওয়াও সাকিন আসায় তা নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়।
  11. আল্লাহ শব্দের লাম (চিকন) لِلَّهِ
    لِلَّهِ (লিল্-লাহি): আল্লাহ শব্দের আগের হরফে কসরা থাকায় লাম-কে চিকন বা পাতলা করে পড়তে হবে।
২৩ وَإِن ওয়া ইং كُنتُمْ কুনতুম فِي ফী رَيْبٍ রাইবিং مِّمَّا মিম্মা نَزَّلْنَا নাযযালনা عَلَىٰ আলা عَبْدِنَا আবদিনা فَأْتُوا ফাতূ بِسُورَةٍ বিসূরাতিং مِّن মিম مِّثْلِهِ মিছলিহি وَادْعُوا ওয়াদ্উ شُهَدَاءَكُم শুহাদা-আকুম مِّن মিং دُونِ দূনি اللَّهِ আল্লাহি إِن ইন كُنتُمْ কুনতুম صَادِقِينَ সাদিকীন

(ওয়া ইং কুনতুম ফী রাইবিম-মিম্মা নাযযালনা আলা আবদিনা ফাতূ বিসূরাতিম-মিম মিছলিহি ওয়াদ্উ শুহাদা-আকুম মিং দূনিল্লাহি ইন কুনতুম সাদিকীন)

অর্থ: আর যদি তোমরা সন্দেহে থাকো যা আমি আমার বান্দার প্রতি নাযিল করেছি, তবে তার মতো একটি সূরা নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ছাড়া তোমাদের সাক্ষীদেরকে ডেকে নাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।

Meaning: And if you are in doubt about what We have revealed to Our servant, then produce a surah like it and call upon your witnesses other than Allah, if you should be truthful.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ن + ك / د
    وَإِن كُنتُمْ (ওয়া ইং কুনতুম): নুন সাকিন (إِن) এর পর ইখফার হরফ 'কাফ' (ك) আসায় ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
    مِّن دُونِ (মিং দূনি): নুন সাকিন (مِن) এর পর ইখফার হরফ 'দাল' (د) আসায় ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
  2. ২. ইদগাম-এ-মিছলাইন (মীম সাকিনের গুন্নাহ) مْ + مّ
    كُنتُمْ مِّمَّا (কুনতুম মিম্মা): মীম সাকিন (تُمْ) এর পর তাশদীদযুক্ত মীম (مّ) আসায় দুই মীম মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  3. ৩. ইদগাম বি গুন্নাহ (তানবিনের ইদগাম) ٍ + م
    رَيْبٍ مِّمَّا (রাইবিম মিম্মা): তানবিন (رَيْبٍ) এর পর মীম (م) আসায় তানবিনকে মীমের সাথে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
    بِسُورَةٍ مِّن (বিসূরাতিম মিন): তানবিন (سُورَةٍ) এর পর মীম (م) আসায় তানবিনকে মীমের সাথে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  4. ৪. ইদগাম বি গুন্নাহ (নুন সাকিনের ইদগাম) ن + م
    مِّن مِّثْلِهِ (মিম মিছলিহি): নুন সাকিন (مِن) এর পর মীম (م) আসায় নুনকে মীমের সাথে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (৪/৫ আলিফ টান) اء
    شُهَدَاءَكُم (শুহাদা-আকুম): একই শব্দে মাদ্দের হরফ আলিফ (ا) এর পর হামজা (ء) আসায় ৪ বা ৫ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আসলি / মাদ্দে তবিয়ি (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ي / ا / و / ىٰ
    فِي (ফী): ইয়া মাদ্দিয়া থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    مِّمَّا (মিম্মা): শেষের আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    نَزَّلْنَا (নাযযালনা): শেষের আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    عَلَىٰ (আলা): শেষের আলিফ মাকসুরা (ىٰ) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    عَبْدِنَا (আবদিনা): শেষের আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    فَأْتُوا (ফাতূ): ওয়াও মাদ্দিয়া (و) এর আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    وَادْعُوا (ওয়াদ্উ): ওয়াও মাদ্দিয়া (و) এর আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    دُونِ (দূনি): ওয়াও মাদ্দিয়া (و) এর আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-লিন (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ي (আগে ফাতহা)
    رَيْبٍ (রাইবিন): ইয়া সাকিন (ي) এর আগে ফাতহা থাকায় এটি মাদ্দে লিন।
  8. ৮. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ب / د
    عَبْدِنَا (আবদিনা): বায় (ب) সাকিন অবস্থায় থাকায় কলকলা করতে হবে।
    وَادْعُوا (ওয়াদ্উ): দাল (د) সাকিন অবস্থায় থাকায় কলকলা করতে হবে।
  9. ৯. রা-এর তাফখিম (মোটা করা) ر (ফাতহা)
    رَيْبٍ (রাইবিন): রা (ر) এর হরকত ফাতহা থাকায় মোটা করে পড়তে হবে।
    بِسُورَةٍ (বিসূরাতিন): রা (ر) এর হরকত ফাতহা থাকায় মোটা করে পড়তে হবে।
  10. আল্লাহ শব্দের লাম (তারক্বীক্ব) اللَّهِ
    اللَّهِ (আল্লাহি): 'دُونِ اللَّهِ' - আল্লাহ শব্দের আগের হরফে কসরা থাকায় লাম-কে চিকন বা পাতলা করে পড়তে হবে।
  11. ১১. মাদ্দ-এ-আরিয (২/৪/৬ আলিফ টান) ي + سكون
    صَادِقِينَ (সাদিকীন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় মাদ্দের হরফ ইয়া (ي) এর পর নুন (ن) সাকিন হয়ে যাওয়ায় ২, ৪ বা ৬ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
২৪ فَإِن ফইন لَّمْ লাম تَفْعَلُوا তাফআলূ وَلَن ওয়ালান تَفْعَلُوا তাফআলূ فَاتَّقُوا ফাত্তাকূ النَّارَ আন্নারা الَّتِي আল্লাতী وَقُودُهَا ওয়াকূদুহা النَّاسُ আন্নাসু وَالْحِجَارَةُ ওয়ালহিজারাতু أُعِدَّتْ উইদ্দাত لِلْكَافِرِينَ লিলকাফিরীন

(ফইল-লাম তাফআলূ ওয়া লান তাফআলূ ফাত্তাকুন্-নারা আল্লাতী ওয়াকূদুহান্-নাসু ওয়ালহিজারাতু উইদ্দাত লিলকাফিরীন)

অর্থ: যদি তোমরা তা না করতে পারো - এবং তোমরা কখনো তা পারবে না - তবে সেই আগুনকে ভয় করো যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর। তা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফিরদের জন্য।

Meaning: But if you do not do it - and you will never do it - then fear the Fire whose fuel is people and stones, prepared for the disbelievers.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. ইদগাম বি লা গুন্নাহ (গুন্নাহ ছাড়া ইদগাম) ن + ل
    فَإِن لَّمْ (ফইল লাম): নুন সাকিন (إِن) এর পর লাম (ل) আসায় নুনকে লামের মধ্যে মিলিয়ে দিতে হবে। গুন্নাহ করা যাবে না। উচ্চারণ: ফইল-লাম।
  2. ২. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) مْ + ت
    لَّمْ تَفْعَلُوا (লাম তাফআলূ): মীম সাকিন (لَمْ) এর পর ত্বা (ت) আসায় মীম স্পষ্ট পড়তে হবে।
  3. ৩. ইদগামে শামসিয়াহ (সূর্য বর্ণে লামের ইদগাম) ال + ن
    النَّارَ (আন্নারা): আলিফ লাম (ال) এর পর শামসি হরফ নুন (ن) আসায় লাম পড়া হয় না। নুন তাশদীদযুক্ত হয়ে পড়ে।
    النَّاسُ (আন্নাসু): একই নিয়মে লাম পড়া হয় না।
  4. ৪. ওয়াজিব গুন্নাহ (নুনে তাশদীদ) نّ
    النَّارَ (আন্-না-রা): নুন তাশদীদযুক্ত থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ করতে হবে।
    النَّاسُ (আন্-না-সু): একই নিয়মে ১ আলিফ গুন্নাহ করতে হবে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-আসলি / মাদ্দে তবিয়ি (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) و / ا / ي
    فَاتَّقُوا (ফাত্তাকূ): ওয়াও মাদ্দিয়া (و) এর আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    النَّارَ (আন্নারা): আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    الَّتِي (আল্লাতী): ইয়া মাদ্দিয়া (ي) এর আগে কসরা থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    وَقُودُهَا (ওয়াকূদুহা): প্রথমে ওয়াও মাদ্দিয়া (و) এর আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে। শেষে হা (ه) এর পর আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    النَّاسُ (আন্নাসু): আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    وَالْحِجَارَةُ (ওয়ালহিজারাতু): জিম (ج) এর পর আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    لِلْكَافِرِينَ (লিলকাফিরীন): কাফ (ك) এর পর আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-লিন (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) و (আগে ফাতহা)
    تَفْعَلُوا (তাফআলূ): ওয়াও সাকিন (و) এর আগে ফাতহা থাকায় এটি মাদ্দে লিন। (দুইবার)
  7. ৭. রা-এর তাফখিম (মোটা করা) ر (ফাতহা)
    النَّارَ (আন্নারা): রা (ر) এর হরকত ফাতহা থাকায় মোটা করে পড়তে হবে।
    وَالْحِجَارَةُ (ওয়ালহিজারাতু): রা (র) এর হরকত ফাতহা থাকায় মোটা করে পড়তে হবে।
  8. ৮. রা-এর তরকিক (পাতলা করা) ر (কসরা)
    لِلْكَافِرِينَ (লিলকাফিরীন): রা (ر) এর হরকত কসরা থাকায় পাতলা করে পড়তে হবে।
  9. ৯. ইজহার (স্পষ্ট করা) ت + ل
    أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ (উইদ্দাত লিলকাফিরীন): তায় সাকিন (تْ) এর পর লাম (ل) আসায় তা স্পষ্ট পড়তে হবে।
  10. ১০. মাদ্দ-এ-আরিয (২/৪/৬ আলিফ টান) ي + سكون
    لِلْكَافِرِينَ (লিলকাফিরীন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় মাদ্দের হরফ ইয়া (ي) এর পর নুন (ن) সাকিন হয়ে যাওয়ায় ২, ৪ বা ৬ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
২৫ وَبَشِّرِ ওয়াবাশশিরি الَّذِينَ আল্লাযীনা آمَنُوا আমানূ وَعَمِلُوا ওয়া‘আমিলূ الصَّالِحَاتِ আস্সালিহাতি أَنَّ আন্না لَهُمْ লাহুম جَنَّاتٍ জান্নাতিন تَجْرِي তাজরী مِن মিন্ تَحْتِهَا তাহ্তিহা الْأَنْهَارُ আল-আনহারু كُلَّمَا কুল্লামা رُزِقُوا রুযিকূ مِنْهَا মিনহা مِن মিন ثَمَرَةٍ ছামারাতিন رِّزْقًا রিযকান قَالُوا কালূ هَٰذَا হা-যা الَّذِي আল্লাযী رُزِقْنَا রুযিকনা مِن মিন قَبْلُ কাবলু وَأُتُوا ওয়া উতূ بِهِ বিহি مُتَشَابِهًا মুতা-শাবিহান وَلَهُمْ ওয়া লাহুম فِيهَا ফীহা أَزْوَاجٌ আযওয়াজুন مُّطَهَّرَةٌ মুতাহহারাতুন وَهُمْ ওয়া হুম فِيهَا ফীহা خَالِدُونَ খালিদূন

(ওয়াবাশশিরিল্লাযীনা আমানূ ওয়া‘আমিলুস্সালিহাতি আন্না লাহুম জান্নাতিন তাজরী মিন্ তাহ্তিহাল-আনহারু কুল্লামা রুযিকূ মিনহা মিন ছামারাতির-রিযকান কালূ হা-যাল্লাযী রুযিকনা মিন কাবলু ওয়া উতূ বিহি মুতাশাবিহা ওয়া লাহুম ফীহা আযওয়াজুম মুতাহহারাতুন ওয়া হুম ফীহা খালিদূন)

অর্থ: আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে তাদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। যখনই তাদেরকে তার ফল থেকে রিযিক দেওয়া হবে, তারা বলবে, 'এতো আমরা ইতিপূর্বে রিযিক হিসাবে পেয়েছিলাম।' আর তাদেরকে দেওয়া হবে সদৃশাকার। আর তাদের জন্য সেখানে থাকবে পবিত্র সঙ্গিনী। আর তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

Meaning: And give good tidings to those who believe and do righteous deeds that they will have gardens beneath which rivers flow. Whenever they are provided with fruit therefrom as provision, they will say, "This is what we were provided with before." And it will be given to them in likeness. And they will have therein purified spouses, and they will abide therein eternally.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ق / ب
    رِّزْقًا (রিয-কান): এখানে 'ق' (ক্বাফ) সাকিন অবস্থায় আছে। ক্বাফ কলকলার হরফ। তাই ক্বাফ উচ্চারণের সময় ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
    رُزِقْنَا (রু-যিক-না): এখানে 'ق' (ক্বাফ) সাকিন অবস্থায় আছে। তাই কলকলা করতে হবে।
    مِن قَبْلُ (মিন কাব-লু): 'قَبْلُ' শব্দে 'ق' (ক্বাফ) সাকিন অবস্থায় আছে। তাই কলকলা করতে হবে।
    مُتَشَابِهًا (মু-তা-শা-বি-হান): শব্দের মাঝে 'ب' (বা) সাকিন অবস্থায় আছে। বা কলকলার হরফ। তাই ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  2. ২. ইদগামে শামসিয়াহ (সূর্য বর্ণে লামের ইদগাম) ال + ل / ص
    الَّذِينَ (আল্লাযীনা): 'ال' এর পর 'ل' (লাম) শামসি হরফ আসায় আলিফ লাম-এর লাম পড়া হয় না। পরিবর্তে পরের লামকে তাশদীদ দিয়ে 'আল্লাযীনা' পড়তে হয়।
    الصَّالِحَاتِ (আস্সালিহাতি): 'ال' এর পর 'ص' (সোয়াদ) শামসি হরফ আসায় লাম পড়া হয় না। সোয়াদ তাশদীদ দিয়ে 'আস্সালিহাতি' পড়তে হয়।
    الْأَنْهَارُ (আল-আনহারু): 'ال' এর পর 'أ' (হামজা) ক্বামারি হরফ আসায় লাম স্পষ্ট পড়তে হয়। এটি ইজহার।
  3. ৩. ওয়াজিব গুন্নাহ (নূনে তাশদীদ টানা) نّ
    أَنَّ (আন্না): নূনে তাশদীদ থাকায় নাকের বাঁশি দিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ টেনে পড়তে হবে।
    جَنَّاتٍ (জান্নাতিন): নূনে তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ টেনে পড়তে হবে।
  4. ৪. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ن + ت
    مِن تَحْتِهَا (মিন্ তাহ্তিহা): নূন সাকিন (مِن) এর পর ইখফার হরফ 'ت' (তা) আসায় নাকের বাঁশি দিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহ করে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'মিন্-তাহ্তিহা' (নূন-এর আওয়াজ নাক থেকে আসবে)।
  5. ৫. ইদগাম বি গুন্নাহ (তানবিনের ইদগাম) ٍ + ر
    ثَمَرَةٍ رِّزْقًا (ছামারাতির রিযকা): তানবিন (ثَمَرَةٍ) এর পর ইদগাম বি গুন্নাহ-র হরফ 'ر' (রা) আসায় তানবিনকে রা-এর মধ্যে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহ দিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'ছামারাতির-রিযকা' (রা তাশদীদযুক্ত)।
  6. ৬. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) مْ + ج / ف
    لَهُمْ جَنَّاتٍ (লাহুম জান্নাতিন): মীম সাকিন (هُمْ) এর পর 'ج' (জিম) আসায় মীম স্পষ্ট পড়তে হবে। গুন্নাহ দেওয়া যাবে না।
    وَلَهُمْ فِيهَا (ওয়া লাহুম ফীহা): মীম সাকিন (هُمْ) এর পর 'ف' (ফা) আসায় মীম স্পষ্ট পড়তে হবে।
    وَهُمْ فِيهَا (ওয়া হুম ফীহা): মীম সাকিন (هُمْ) এর পর 'ف' (ফা) আসায় মীম স্পষ্ট পড়তে হবে।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আসলি / মাদ্দে তবিয়ি (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ا / ي / و / ى
    آمَنُوا (আ-মানূ): প্রথম আলিফ মাদ্দিয়া (ا) টেনে পড়তে হবে।
    الصَّالِحَاتِ (আস্সালিহাতি): 'حَا' (হা) এর আলিফ টেনে পড়তে হবে।
    جَنَّاتٍ (জান্নাতিন): 'نَّا' (না) এর আলিফ টেনে পড়তে হবে।
    تَجْرِي (তাজরী): শেষের 'رِي' (রী) এর ইয়া মাদ্দিয়া টেনে পড়তে হবে।
    تَحْتِهَا (তাহ্তিহা): শেষের 'هَا' (হা) এর আলিফ টেনে পড়তে হবে।
    الْأَنْهَارُ (আল-আনহারু): 'هَارُ' (হারু) এর আলিফ টেনে পড়তে হবে।
    كُلَّمَا (কুল্লামা): শেষের 'مَا' (মা) এর আলিফ টেনে পড়তে হবে।
    مِنْهَا (মিনহা): শেষের 'هَا' (হা) এর আলিফ টেনে পড়তে হবে।
    رِّزْقًا (রিযকান): তানবিন (اً) আলিফ হিসেবে গণ্য, তাই 'ক্বা' টেনে পড়তে হবে।
    قَالُوا (কালূ): প্রথমে 'قَا' (কা) এর আলিফ টানতে হবে। শেষে 'لُوا' (লূ) এর ওয়াও মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    هَٰذَا (হা-যা): প্রথমে 'هَٰ' (হা) এর আলিফ টানতে হবে। শেষে 'ذَا' (যা) এর আলিফ টানতে হবে।
    الَّذِي (আল্লাযী): শেষের 'ذِي' (যী) এর ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    وَأُتُوا (ওয়া উতূ): শেষের 'تُوا' (তূ) এর ওয়াও মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    مُتَشَابِهًا (মুতা-শাবিহান): 'شَا' (শা) এর আলিফ টানতে হবে। শেষে তানবিন আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    فِيهَا (ফীহা): প্রথমে 'فِي' (ফী) এর ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে। শেষে 'هَا' (হা) এর আলিফ টানতে হবে।
    خَالِدُونَ (খালিদূন): প্রথমে 'خَا' (খা) এর আলিফ টানতে হবে। শেষে 'دُونَ' (দূন) এর ওয়াও মাদ্দিয়া টানতে হবে।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-লিন (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) و (আগে ফাতহা)
    قَالُوا (কালূ): শেষের 'لُوا' (লূ) অংশে ওয়াও সাকিনের আগে ফাতহা (لَ) থাকায় এটি মাদ্দে লিন।
    خَالِدُونَ (খালিদূন): শেষের 'دُونَ' (দূন) অংশে ওয়াও সাকিনের আগে ফাতহা (دَ) থাকায় এটি মাদ্দে লিন।
  9. ৯. রা-এর তাফখিম (মোটা করা) ও তরকিক (পাতলা করা) ر (পেশ/ফাতহা = মোটা) | ر (কসরা = পাতলা)
    تَجْرِي (তাজরী): রা-এর হরকত কসরা (رِ) থাকায় পাতলা পড়তে হবে।
    الْأَنْهَارُ (আল-আনহারু): রা-এর হরকত পেশ (رُ) থাকায় মোটা পড়তে হবে।
    رُزِقُوا (রুযিকূ): রা-এর হরকত পেশ (رُ) থাকায় মোটা পড়তে হবে।
    ثَمَرَةٍ (ছামারাতিন): রা-এর হরকত ফাতহা (رَ) থাকায় মোটা পড়তে হবে।
    رِّزْقًا (রিযকান): রা-এর হরকত কসরা (رِ) থাকায় পাতলা পড়তে হবে।
    رُزِقْنَا (রুযিকনা): রা-এর হরকত পেশ (رُ) থাকায় মোটা পড়তে হবে।
    مُّطَهَّرَةٌ (মুতাহহারাতুন): রা-এর হরকত ফাতহা (رَ) থাকায় মোটা পড়তে হবে।
  10. ১০. মাদ্দ-এ-আরিয (২/৪/৬ আলিফ টান) و + سكون
    خَالِدُونَ (খালিদূন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় মাদ্দের হরফ ওয়াও (و) এর পর নূন (ن) সাকিন হয়ে যায়। তাই ২, ৪ বা ৬ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
২৬ إِنَّ ইন্না اللَّهَ আল্লাহা لَا লা يَسْتَحْيِي ইয়াসতাহয়ী أَن আই يَضْرِبَ ইয়াদরিবা مَثَلًا মাছালান مَّا ম্মা بَعُوضَةً বা‘ঊদাতান فَمَا ফামা فَوْقَهَا ফাওকাহা فَأَمَّا ফাআম্মা الَّذِينَ আল্লাযীনা آمَنُوا আমানূ فَيَعْلَمُونَ ফাইয়া‘লামূন أَنَّهُ আন্নাহু الْحَقُّ আলহাক্কু مِن মির رَّبِّهِمْ রাব্বিহিম وَأَمَّا ওয়া আম্মা الَّذِينَ আল্লাযীনা كَفَرُوا কাফারূ فَيَقُولُونَ ফাইয়াকূলূন مَاذَا মা-যা أَرَادَ আরাদা اللَّهُ আল্লাহু بِهَٰذَا বিহা-যা مَثَلًا মাছালান يُضِلُّ ইউদিল্লু بِهِ বিহি كَثِيرًا কাছীরান وَيَهْدِي ওয়া ইয়াহদী بِهِ বিহি كَثِيرًا কাছীরান وَمَا ওয়া মা يُضِلُّ ইউদিল্লু بِهِ বিহি إِلَّا ইল্লা الْفَاسِقِينَ আলফাসিকীন

(ইন্নাল্লা-হা লা ইয়াসতাহয়ী আই ইয়াদরিবা মাছালাম-মা বা‘ঊদাতান ফামা ফাওকাহা ফাআম্মাল্লাযীনা আমানূ ফাইয়া‘লামূনা আন্নাহুল হাক্কু মির রাব্বিহিম ওয়া আম্মাল্লাযীনা কাফারূ ফাইয়াকূলূনা মা-যা আরাদাল্লা-হু বিহা-যা মাছালা; ইউদিল্লু বিহি কাছীরাও ওয়া ইয়াহদী বিহি কাছীরা; ওয়া মা ইউদিল্লু বিহি ইল্লাল ফাসিকীন)

অর্থ: নিশ্চয় আল্লাহ একটি মশা অথবা তার চেয়ে বড় কিছুর দৃষ্টান্ত দিতে লজ্জাবোধ করেন না। যারা ঈমান এনেছে তারা জানে যে, এটা তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য। আর যারা কুফরি করেছে তারা বলে, 'এ দৃষ্টান্ত দিয়ে আল্লাহ কী বোঝাতে চেয়েছেন?' তিনি এ দ্বারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেন এবং অনেককে হিদায়াত দেন। আর তিনি শুধু ফাসিকদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন।

Meaning: Indeed, Allah is not ashamed to set forth an example of a mosquito or what is above it. As for those who believe, they know that it is the truth from their Lord. But as for those who disbelieve, they say, "What did Allah intend by this example?" He misleads many thereby and guides many thereby. And He misleads not except the defiantly disobedient.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. ওয়াজিব গুন্নাহ (নূন ও মীম-এর তাশদীদ টানা) نّ
    إِنَّ (ইন্-না): নূন তাশদীদ থাকায় নাকের বাঁশি দিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ টেনে পড়তে হবে।
    أَنَّهُ (আন্-না-হু): নূন তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ টেনে পড়তে হবে।
  2. ২. আল্লাহ শব্দের লাম (পুরু বা মোটা করে পড়া) اللّٰه (আগে ফাতহা)
    إِنَّ اللَّهَ (ইন্-নাল্-লা-হা): আল্লাহ শব্দের আগের হরফ 'إِنَّ' (ইন্না) এর শেষ হরফে জবর (ফাতহা) আছে। তাই আল্লাহর লাম মোটা করে পড়তে হবে।
    أَرَادَ اللَّهُ (আ-রা-দাল্-লা-হু): আল্লাহ শব্দের আগের হরফ 'أَرَادَ' (আরাদা) এর শেষ হরফে জবর (দাল-এ ফাতহা) আছে। তাই লাম মোটা পড়তে হবে।
  3. ৩. ইদগামে শামসিয়াহ (সূর্য বর্ণে লামের ইদগাম) ال + ل / ح / ف
    الَّذِينَ (আল্-লা-যী-না): 'ال' এর পর 'ل' (লাম) শামসি হরফ আসায় লাম পড়া হয় না। 'আল্লাযীনা' পড়তে হয় (লাম তাশদীদযুক্ত)।
    الْحَقُّ (আল-হাক্-কু): 'ال' এর পর 'ح' (হা) ক্বামারি হরফ আসায় লাম স্পষ্ট পড়তে হবে। এটি ইজহার।
    الْفَاسِقِينَ (আল-ফা-সি-কী-না): 'ال' এর পর 'ف' (ফা) ক্বামারি হরফ আসায় লাম স্পষ্ট পড়তে হবে।
  4. ৪. ইদগাম বি গুন্নাহ (নূন সাকিন ও তানবিনের ইদগাম) ً + م / ن + ر
    مَثَلًا مَّا (মা-ছা-লাম-মা): তানবিন (مَثَلًا) এর পর 'م' (মীম) আসায় তানবিনকে মীমের সাথে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহ দিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'মাছালাম-মা' (মীম তাশদীদযুক্ত)।
    مِن رَّبِّهِمْ (মির-রাব-বি-হিম): নূন সাকিন (مِن) এর পর 'ر' (রা) আসায় নূনকে রা-এর সাথে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহ দিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'মির-রাব্বিহিম' (রা তাশদীদযুক্ত)।
  5. ৫. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ن + ي
    أَن يَضْرِبَ (আই-ইয়াদ-রি-বা): নূন সাকিন (أَن) এর পর ইখফার হরফ 'ي' (ইয়া) আসায় ১ আলিফ গুন্নাহ করে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'আই-ইয়াদরিবা' (গুন্নাহ সহ)।
  6. ৬. ইজহার (স্পষ্ট করা) ً + ف / و
    بَعُوضَةً فَمَا (বা-‘ঊ-দা-তান-ফা-মা): তানবিন (بَعُوضَةً) এর পর 'ف' (ফা) আসায় তানবিন স্পষ্ট পড়তে হবে। এটি ইজহার।
    كَثِيرًا وَيَهْدِي (কা-ছী-রাও ওয়া-ইয়াহ-দী): তানবিন (كَثِيرًا) এর পর 'و' (ওয়াও) আসায় তানবিন স্পষ্ট পড়তে হবে।
  7. ৭. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) مْ + و
    رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا (রাব-বি-হিম ওয়া-আম্মা): মীম সাকিন (هِمْ) এর পর ওয়াও (و) আসায় মীম স্পষ্ট পড়তে হবে।
  8. ৮. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ق
    فَوْقَهَا (ফাও-কা-হা): 'فَوْقَ' এ 'ق' (ক্বাফ) সাকিন অবস্থায় আছে (فَوْقَ)। ক্বাফ কলকলার হরফ। তাই ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  9. ৯. মাদ্দ-এ-আসলি / মাদ্দে তবিয়ি (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ا / ي / و
    لَا (লা): আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    يَسْتَحْيِي (ইয়াস-তাহ-য়ী): শেষের 'يِي' (য়ী) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    مَثَلًا (মা-ছা-লান): তানবিন (اً) আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    مَّا (ম্মা): আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    بَعُوضَةً (বা-‘ঊ-দা-তান): তানবিন আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    فَمَا (ফা-মা): আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    فَوْقَهَا (ফাও-কা-হা): শেষের 'هَا' (হা) আলিফ টানতে হবে।
    فَأَمَّا (ফা-আম-মা): শেষের 'مَّا' (ম্মা) আলিফ টানতে হবে।
    آمَنُوا (আ-মা-নূ): প্রথম আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    فَيَعْلَمُونَ (ফা-ইয়াল-মূ-না): শেষের 'مُونَ' (মূন) ওয়াও মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    كَفَرُوا (কা-ফা-রূ): শেষের 'رُوا' (রূ) ওয়াও মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    فَيَقُولُونَ (ফা-ইয়া-কূ-লূ-না): শেষের 'لُونَ' (লূন) ওয়াও মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    مَاذَا (মা-যা): প্রথমে 'مَا' (মা) আলিফ টানতে হবে। শেষে 'ذَا' (যা) আলিফ টানতে হবে।
    أَرَادَ (আ-রা-দা): প্রথমে 'أَرَادَ' এর 'رَا' (রা) আলিফ টানতে হবে।
    بِهَٰذَا (বি-হা-যা): 'هَٰ' (হা) আলিফ টানতে হবে। শেষে 'ذَا' (যা) আলিফ টানতে হবে।
    مَثَلًا (মা-ছা-লান): তানবিন আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    كَثِيرًا (কা-ছী-রান): প্রথমে 'كَثِيرًا' এর 'ثِي' (ছী) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে। শেষে তানবিন আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    وَيَهْدِي (ওয়া ইয়াহ-দী): শেষের 'هْدِي' (হদী) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    وَمَا (ওয়া-মা): আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    الْفَاسِقِينَ (আল-ফা-সি-কী-না): প্রথমে 'فَا' (ফা) আলিফ টানতে হবে। শেষে 'قِينَ' (কীনা) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে।
  10. ১০. মাদ্দ-এ-লিন (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) و (আগে ফাতহা)
    فَوْقَهَا (ফাও-কা-হা): 'فَوْ' (ফাও) অংশে ওয়াও সাকিনের আগে ফাতহা থাকায় এটি মাদ্দে লিন।
  11. ১১. রা-এর তাফখিম (মোটা করা) ر (ফাতহা)
    رَّبِّهِمْ (রাব-বি-হিম): রা-এর হরকত ফাতহা (رَّ) থাকায় মোটা পড়তে হবে।
  12. ১২. মাদ্দ-এ-আরিয (২/৪/৬ আলিফ টান) ي + سكون
    الْفَاسِقِينَ (আল-ফা-সি-কী-না): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় ইয়া মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়ে যায়। তাই ২, ৪ বা ৬ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
২৭ الَّذِينَ আল্লাযীনা يَنقُضُونَ ইয়ানকুদূনা عَهْدَ আহ্দা اللَّهِ আল্লাহি مِن মিম্ بَعْدِ বা‘দি مِيثَاقِهِ মীছাকিহি وَيَقْطَعُونَ ওয়া ইয়াকতাঊনা مَا মা أَمَرَ আমারা اللَّهُ আল্লাহু بِهِ বিহি أَن আই يُوصَلَ ইউসালা وَيُفْسِدُونَ ওয়া ইউফসিদূনা فِي ফী الْأَرْضِ আল-আরদি أُولَٰئِكَ উলা---ইকা هُمُ হুমু الْخَاسِرُونَ আলখাসিরূনা

(আল্লাযীনা ইয়ানকুদূনা আহ্দাল্লাহি মিম্ বা‘দি মীছাকিহি ওয়া ইয়াকতাঊনা মা আমারা আল্লা-হু বিহি আই ইউসালা ওয়া ইউফসিদূনা ফিল আরদি; উলা---ইকা হুমুল খাসিরূন)

অর্থ: যারা আল্লাহর অঙ্গীকার পাকাপোক্ত করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা সংযুক্ত রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে। তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

Meaning: Those who break the covenant of Allah after contracting it and sever that which Allah has commanded to be joined and cause corruption on earth. Those are the losers.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. ইদগামে শামসিয়াহ (সূর্য বর্ণে লামের ইদগাম) ال + ل / أ
    الَّذِينَ (আল্লাযীনা): 'ال' এর পর 'ل' (লাম) শামসি হরফ আসায় আলিফ লাম-এর লাম পড়া হয় না। পরের লাম তাশদীদ দিয়ে 'আল্লাযীনা' পড়তে হয়।
    اللَّهِ (আল্লাহি): এটিও 'ال' এর পর 'ل' আসায় 'আল্লাহি' পড়তে হয় (লাম তাশদীদযুক্ত)।
    اللَّهُ (আল্লাহু): একই নিয়মে লাম পড়া হয় না।
    الْأَرْضِ (আল-আরদি): 'ال' এর পর 'أ' (হামজা) ক্বামারি হরফ আসায় লাম স্পষ্ট পড়তে হয়। এটি ইজহার।
  2. ২. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ق / ط
    يَنقُضُونَ (ইয়ানকুদূনা): 'نقُضُونَ' শব্দের মাঝে 'ق' (ক্বাফ) সাকিন আছে (يَنقُضُونَ)। ক্বাফ কলকলার হরফ। তাই ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
    وَيَقْطَعُونَ (ওয়া ইয়াকতাঊনা): 'قْطَ' অংশে 'ق' (ক্বাফ) সাকিন আছে। তাই কলকলা করতে হবে। এছাড়া 'ط' (তা) সাকিন আছে (قْطَ)। ط কলকলার হরফ। তাই এক্ষেত্রে দুটি কলকলা একসাথে এসেছে। উভয়কেই ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  3. ৩. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ن + ب / ي
    مِن بَعْدِ (মিম্ বা‘দি): নূন সাকিন (مِن) এর পর ইখফার হরফ 'ب' (বা) আসায় ১ আলিফ গুন্নাহ করে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'মিম্-বা‘দি' (নূন-এর আওয়াজ নাক থেকে আসবে, 'মিন্' নয়)।
    أَن يُوصَلَ (আই ইউসালা): নূন সাকিন (أَن) এর পর ইখফার হরফ 'ي' (ইয়া) আসায় ১ আলিফ গুন্নাহ করে পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'আই-ইউসালা' (গুন্নাহ সহ)।
  4. ৪. ইজহার (স্পষ্ট করা) هِ + أ
    بِهِ أَن (বিহি আন): 'هِ' এর পর হামজা আসায় এটি ইজহার। 'হি' স্পষ্ট পড়তে হবে।
  5. ৫. أُولَٰئِكَ শব্দের তাজবীদ (মাদ্দে বদল + মাদ্দে মুত্তাসিল + মাদ্দে আসলি) مَدّ بَدَل + مَدّ مُتَّصِل + مَدّ أَصْلِيّ
    أُولَٰئِكَ (উলা---ইকা): এই শব্দটিতে তিনটি মাদ্দ একত্রিত হয়েছে:
    أُو (উও) - مَدّ بَدَل (খাড়া যবর): হামজার পর ওয়াও মাদ্দিয়া এসেছে। এটি ২ হরকত (১ আলিফ) টানতে হবে।
    لَٰ (লা) - مَدّ مُتَّصِل: 'لَٰ' এর আলিফ মাদ্দিয়ার পর হামজা (ئِ) একই শব্দে আসায় এটি ৪/৫ আলিফ টানতে হবে। পুরো শব্দের মূল টান এখানেই।
    ئِكَ (ইকা) - এর কোনো মাদ্দ নেই, তবে উচ্চারণে পূর্বের টানের সাথে যুক্ত। সুতরাং পুরো শব্দটি পড়তে হবে: উলা---ইকা (উ-লা---ই-কা) - 'লা' অংশটি ৪/৫ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আসলি / মাদ্দে তবিয়ি (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ي / و / ا
    الَّذِينَ (আল্লাযীনা): শেষের 'ذِينَ' (যীনা) অংশে ইয়া মাদ্দিয়া আছে। তাই 'যীনা' টেনে পড়তে হবে।
    يَنقُضُونَ (ইয়ানকুদূনা): শেষের 'ضُونَ' (দূনা) অংশে ওয়াও মাদ্দিয়া আছে। তাই 'দূনা' টেনে পড়তে হবে।
    مِيثَاقِهِ (মীছাকিহি): প্রথমে 'مِيثَاقِهِ' এর 'ثَا' (ছা) অংশে আলিফ আছে। তাই 'ছা' টেনে পড়তে হবে।
    وَيَقْطَعُونَ (ওয়া ইয়াকতাঊনা): শেষের 'عُونَ' (ঊনা) অংশে ওয়াও মাদ্দিয়া আছে। তাই 'ঊনা' টেনে পড়তে হবে।
    مَا (মা): আলিফ মাদ্দিয়া আছে। তাই 'মা' টেনে পড়তে হবে।
    وَيُفْسِدُونَ (ওয়া ইউফসিদূনা): শেষের 'دُونَ' (দূনা) অংশে ওয়াও মাদ্দিয়া আছে। তাই 'দূনা' টেনে পড়তে হবে।
    فِي (ফী): ইয়া মাদ্দিয়া আছে। তাই 'ফী' টেনে পড়তে হবে।
    الْخَاسِرُونَ (আলখাসিরূনা): শেষের 'رُونَ' (রূনা) অংশে ওয়াও মাদ্দিয়া আছে। তাই 'রূনা' টেনে পড়তে হবে।
  7. ৭. রা-এর তাফখিম (মোটা করা) ও তরকিক (পাতলা করা) ر (সাকিন + আগে ফাতহা = মোটা) | ر (কসরা = পাতলা)
    الْأَرْضِ (আল-আরদি): راء ساكن (رْ) এবং আগের হরফ ফাতহা (أَ) থাকায় ر مোটা পড়তে হবে।
    الْخَاسِرُونَ (আলখাসিরূনা): راء এর হরকত কসরা (رِ) থাকায় পাতলা পড়তে হবে (তরকিক)।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-আরিয (২/৪/৬ আলিফ টান) و + سكون
    الْخَاسِرُونَ (আলখাসিরূনা): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় ওয়াও মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়ে যায়। তাই ২, ৪ বা ৬ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
২৯ هُوَ হুওয়া الَّذِي আল্লাযী خَلَقَ খালাকা لَكُم লাকুম مَّا ম্মা فِي ফী الْأَرْضِ আল-আরদি جَمِيعًا জামী‘আন ثُمَّ ছুম্মা اسْتَوَىٰ আস্তাওয়া إِلَى ইলা السَّمَاءِ আস্সামা---ই فَسَوَّاهُنَّ ফাসাওওয়াহুন্না سَبْعَ সাব‘আ سَمَاوَاتٍ সামাওয়াতিন وَهُوَ ওয়া হুওয়া بِكُلِّ বিকুল্লি شَيْءٍ শাইয়িন عَلِيمٌ আলীমুন

(হুওয়াল্লাযী খালাকা লাকুম-মা ফিল আরদি জামী‘আন ছুম্মাস্তাওয়া ইলাস্সামা---ই ফাসাওওয়াহুন্না সাব‘আ সামাওয়াতিন; ওয়া হুওয়া বিকুল্লি শাইয়িন আলীম)

অর্থ: তিনিই সে সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোনিবেশ করেছেন এবং সেগুলোকে সাত আসমানে সুবিন্যস্ত করেছেন। আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে সর্বজ্ঞ।

Meaning: It is He who created for you all of that which is on the earth. Then He directed Himself to the heaven, and arranged them into seven heavens. And He is Knowing of all things.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. ইদগামে শামসিয়াহ (সূর্য বর্ণে লামের ইদগাম) ال + ل / س
    الَّذِي (আল্লাযী): 'ال' এর পর 'ل' (লাম) শামসি হরফ আসায় লাম পড়া হয় না।
    السَّمَاءِ (আস্সামা-ই): 'ال' এর পর 'س' (সিন) শামসি হরফ আসায় লাম পড়া হয় না। সিন তাশদীদ দিয়ে 'আস্সামা-ই' পড়তে হবে।
    الْأَرْضِ (আল-আরদি): 'ال' এর পর 'أ' (হামজা) ক্বামারি হরফ আসায় লাম স্পষ্ট পড়তে হয়। এটি ইজহার।
  2. ২. ইদগাম-এ-মিছলাইন (মীম সাকিনের গুন্নাহ) مْ + مّ
    لَكُم مَّا (লাকুম-মা): মীম সাকিন (كُمْ) এর পর তাশদীদযুক্ত মীম (مَّا) আসায় দুই মীমকে মিলিয়ে ১ আলিফ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ: 'লাকুম-মা' (মীম তাশদীদযুক্ত)।
  3. ৩. কলকলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ب
    سَبْعَ (সাব-‘আ): 'ب' (বা) সাকিন আছে (سَبْعَ)। বা কলকলার হরফ। তাই ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে।
  4. ৪. ওয়াজিব গুন্নাহ (নূন ও মীম-এর তাশদীদ টানা) نّ
    فَسَوَّاهُنَّ (ফাসাওওয়াহুন্না): 'هِنَّ' এর নূন তাশদীদযুক্ত (هُنَّ)। তাই ১ আলিফ গুন্নাহ টেনে পড়তে হবে।
  5. ৫. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (৪/৫ আলিফ টান) اء
    السَّمَاءِ (আস্সামা---ই): একই শব্দের ভিতরে মাদ্দের হরফ আলিফ (ا) এর পর হামজা (ء) আসায় ৪ বা ৫ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
  6. ৬. মাদ্দ-এ-আসলি / মাদ্দে তবিয়ি (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ي / ا / ىٰ
    الَّذِي (আল্লাযী): শেষের 'ذِي' (যী) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    خَلَقَ (খালাকা): প্রথম 'خَلَقَ' এর 'خَ' এর পর আলিফ আছে। তাই 'খা' টেনে পড়তে হবে।
    مَّا (ম্মা): আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    فِي (ফী): ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    جَمِيعًا (জামী‘আন): 'مِي' (মী) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে। শেষে তানবিন (اً) আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    اسْتَوَىٰ (আস্তাওয়া): শেষের 'وَىٰ' (ওয়া) অংশে আলিফ মাকসুরা (ىٰ) আছে। তাই 'ওয়া' টেনে পড়তে হবে।
    إِلَى (ইলা): শেষের 'لَى' (লা) আলিফ মাকসুরা টানতে হবে।
    فَسَوَّاهُنَّ (ফাসাওওয়াহুন্না): 'سَوَّا' (সাওয়া) আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে।
    سَمَاوَاتٍ (সামাওয়াতিন): 'سَمَا' (সামা) আলিফ মাদ্দিয়া টানতে হবে। শেষে তানবিন আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
    عَلِيمٌ (আলীমুন): 'لِي' (লী) ইয়া মাদ্দিয়া টানতে হবে। শেষে তানবিন আলিফ হিসেবে টানতে হবে।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-লিন (২ হরকত বা ১ আলিফ টান) ي (আগে ফাতহা)
    شَيْءٍ (শাইয়িন): ইয়া সাকিন (ي) এর আগে ফাতহা (شَ) থাকায় এটি মাদ্দে লিন। চলন্ত অবস্থায় ১ আলিফ টানতে হবে।
  8. ৮. রা-এর তাফখিম (মোটা করা) ر (সাকিন + আগে ফাতহা)
    الْأَرْضِ (আল-আরদি): راء ساكن (رْ) এবং আগের হরফ ফাতহা (أَ) থাকায় ر مোটা পড়তে হবে।
  9. ৯. মাদ্দ-এ-আরিয (২/৪/৬ আলিফ টান) ي + سكون
    عَلِيمٌ (আলীমুন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় ইয়া মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়ে যায়। তাই ২, ৪ বা ৬ আলিফ টেনে পড়তে হবে।
৩০ وَإِذْ ওয়া ইয্ قَالَ ক্বালা رَبُّكَ রাব্বুকা لِلْمَلَائِكَةِ লিল্-মালাইকাতি إِنِّي ইন্নী جَاعِلٌ জা'ইলুন فِي ফী الْأَرْضِ আল-আরদ্বি خَلِيفَةً খালীফাতাঁ قَالُوا ক্বালূ أَتَجْعَلُ আতাজ'আলু فِيهَا ফীহা مَنْ মাই يُفْسِدُ ইউফসিদু فِيهَا ফীহা وَيَسْفِكُ ওয়া ইয়াসফিকু الدِّمَاءَ আদ্-দিমা-আ وَنَحْنُ ওয়া নাহ্নু نُسَبِّحُ নুসাব্বিহু بِحَمْدِكَ বিহামদিকা وَنُقَدِّسُ ওয়া নুকাদ্দিসু لَكَ লাকা قَالَ ক্বালা إِنِّي ইন্নী أَعْلَمُ আ'লামু مَا মা لَا লা تَعْلَمُونَ তা'লামূন

(ওয়া ইয্ ক্বালা রাব্বুকা লিল্-মালাইকাতি ইন্নী জা'ইলুন ফিল-আরদ্বি খালীফাতাঁ; ক্বালূ আতাজ'আলু ফীহা মাই-ইউফসিদু ফীহা ওয়া ইয়াসফিকুদ্-দিমা-আ ওয়া নাহ্নু নুসাব্বিহু বিহামদিকা ওয়া নুকাদ্দিসু লাকা; ক্বালা ইন্নী আ'লামু মা লা তা'লামূন)

অর্থ: আর স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, 'আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি স্থাপন করতে যাচ্ছি।' তারা বলল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে স্থাপন করবেন যে অশান্তি সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে, অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি?' তিনি বললেন, 'আমি যা জানি তা তোমরা জান না।'

Meaning: And when your Lord said to the angels, 'Indeed, I will make upon the earth a successive authority.' They said, 'Will You place upon it one who causes corruption therein and sheds blood, while we exalt You with praise and declare Your perfection?' He said, 'Indeed, I know that which you do not know.'

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (গ্রুপভিত্তিক)
  1. ১. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) ا / ي / و
    قَالَ (ক্বা-): ক্বাফের ওপর যবর এবং এরপর খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টানতে হবে।
    لِلْمَلَائِكَةِ (মা-লা): প্রথম 'মা' অংশে আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।
    جَاعِلٌ (জা-): জিমের ওপর যবর এরপর খালি আলিফ।
    فِي (ফী): ইয়া সাকিন তার ডানে যের।
    قَالُوا (ক্বা- / লু-): এখানে 'ক্বা' এবং 'লু' (ওয়াও সাকিন ডানে পেশ) উভয় স্থানে ১ আলিফ টান।
    فِيهَا (ফী-হা-): এখানেও উভয় হরফে ১ আলিফ করে টান হবে।
    يُفْسِدُ (ইউ-): ইয়া মাদ্দিয়া আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَيَسْفِكُ (ইয়া-): ইয়া মাদ্দিয়া আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    مَا (মা-), لَا (লা-): যবরের বাম পাশে খালি আলিফ।
    إِنِّي (নী-): ইয়া মাদ্দিয়া আগে কসরা থাকায় ১ আলিফ টান। (দুইবার)
  2. ২. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (৪/৫ আলিফ টান) اء
    لِلْمَلَائِكَةِ (মালা---ইকাতি): এখানে مَلَاء অংশে মাদ্দ-এর হরফ আলিফ (ا) এবং তার পরপরই হামজা (ء) একই শব্দের ভেতরে এসেছে। তাই এটি মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল এবং ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে: 'মালা---ইকাতি'।
    الدِّمَاءَ (দিমা---আ): এখানেও دِمَاء অংশে মাদ্দ-এর হরফ আলিফ (ا) এবং তার পরপরই হামজা (ء) একই শব্দের ভেতরে এসেছে। তাই এটি ৪ আলিফ টান হবে। উচ্চারণ: 'দিমা---আ'।
  3. ৩. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    إِنِّي (ইন্-নী): নূনের ওপর তাসদীদ থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব। (আয়াতে এটি দুইবার আছে)।
  4. ৪. ইদগাম-এ-মাআল গুন্নাহ (গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়া) ن + ي
    مَنْ يُفْسِدُ (মাই-ইউফসিদু): নূন সাকিন (مَنْ) এর পর ইদগামের হরফ 'ইয়া' (ي) আসায় নূনকে ইয়ার সাথে মিলিয়ে গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  5. ৫. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) مْ + د
    بِحَمْدِكَ (হাম্-দি): মীম সাকিন (مْ) এর পর 'দাল' (د) আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  6. ৬. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ةً + ق
    خَلِيفَةً قَالُوا (খালীফাতাঁ-ক্বা): গোল তা-এর ওপর তানভীন (ةً) এর পর ইখফার হরফ 'ক্বাফ' (ق) আসায় এখানে ১ আলিফ পরিমাণ সময় নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ করতে হবে।
  7. ৭. হরফে লীন (নরম করে দ্রুত পড়া) عْ (আগে ফাতহা)
    أَعْلَمُ (আ'লামু): আইন (ع) হরফের ওপর সাকিন (عْ) এবং তার আগে ফাতহা (أَ) আছে। এটি লীনের হরফ, তাই টান না দিয়ে খুব দ্রুত ও নরমভাবে উচ্চারণ করতে হবে। মনে রাখবেন: এটি মাদ্দ নয়।
  8. ৮. র-এর তাফখিম (মোটা করা) ر (ফাতহা/সাকিন + ফাতহা)
    رَبُّكَ (রাব্বুকা): রা (ر) হরফের ওপর যবর (رَ) থাকায় এটি মোটা করে পড়তে হবে।
    الْأَرْضِ (আরদ্বি): রা সাকিন (رْ) এবং তার আগের হরফে যবর (أَ) থাকায় এটিও মোটা করে পড়তে হবে।
  9. ৯. ক্বলক্বলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) ج
    جَاعِلٌ (জা-ইলুন): এখানে জিম (ج) এর ওপর কোন সাকিন নেই, তাই কলকলাহ হবে না। কলকলাহ কেবল সাকিন অবস্থায় হয়।
    أَتَجْعَلُ (আতাজ্-আলু): এখানে جْ - জিম সাকিন অবস্থায় আছে। তাই কলকলাহর হরফ জিমকে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'জ্' অংশে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে।
  10. ১০. মাদ্দ-এ-আরিয সাকিন (৩ আলিফ টান) و + سكون
    تَعْلَمُونَ (তা'লামূন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে و (ওয়াও) মাদ্দ-এর হরফের পরের হরফ নূন (ن) সাকিন হয়ে যাচ্ছে। তাই এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
৩১ وَعَلَّمَ ওয়া 'আল্লামা آدَمَ আ-দামা الْأَسْمَاءَ আল-আস্‌মা-আ كُلَّهَا কুল্লাহা ثُمَّ সুম্মা عَرَضَهُمْ আরাদ্বাহুম عَلَى আলা الْمَلَائِكَةِ আল-মালাইকাতি فَقَالَ ফাকা'লা أَنْبِئُونِي আম্বি-ঊনী بِأَسْمَاءِ বি-আস্‌মা-ই هَٰؤُلَاءِ হা-উলা-ই إِنْ ইং كُنْتُمْ কুংতুম صَادِقِينَ সাদিকীন

(ওয়া 'আল্লামা আ-দামাল-আস্‌মা-আ কুল্লাহা সুম্মা আরাদ্বাহুম আলাল-মালাইকাতি ফাকা'লা আম্বি-ঊনী বি-আস্‌মা-ই হা-উলা-ই ইং কুংতুম সাদিকীন)

অর্থ: আর তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে পেশ করলেন এবং বললেন, 'তোমরা সত্যবাদী হলে আমাকে এদের নাম বলো।'

Meaning: And He taught Adam the names - all of them. Then He showed them to the angels and said, "Inform Me of the names of these, if you are truthful."

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-বাদাল (১ আলিফ টান) آ
    آدَمَ (আ-দামা): এখানে 'آ' (হামজা+আলিফ) হরফটির ওপর মাদ্দ-এ-বাদালের নিয়ম প্রযোজ্য। হামজার পর মাদ্দ অক্ষর আসায় ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। এটি মূলত হামজার অতিরিক্ত টান।
  2. ২. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) اء ائ ؤ
    الْأَسْمَاءَ (আস্‌মা-আ): 'اء' অংশে মাদ্দ অক্ষর (ا) ও হَمْزَة (ء) একই শব্দে থাকায় ৪ আলিফ টান। একে মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল বলে।
    الْمَلَائِكَةِ (মালা-ইকাতি): 'ائ' অংশে মাদ্দ অক্ষর (ا) ও هَمْزَة (ئ) একই শব্দে থাকায় ৪ আলিফ টান।
    بِأَسْمَاءِ (আস্‌মা-ই): 'اء' অংশে মাদ্দ অক্ষর ও হামজা একই শব্দে থাকায় ৪ আলিফ টান।
    هَٰؤُلَاءِ (হা-উলা-ই): এই শব্দে দুইটি মাদ্দ-এ-মুত্তাসিল আছে। প্রথমে 'هَٰؤ' অংশে আলিফের পর হামজা (ؤ), দ্বিতীয়তে 'لَاءِ' অংশে আলিফের পর হামজা (ء)। তাই উভয় অংশই ৪ আলিফ করে টেনে পড়তে হবে।
  3. ৩. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) مّ
    ثُمَّ (সুম্মা): মীম (م) হরফের ওপর তাশদীদ (ّ) থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব। তাশদীদ থাকার কারণে দ্বিগুণ জোর দিয়ে পড়তে হয়।
  4. ৪. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) مْ + ع مْ + ص
    عَرَضَهُمْ عَلَى (হুম-আলা): মীম সাকিন (هُمْ) এর পর 'আইন' (ع) আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। এটি ইজহারে শাফাবীর নিয়ম।
    كُنْتُمْ صَادِقِينَ (তুম-সা): মীম সাকিন (تُمْ) এর পর 'সোয়াদ' (ص) আসায় মীমকে স্পষ্ট পড়তে হবে। মনে রাখবেন: মীম সাকিনের পর 'বা' (ب) বা 'মীম' (م) ছাড়া অন্য সব হরফে ইজহারে শাফাবী হয়।
  5. ৫. ইক্বলাব (পরিবর্তন করে গুন্নাহ করা) ن + ب ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ن + ك ن + ت
    أَنْبِئُونِي (আম্বি-ঊনী): এখানে ن (নূন সাকিন) এর পর ب (বা) এসেছে। এটি ইক্বলাবের নিয়ম। অর্থাৎ নূন সাকিনকে মীম (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'আম্বি-ঊনী'।
    إِنْ كُنْتُمْ (ইং কুং-তুম): এখানে প্রথম ن (إِنْ) এর পর ك (কাফ) আসায় ইখফা হবে - নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ করতে হবে (ইং)। দ্বিতীয় ن (كُنْ) এর পর ت (তা) আসায় আবার ইখফা হবে (কুং-তুম)। ইখফার হরফ ১৫টি।
  6. ৬. তাখফিম (রা মোটা করা) رَ
    عَرَضَهُمْ (রা-): রা (ر) হরফের ওপর যবর (رَ) থাকায় এটি মোটা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রা' ভারী ও গভীর হবে। রা মোটা হওয়ার শর্ত হলো এর হরকত যবর বা পেশ হওয়া অথবা সাকিন অবস্থায় আগের হরফে যবর বা পেশ থাকা।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) ا ى و ي
    كُلَّهَا (হা-): 'ها' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    عَلَى (আলা): খাড়া যবর (ى) থাকায় ১ আলিফ টান। একে মাদ্দ-এ-তবিয়িও বলে।
    فَقَالَ (ক্বা-): 'قا' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    أَنْبِئُونِي (ঊ- / নী-): 'ؤُو' অংশে ওয়াও মাদ্দ (و) এবং 'نِي' অংশে ইয়া মাদ্দ (ي) থাকায় উভয় স্থানে ১ আলিফ করে টান।
    صَادِقِينَ (সা-): 'صا' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
  8. ৮. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    صَادِقِينَ (কী-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ (থামা) করার কারণে মাদ্দ-এর হরফ ইয়া (ي) এর পরের হরফ নূন (ن) সাকিন হয়ে যাচ্ছে। তাই এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হবে। ওয়াকফের কারণে এই নিয়ম প্রযোজ্য হয়।
  9. ৯. লামে কামারিয়া (লাম স্পষ্ট) ال + ء ال + م
    الْأَسْمَاءَ: 'আল' (ال) এর পরে কামারি হরফ (هَمْزَة) এসেছে। তাই লাম স্পষ্ট করে পড়তে হবে - 'আল-আস্‌মা-আ'। কামারি হরফ ১৪টি।
    الْمَلَائِكَةِ: 'আল' এর পরে কামারি হরফ (م) এসেছে, তাই লাম স্পষ্ট - 'আل-মালাইকাতি'। লামে শামসিয়ার বিপরীত এটি।
৩২ قَالُوا ক্বালূ سُبْحَانَكَ সুব্হানাকা لَا লা عِلْمَ ইলমা لَنَا লানা إِلَّا ইল্লা مَا মা عَلَّمْتَنَا আল্লামতানা ۖ إِنَّكَ ইন্নাকা أَنْتَ আন্তা الْعَلِيمُ আল-আলীমু الْحَكِيمُ আল-হাকীমু

(ক্বালূ সুব্হানাকা লা ইলমা লানা ইল্লা মা আল্লামতানা; ইন্নাকা আন্তাল-আলীমুল-হাকীম)

অর্থ: তারা বলল, 'তুমি পবিত্র! আমরা তো শুধু তা-ই জানি যা তুমি আমাদের শিখিয়েছ। নিশ্চয় তুমিই সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।'

Meaning: They said, "Exalted are You; we have no knowledge except what You have taught us. Indeed, it is You who is the Knowing, the Wise."

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. ক্বলক্বলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) بْ
    سُبْحَانَكَ (সুব্-): এখানে كلمة "سُبْحَانَكَ" এর মাঝে 'بْ' (বা সাকিন) আছে। ক্বলক্বলাহর হরফ পাঁচটি: قطب جد (ق، ط، ب، ج، د)। এর মধ্যে 'ب' সাকিন অবস্থায় আসায় এখানে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'ব' এর মধ্যে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে। এটি ছোট ক্বলক্বলাহ (শব্দের মাঝে)।
  2. ২. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) ا و
    قَالُوا (ক্বা- / লু-): এখানে দুটি মাদ্দ-এ-আসলি আছে। প্রথমটি 'قَالَ' এর আলিফ (ا) - ক্বাফের সাথে খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান। দ্বিতীয়টি 'قالوا' এর ওয়াও (و) - লামের ওপর পেশ এবং পরে ওয়াও সাকিন আসায় ১ আলিফ টান।
    سُبْحَانَكَ (হা-): 'حَانَ' অংশে হা-এর ওপর খাড়া যবর (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    لَا (লা-): لام এর ওপর যবর এবং পরে খালি আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    لَنَا (না-): نون এর ওপর যবর এবং পরে খালি আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    إِلَّا (ল্লা-): لام এর ওপর যবর এবং পরে খালি আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    مَا (মা-): ميم এর ওপর যবর এবং পরে খালি আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    عَلَّمْتَنَا (না-): শেষের 'نا' অংশে نون এর পরে খালি আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    إِنَّكَ (কা-): 'كَ' অংশে كاف এর ওপর ফাতহা এবং পরে খালি আলিফ নেই, তবে এখানে মাদ্দ নেই। মূল মাদ্দ আছে শেষের আলিফে।
    الْعَلِيمُ (লী-): 'عَلِيمُ' অংশে ياء সাকিন এবং আগে কসরা থাকায় ১ আলিফ টান।
    الْحَكِيمُ (কী-): 'حَكِيمُ' অংশে ياء সাকিন এবং আগে কসরা থাকায় ১ আলিফ টান।
  3. ৩. মাদ্দ-এ-مُنْفَصِل সম্পর্কে বিশেষ টিকা ا + ا
    إِلَّا مَا (ইল্লা মা): এখানে 'إِلَّا' শব্দের শেষে মাদ্দ (ا) আছে এবং পরের শব্দ 'مَا' শুরুতে আলিফ (ا) আছে। কিন্তু 'مَا' শব্দের প্রথম হরফ 'م' (মীম), তাই এখানে হামজা নেই। ফলে এটি মাদ্দ-এ-মুনফাসিল নয়। বরং উভয় শব্দেই পৃথক পৃথক মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ) করে টান হবে। অনেক ক্বারী মনে করেন এখানে পরের শব্দের হামজার অনুপস্থিতিতে ১ আলিফই টানতে হবে।
  4. ৪. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    إِنَّكَ (ইন্-নাকা): نون হরফের ওপর তাশদীদ (ّ) থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব। তাশদীদ থাকার কারণে نون-কে দ্বিগুণ জোর দিয়ে এবং গুন্নাহসহ পড়তে হয়। উচ্চারণে 'ইন্-নাকা' এর প্রথম অংশ 'ন্' এ গুন্নাহ হবে।
  5. ৫. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ت ইজহার-এ-শাফাবী (মীম স্পষ্ট) مْ + ت
    أَنْتَ (আন-তা): এখানে ن (نون সাকিন) এর পর ت (তা) এসেছে। ت ইখফার হরফ (১৫টি হরফের একটি)। তাই নুন সাকিনকে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'আন-তা' নয় বরং 'আং-তা' বা হালকা গুন্নাহসহ।
    عَلَّمْتَنَا (লাম্-তা): এখানে م (ميم ساكنة) এর পর ت (তা) এসেছে। মীম সাকিনের পর 'ب' বা 'م' ছাড়া অন্য হরফ এলে ইজহার-এ-শাফাবী হয়। তাই মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'লাম্-তা' (মীম স্পষ্ট)।
  6. ৬. লামে কামারিয়া (লাম স্পষ্ট) ال + ع ال + ح
    الْعَلِيمُ (আল-আলীমু): 'আل' (ال) এর পরে কামারি হরফ 'ع' (আইন) এসেছে। কামারি হরফ ১৪টি। এগুলোর পরে لام (ل) কে স্পষ্ট করে পড়তে হয়। তাই لام স্পষ্ট - 'আল-আলীমু'।
    الْحَكِيمُ (আল-হাকীমু): 'আল' এর পরে কামারি হরফ 'ح' (হা) এসেছে। তাই লাম স্পষ্ট করে পড়তে হবে - 'আল-হাকীমু'। এটি لامে শামসিয়ার বিপরীত।
  7. ৭. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الْحَكِيمُ (কী-ম): আয়াতের শেষ শব্দ 'الْحَكِيمُ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে ওয়াকফ (থামা) করি, তখন 'حَكِيمُ' এর শেষ হরফ 'م' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে সাকিন (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু সাকিন হওয়া হরফের ঠিক আগে মাদ্দের হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি মাদ্দ-এ-আরদ লিল-সুকুন বা মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'আল-হাকীম্' - যেখানে 'কী' অংশ টানা হবে।
৩৩ قَالَ ক্বালা يَا ইয়া--- آدَمُ আদামু أَنْبِئْهُمْ আম্বি'হুম بِأَسْمَائِهِمْ বি-আসমা-ইহিম ۖ فَلَمَّا ফালাম্মা أَنْبَأَهُمْ আম্বা'আহুম بِأَسْمَائِهِمْ বি-আসমা-ইহিম قَالَ ক্বালা--- أَلَمْ আলাম أَقُل আকুল لَكُمْ লাকুম إِنِّي ইন্নী أَعْلَمُ আ'লামু غَيْبَ গাইবা السَّمَاوَاتِ আস-সামা-ওয়া-তি وَالْأَرْضِ ওয়াল-আরদ্বি وَأَعْلَمُ ওয়া আ'লামু مَا মা تُبْدُونَ তুব্দূনা وَمَا ওয়া মা كُنْتُمْ কুন্তুম تَكْتُمُونَ তাক্তুমূন

(ক্বালা ইয়া--- আদামু আম্বি'হুম বিআসমা-ইহিম; ফালাম্মা আম্বা'আহুম বিআসমা-ইহিম ক্বালা--- আলাম আকুল লাকুম ইন্নী আ'লামু গাইবাস-সামা-ওয়া-তি ওয়াল-আরদ্বি ওয়া আ'লামু মা তুব্দূনা ওয়া মা কুন্তুম তাক্তুমূন)

অর্থ: তিনি বললেন, 'হে আদম! তাদেরকে তাদের নামসমূহ বলো।' অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে তাদের নামসমূহ বললেন, তখন তিনি বললেন, 'আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর অদৃশ্য বিষয় জানি? আর আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ কর এবং যা তোমরা গোপন করতে।'

Meaning: He said, "O Adam, inform them of their names." And when he had informed them of their names, He said, "Did I not tell you that I know the unseen of the heavens and the earth? And I know what you reveal and what you have concealed."

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-مُنْفَصِل (৪ আলিফ টান) ا + آ ا + أ
    يَا آدَمُ (ইয়া---আদামা): এখানে 'يَا' শব্দের শেষে মাদ্দ-এর হরফ আলিফ (ا) আছে এবং পরের শব্দ 'آدَمُ' শুরুতে হামজা (آ) এসেছে। মাদ্দ ও হামজা পৃথক দুটি শব্দে হওয়ায় একে মাদ্দ-এ-مُنْفَصِل বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'ইয়া---আদামা'।
    قَالَ أَلَمْ (ক্বালা---আলাম): এখানে 'قَالَ' শব্দের শেষে মাদ্দ-এর হরফ আলিফ (ا) আছে এবং পরের শব্দ 'أَلَمْ' শুরুতে হামজা (أ) এসেছে। একই নিয়মে ৪ আলিফ টান হবে। উচ্চারণ 'ক্বালা---আলাম'।
  2. ২. ইক্বলাব (পরিবর্তন করে গুন্নাহ করা) ن + ب
    أَنْبِئْهُمْ (আম্বি'হুম): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর ب (با) এসেছে। এটি ইক্বলাবের নিয়ম। অর্থাৎ নূন সাকিনকে মীম (م) দ্বারা পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'আম্বি'হুম' - যেখানে 'ম্ব' অংশে গুন্নাহ হবে। মনে রাখবেন: ইক্বলাব কেবল ن ساكنة বা تنوين এর পর ب আসলে হয়।
  3. ৩. ইখফা-এ-شَفَوِيّ (মীম সাকিন গুন্নাহ করা) م + ب
    أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ (হুম্বি-): এখানে م (ميم ساكنة) এর পর ب (با) এসেছে। এটি ইখফা-এ-شَفَوِيّ এর নিয়ম। অর্থাৎ মীম সাকিনকে ঠোঁট হালকা স্পর্শ করে গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'হুম্বি' - যেখানে 'ম্ব' অংশে গুন্নাহ হবে। আয়াতে এটি একাধিকবার আছে। মনে রাখবেন: م ساكنة এর পর ب আসলে ইখফা-এ-شَفَوِيّ হয়।
  4. ৪. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) ائ
    بِأَسْمَائِهِمْ (মা---ই): 'أَسْمَائِ' অংশে مَاء এর পর هَمْزَة (ئ) একই শব্দে এসেছে। মাদ্দ ও হামজা একই শব্দে হওয়ায় একে মাদ্দ-এ-مُتَّصِل বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'আসমা-ইহিম'। আয়াতে এটি দুইবার এসেছে।
  5. ৫. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) مّ نّ
    فَلَمَّا (লাম-ম্মা): মীম (م) হরফের ওপর তাশদীদ (ّ) থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব। উচ্চারণ 'ফালাম-ম্মা' - প্রথম 'ম্ম' এ গুন্নাহ।
    إِنِّي (ইন-নী): নূন (ن) হরফের ওপর তাশদীদ (ّ) থাকায় ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহ করা ওয়াজিব। উচ্চারণ 'ইন-নী' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ।
  6. ৬. ক্বলক্বলাহ (ধাক্কা দিয়ে পড়া) بْ
    أَقُلْ (আ-কুল): এখানে ق (ক্বাফ) হরফটি ক্বলক্বলাহর হরফ হলেও এটি সাকিন নয় (পেশ যুক্ত - قُل), তাই এখানে ধাক্কা হবে না। ক্বলক্বলাহ কেবল সাকিন অবস্থায় হয়।
    تُبْدُونَ (তুব্-দূনা): এখানে ب (বা) সাকিন (بْ) অবস্থায় আছে। তাই এখানে স্পষ্ট ক্বলক্বলাহ বা প্রতিধ্বনি হবে। উচ্চারণে 'ব' এর মধ্যে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে।
  7. ৭. ইজহারে শাফাবী (মীম সাকিন স্পষ্ট) م + أ
    أَلَمْ أَقُلْ (লাম-আ): মীম সাকিন (مْ) এর পর হামজা (أ) আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'লাম-আ' (মীম স্পষ্ট)।
    لَكُمْ إِنِّي (কুম-ইন্নি): মীম সাকিন (مْ) এর পর হামজা (إ) আসায় মীম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'কুম-ইন্নি' (মীম স্পষ্ট)।
    أَنْبَأَهُمْ (আম্বা'আহুম): এখানে م স্পষ্ট কারণ পরের হরফ বではない? আসলে এটি ইজহার-এ-شَفَوِيّ - مْ এর পর ب না থাকায় স্পষ্ট।
  8. ৮. ইখফা-এ-হাকীকী (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ت
    كُنْتُمْ (কুন্-তুম): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর ت (তা) এসেছে। ت ইখফার হরফ (১৫টি হরফের একটি)। তাই নূন সাকিনকে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'কুং-তুম' (গুন্নাহ সহ)।
  9. ৯. মাদ্দ-এ-আসলি (১ আলিফ টান) آ ا و ي
    آدَمُ (আ-): 'آ' (হামজা+আলিফ) - হামজার ওপর খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান (মাদ্দ-এ-বাদাল)।
    السَّمَاوَاتِ (মা- / ওয়া-): এখানে দুটি মাদ্দ-এ-আসলি আছে। প্রথমটি 'سَمَاء' এর আলিফ (ا) - 'মা' অংশে ১ আলিফ টান। দ্বিতীয়টি 'وَاتِ' এর ওয়াও (و) - 'ওয়া' অংশে ১ আলিফ টান।
    مَا (মা-): ميم এর ওপর যবর এবং পরে খালি আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
  10. ১০. হরফে লীন (নরম করে পড়া) ع (সাকিন + ফাতহা) ي (সাকিন + ফাতহা)
    أَعْلَمُ (আ'লামু): ع (আইন) হরফের ওপর সাকিন (عْ) এবং আগের হরফে ফাতহা (أَ) আছে। এটি লীনের হরফ, তাই টান না দিয়ে খুব দ্রুত ও নরমভাবে উচ্চারণ করতে হবে।
    غَيْبَ (গাইবা): ي (ইয়া) হরফের ওপর সাকিন (يْ) এবং আগের হরফে ফাতহা (غَ) আছে। এটি লীনের হরফ - নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে।
    وَأَعْلَمُ (ওয়া আ'লামু): একই নিয়মে ع লীন।
  11. ১১. তাখফিম (রা মোটা) ر
    وَالْأَرْضِ (আর-): ر ساكنة এবং আগের হরফে ফাতহা (أَ) থাকায় ر মোটা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'র' ভারী ও গভীর হবে।
  12. ১২. মাদ্দ-এ-আরদ সাকিন (৩ আলিফ টান) و + سكون
    تَكْتُمُونَ (মূন): আয়াতের শেষ শব্দ 'تَكْتُمُونَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে ওয়াকফ (থামা) করি, তখন 'تَكْتُمُونَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে সাকিন (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু সাকিন হওয়া হরফের ঠিক আগে মাদ্দের হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি মাদ্দ-এ-আরদ লিল-সুকুন। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'তাক্তুমূন' - যেখানে 'মূ' অংশ টানা হবে।
৩৪ وَإِذْ ওয়া ইয্ قُلْنَا কুলনা لِلْمَلَائِكَةِ লিল্-মালাইকাতি اسْجُدُوا উস্জুদূ لِآدَمَ লি-আদামা فَسَجَدُوا ফাসাজাদূ--- إِلَّا ইল্লা--- إِبْلِيسَ ইব্লীসা أَبَىٰ আবা وَاسْتَكْبَرَ ওয়াস্তাকবারা وَكَانَ ওয়া কানা مِنَ মিনা الْكَافِرِينَ আল-কাফিরীন

(ওয়া ইয্ কুলনা লিল্-মালাইকাতি উস্জুদূ লি-আদামা ফাসাজাদূ--- ইল্লা--- ইব্লীসা আবা ওয়াস্তাকবারা ওয়া কানা মিনাল-কাফিরীন)

অর্থ: আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, 'আদমকে সিজদা কর', তখন তারা সিজদা করল, কিন্তু ইবলীস করল না। সে অমান্য করল ও অহংকার করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হল।

Meaning: And when We said to the angels, "Prostrate to Adam," and they prostrated, except Iblees; he refused and was arrogant and became of the disbelievers.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. মাদ্দ-এ-مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) ائ
    لِلْمَلَائِكَةِ (লিল্-মালা-ইকাতি): 'مَلَائِ' অংশে ماد (ا) এর পর هَمْزَة (ئ) একই শব্দের ভেতরে এসেছে। মাদ্দ ও হামজা একই শব্দে হওয়ায় একে مَدّ مُتَّصِل বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'মালা---ইকাতি'। মাদ্দ-এ-مُتَّصِل-এ ৪ বা ৫ হরকত টানা ওয়াজিব।
  2. ২. মাদ্দ-এ-مُنْفَصِل (৪ আলিফ টান) و + إ ا + إ
    فَسَجَدُوا إِلَّا (সাজাদূ---ইল্লা): এখানে প্রথম শব্দ 'فَسَجَدُوا' এর শেষে مَدّ এর হরফ و (ওয়াও) আছে এবং পরের শব্দ 'إِلَّا' শুরুতে হَمْزَة (إ) এসেছে। مَدّ ও হَمْزَة পৃথক দুটি শব্দে হওয়ায় একে مَدّ مُنْفَصِل বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ 'সাজাদূ---ইল্লা'।
    إِلَّا إِبْلِيسَ (ইল্লা---ইব্লীসা): এখানে প্রথম শব্দ 'إِلَّا' এর শেষে مَدّ এর হরফ ا (আলিফ) আছে এবং পরের শব্দ 'إِبْلِيسَ' শুরুতে হَمْزَة (إ) এসেছে। একই নিয়মে ৪ আলিফ টান হবে। উচ্চারণ 'ইল্লা---ইব্লীসা'। মনে রাখবেন: مَدّ مُنْفَصِل-এ ৪ বা ৫ হরকত টানা জায়েয।
  3. ৩. مَدّ بَدَل (১ আলিফ টান) آ
    لِآدَمَ (লি-আদামা): এখানে 'آ' (হামজা+আলিফ) হরফটির ওপর مَدّ بَدَل-এর নিয়ম প্রযোজ্য। هَمْزَة (ء) এর পর مَدّ অক্ষর (ا) এসেছে এবং তা একই শব্দের মধ্যে। এটি مَدّ بَدَل, যা ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণে 'আ' টানটানা হবে। একে مَدّ بَدَل বলে কারণ এটি মূল هَمْزَة-এর পরিবর্তে এসেছে।
  4. ৪. قَلْقَلَة (ধাক্কা দিয়ে পড়া) بْ
    إِبْلِيسَ (ইব্-লীসা): এখানে كلمة "إِبْلِيسَ" এর মাঝে 'بْ' (با ساكنة) আছে। قلقلة-র হরফ পাঁচটি: قطب جد (ق، ط، ب، ج، د)। এর মধ্যে 'ب' সাকিন অবস্থায় আসায় এখানে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে। এটি صغریٰ (ছোট قلقلة) কারণ এটি শব্দের মাঝে এসেছে। উচ্চারণে 'ব' এর মধ্যে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে।
  5. ৫. مَدّ أصلي / مَدّ طبيعي (১ আলিফ টান) ا و ىٰ
    قُلْنَا (না-): 'قُلْنَا' শব্দের শেষে আলিফ (ا) - نون এর ওপর ফাতহা এবং পরে খালি আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।
    اسْجُدُوا (দূ-): 'اسْجُدُوا' শব্দের শেষে و (ওয়াও) - দাল এর ওপর পেশ এবং পরে واو ساكنة আসায় ১ আলিফ টান।
    أَبَىٰ (বা-): 'أَبَىٰ' শব্দের শেষে ىٰ (আলিফ মাকসুরা) - باء এর ওপর ফাতহা এবং পরে খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَكَانَ (কা-): 'كَانَ' শব্দের মাঝে আলিফ (ا) - كاف এর ওপর ফাতহা এবং পরে আলিফ থাকায় ১ আলিফ টান।
  6. ৬. ر-এর تَفْخِيم (মোটা করা) رَ
    وَاسْتَكْبَرَ (রা): এখানে ر (রা) হরফের ওপর ফাতহা (رَ) আছে। ر মোটা হওয়ার শর্ত হলো এর হরকত فتحہ বা ضمہ হওয়া অথবা ساكن অবস্থায় আগের হরফে فتحہ বা ضمہ থাকা। তাই এটি তাফখিম বা মোটা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রা' ভারী ও গভীর হবে।
  7. ৭. ر-এর تَرْقِيق (পাতলা করা) رِ
    الْكَافِرِينَ (রী-): এখানে ر (রা) হরফের নিচে كسرة (رِ) আছে। ر পাতলা হওয়ার শর্ত হলো এর হরকত كسرة হওয়া অথবা ساكن অবস্থায় আগের হরফে كسرة থাকা। তাই এটি تَرْقِيق বা পাতলা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রি' চিকন হবে।
  8. ৮. لام قمرية (লাম স্পষ্ট) ال + م ال + ك
    لِلْمَلَائِكَةِ (লিল্-): এখানে 'ال' এর পরে قمرى حرف 'م' (ميم) এসেছে। قمرى حرف ১৪টি। এগুলোর পরে لام (ل) কে স্পষ্ট করে পড়তে হয়। তাই لام স্পষ্ট - 'লিল্-মালাইকাতি'।
    الْكَافِرِينَ (আল-): এখানে 'ال' এর পরে قمرى حرف 'ك' (কাফ) এসেছে। তাই لام স্পষ্ট করে পড়তে হবে - 'আল-কাফিরীন'। এটি لام شمسية-র বিপরীত।
  9. ৯. هَمْزَةُ الْوَصْلِ (মিলিয়ে পড়া) ا + س
    لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا (তিনি উসজুদু না পড়ে 'তিনুস্জুদু' পড়বেন): এখানে প্রথম শব্দ 'لِلْمَلَائِكَةِ' শেষে تاء مرفوع (তি) এবং পরের শব্দ 'اسْجُدُوا' শুরুতে হَمْزَةُ الْوَصْل (ا) আছে। কুরআন তিলাওয়াতের সময় আমরা যখন দুই শব্দকে মিলিয়ে পড়ি, তখন হামজাতুল ওয়াসল পড়া হয় না। সরাসরি পূর্বের হরফের সাথে মিলিয়ে পড়তে হয়। অর্থাৎ 'لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا' পড়া হবে 'লিল্-মালাইকাতিনুস্জুদূ' - যেখানে 'তি' এর সাথে 'উ' না মিলিয়ে 'তি' এর পরে সরাসরি 'স' পড়া হয়। আলাদাভাবে শুরু করলে 'উসজুদু' পড়তে হয়। এটি আরবী ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
  10. ১০. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الْكَافِرِينَ (রীন): আয়াতের শেষ শব্দ 'الْكَافِرِينَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'الْكَافِرِينَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত كسرة (ـِ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'আল-কাফিরীন' - যেখানে 'রী' অংশ টানা হবে।
৩৫ وَقُلْنَا ওয়া কুলনা يَا ইয়া--- آدَمُ আদামু اسْكُنْ উস্কুন্ أَنْتَ আংতা وَزَوْجُكَ ওয়া যাওজুকা الْجَنَّةَ আল-জান্নাতা وَكُلَا ওয়া কুলা مِنْهَا মিনহা رَغَدًا রাগাদান حَيْثُ হাইছু شِئْتُمَا শি'তুমা وَلَا ওয়া লা تَقْرَبَا তাক্বরাবা هَٰذِهِ হা-যিহি الشَّجَرَةَ আশ-শাজারাতা فَتَكُونَا ফাতাকূনা مِنَ মিনা الظَّالِمِينَ আজ-জালিমীন

(ওয়া কুলনা ইয়া--- আদামু উস্কুন্ আংতা ওয়া যাওজুকাল-জান্নাতা ওয়া কুলা মিনহা রাগাদান হাইছু শি'তুমা ওয়া লা তাক্বরাবা হা-যিহিশ-শাজারাতা ফাতাকূনা মিনাজ-জালিমীন)

অর্থ: আর আমি বললাম, 'হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং তা থেকে স্বাচ্ছন্দ্যে যেখানে ইচ্ছা আহার কর, তবে এই গাছের কাছে যেও না, তাহলে তোমরা যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।'

Meaning: And We said, "O Adam, dwell, you and your wife, in Paradise and eat therefrom in ease wherever you wish. But do not approach this tree, lest you be among the wrongdoers."

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ مُنْفَصِل (৪ আলিফ টান) ا + آ
    يَا آدَمُ (ইয়া---আদামা): এখানে 'يَا' শব্দের শেষে مَدّ এর হরফ ا (আলিফ) আছে এবং পরের শব্দ 'آدَمُ' শুরুতে هَمْزَة (آ) এসেছে। مَدّ ও هَمْزَة পৃথক দুটি শব্দে হওয়ায় একে مَدّ مُنْفَصِل বলে এবং এটি ৪ আলিফ পরিমাণ লম্বা করে টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'ইয়া---আদামা'। حفص এর তিলাওয়াতে مَدّ مُنْفَصِل-এ ৪ বা ৫ হরকত টানা জায়েয।
  2. ২. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ করা) ن + ت
    أَنْتَ (আংতা): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর ت (তা) এসেছে। ت إخفاء-র হরফ (১৫টি হরফের একটি)। তাই نون ساكنة-কে স্পষ্ট না করে ناكের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'আংতা' - যেখানে 'ং' অংশে হালকা গুন্নাহ থাকবে।
  3. ৩. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    الْجَنَّةَ (জান্-নাতাহ্): نون (ن) হরফের ওপর تَشْدِيد (ّ) থাকায় ناكের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় غُنَّة করা وَاجِب। উচ্চারণ 'জান্-নাতাহ্' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ হবে। تَشْدِيد-এর কারণে نون-কে দ্বিগুণ জোর দিয়ে এবং غُنَّة-সহ পড়তে হয়।
  4. ৪. إظهار حلقي (স্পষ্ট করে পড়া) ن + هـ ًا + ح
    مِنْهَا (মিন্-হা): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর هـ (হা) এসেছে। هـ حلقى حرف (৬টি حلقى حرف-এর একটি: ء، هـ، ع، ح، غ، خ)। তাই نون ساكنة-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'মিন্-হা' (নুন স্পষ্ট)।
    رَغَدًا حَيْثُ (রাগাদান হাইছু): এখানে تَنْوِين (ًا) এর পর ح (হা) এসেছে। تَنْوِين-ও نون ساكنة-র মতো। তাই ح حلقى হরফ হওয়ায় إظهار হবে - কোনো غُنَّة ছাড়াই স্পষ্ট পড়তে হবে। উচ্চারণ 'রাগাদান হাইছু' (তানভীন স্পষ্ট)।
  5. ৫. قلقلة (ধাক্কা দিয়ে পড়া) قْ
    تَقْرَبَا (তাক্বরাবা): এখানে ق (ক্বাফ) সাকিন (قْ) অবস্থায় আছে। ق قلقلة-র হরফ (পাঁচটি: قطب جد)। তাই এখানে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে। এটি صُغْرَىٰ (ছোট قلقلة) কারণ এটি শব্দের মাঝে এসেছে। উচ্চারণে 'ক্ব' এর মধ্যে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে।
  6. ৬. حروف اللين (নরম করে দ্রুত পড়া) و (আগে ফাতহা) ي (আগে ফাতহা)
    وَزَوْجُكَ (যাও-): এখানে و (ওয়াও) سَاكِن (وْ) এবং এর আগের হরফে فَتْحَة (زَ) আছে। এটি حرف اللين। এটা টান না দিয়ে নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়। উচ্চারণ 'যাও' - দ্রুত ও নরম।
    حَيْثُ (হাই-): এখানে ي (ইয়া) سَاكِن (يْ) এবং এর আগের হরফে فَتْحَة (حَ) আছে। এটি حرف اللين। নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে। উচ্চারণ 'হাই' - দ্রুত।
  7. ৭. مَدّ أصلي / طبيعي (১ আলিফ টান) ا و ٰ
    وَقُلْنَا (না-): 'قُلْنَا' এর শেষে আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    وَكُلَا (লা-): 'كُلَا' এর শেষে আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    شِئْتُمَا (মা-): 'تُمَا' এর শেষে আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    وَلَا (লা-): 'لَا' এর আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    تَقْرَبَا (বা-): 'قْرَبَا' এর শেষে আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    هَٰذِهِ (হা-): 'هَٰ' এর খাড়া যবর (ٰ) - ১ আলিফ টান। একে مَدّ تَمَكُّنও বলে।
    فَتَكُونَا (কূ- / না-): এখানে দুটি مَدّ। প্রথমটি 'تَكُونُ' এর و (ওয়াও) - পেশের পর واو ساكنة - ১ আলিফ টান। দ্বিতীয়টি শেষের আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
  8. ৮. إظهار شفوي (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) م + ا
    شِئْتُمَا (তুম্-মা): এখানে م (ميم ساكنة) এর পর ا (আলিফ) এসেছে। ميم ساكنة-এর পর ب বা م ছাড়া অন্য হরফ এলে إظهار شفوي হয়। অর্থাৎ ميم-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'তুম্-মা' - মীম স্পষ্ট।
  9. ৯. تَفْخِيم (মোটা করা) رَ ظ
    رَغَدًا (রা): এখানে ر (রা) হরফের ওপর فَتْحَة (رَ) আছে। ر مَفْخَّمَة (মোটা) হওয়ার শর্ত হলো এর حركة فَتْحَة বা ضَمَّة হওয়া অথবা سَاكِن অবস্থায় আগের হরফে فَتْحَة বা ضَمَّة থাকা। তাই এটি تَفْخِيم বা মোটা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রা' ভারী ও গভীর হবে।
    الظَّالِمِينَ (জোয়া-): এখানে ظ (যোয়া) হরফটি 'হরুফে ইস্তি'লায়া' বা সবসময় مَفْخَّمَة (মোটা) হরফ। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে। ظ مستعلية হরফ সাতটি: (خص ضغط قظ)।
  10. ১০. ترقيق (রা পাতলা) رِ
    الظَّالِمِينَ (রী-): এখানে ر (রা) হরফের নিচে كَسْرَة (رِ) আছে। ر مَرْقُقَة (পাতলা) হওয়ার শর্ত হলো এর حركة كَسْرَة হওয়া অথবা سَاكِن অবস্থায় আগের হরফে كَسْرَة থাকা। তাই এটি تَرْقِيق বা পাতলা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রি' চিকন হবে। এই একই শব্দে ظ মোটা এবং ر পাতলা - উভয়টি লক্ষ্য করুন।
  11. ১১. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الظَّالِمِينَ (মী-ন্): আয়াতের শেষ শব্দ 'الظَّالِمِينَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'الظَّالِمِينَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত كَسْرَة (ـِ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'আজ-জালিমীন' - যেখানে 'মী' অংশ টানা হবে।
৩৬ فَأَزَلَّهُمَا ফা-আযাল্লাহুমা الشَّيْطَانُ আশ-শাইতানু عَنْهَا আনহা فَأَخْرَجَهُمَا ফা-আখরাজাহুমা مِمَّا মিম্মা كَانَا কানা فِيهِ ফীহি ۖ وَقُلْنَا ওয়া কুলনা اهْبِطُوا ইহবিতূ بَعْضُكُمْ বা'দুকুম لِبَعْضٍ লিবা'দিন عَدُوٌّ আদুউউন وَلَكُمْ ওয়া লাকুম فِي ফী الْأَرْضِ আল-আরদ্বি مُسْتَقَرٌّ মুস্তাকাররুন وَمَتَاعٌ ওয়া মাতা'উন إِلَىٰ ইলা حِينٍ হাইনিন

(ফা-আযাল্লাহুমাশ-শাইতানু আনহা ফা-আখরাজাহুমা মিম্মা কানা ফীহি; ওয়া কুলনা ইহবিতূ বা'দুকুম লিবা'dিন আদুউউ-ওয়া লাকুম ফিল-আরদ্বি মুস্তাকাররু-ওয়া মাতা'উন ইলা- হাইন)

অর্থ: অতঃপর শয়তান তাদের উভয়কে সেখান থেকে পদস্খলিত করল এবং তারা যেখানে ছিল সেখান থেকে তাদের বের করে দিল। আর আমি বললাম, 'তোমরা নেমে যাও, তোমরা একে অপরের শত্রু হবে। আর তোমাদের জন্য পৃথিবীতে কিছুকাল বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা থাকবে।'

Meaning: Then Satan caused them to slip therefrom and removed them from that in which they were. And We said, "Go down, all of you, as enemies to one another, and you will have upon the earth a place of settlement and provision for a time."

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) مّ
    مِمَّا (মিম্মা): এখানে ميم (م) হরফের ওপর تَشْدِيد (ّ) আছে। ميم-এর ওপর তাশদীদ থাকলে ناكের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় غُنَّة করা وَاجِب। উচ্চারণ 'মিম্মা' - প্রথম 'ম্ম' অংশে গুন্নাহ হবে। এটি 'গুন্নাহ-এ-মীম' নামেও পরিচিত।
  2. ২. إظهار حلقي (স্পষ্ট করে পড়া) ن + هـ ٍ + ع
    عَنْهَا (আন্-হা): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর هـ (হা) এসেছে। هـ حلقى حرف (৬টি حلقى حرف-এর একটি: ء، هـ، ع، ح، غ، خ)। তাই نون ساكنة-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আন্-হা' (নুন স্পষ্ট)।
    لِبَعْضٍ عَدُوٌّ (দিন্ আদু): এখানে تَنْوِين (ٍ) এর পর ع (আইন) এসেছে। ع حلقى حرف হওয়ায় إظهار হবে - কোনো غُنَّة ছাড়াই স্পষ্ট পড়তে হবে। উচ্চারণ 'লিবা'দিন্ আদু' (তানভীন স্পষ্ট)।
  3. ৩. إدغام بغنة (গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়া) ٌ + و ٌ + و
    عَدُوٌّ وَلَكُمْ (আদুউউ-ওয়া): এখানে تَنْوِين (ٌ) এর পর إدغام-এর حرف و (ওয়াও) এসেছে। إدغام বিলা গুন্নাহ নয়, বরং إدغাম بغنة হবে। অর্থাৎ তানভীনকে و-এর সাথে মিলিয়ে ناكের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আদুউউ-ওয়া' - যেখানে প্রথম 'উ' অংশে গুন্নাহ থাকবে।
    مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ (ররুন-ওয়া): এখানেও تَنْوِين (ٌ) এর পর و (ওয়াও) আসায় একই নিয়মে إدغام بغنة হবে। উচ্চারণ 'মুস্তাকাররুন-ওয়া'।
  4. ৪. إظهار شفوي (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) م + ل م + ف
    بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ (কুম্-লি): এখানে م (ميم ساكنة) এর পর ل (লাম) এসেছে। ميم ساكنة-এর পর ب বা م ছাড়া অন্য হরফ এলে إظهار شفوي হয়। অর্থাৎ ميم-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'বা'দুকুম্-লিবা'দিন' - মীম স্পষ্ট।
    وَلَكُمْ فِي (কুম্-ফী): এখানে ميم ساكنة-এর পর ف (ফা) এসেছে। একই নিয়মে إظهار شفوي - মীম স্পষ্ট। উচ্চারণ 'ওয়া লাকুম্-ফী'।
  5. ৫. مَدّ أصلي / طبيعي (১ আলিফ টান) ا و ي ىٰ
    فَأَزَلَّهُمَا (মা-): 'هُمَا' অংশে হা-এর পরে আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    كَانَا (কা- / না-): এখানে দুটি আলিফ। প্রথমটি 'كَانَ' এর আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান। দ্বিতীয়টি 'نَا' এর আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    فِيهِ (ফী-): ياء ساكنة এবং আগে كسرة থাকায় ১ আলিফ টান।
    اهْبِطُوا (তূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    إِلَىٰ (লা-): আলিফ মাকসুরা (ىٰ) বা খাড়া যবর থাকায় ১ আলিফ টান।
    فِي (ফী-): ياء ساكنة এবং আগে كسرة থাকায় ১ আলিফ টান।
  6. ৬. حروف اللين (নরম করে দ্রুত পড়া) ي (আগে ফাতহা)
    الشَّيْطَانُ (শাই-): এখানে ي (ইয়া) سَاكِن (يْ) এবং এর আগের হরফে فَتْحَة (شَ) আছে। এটি حرف اللين। এটা টান না দিয়ে নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়। উচ্চারণ 'শাই' - দ্রুত ও নরম।
    حِينٍ (হাই-): এখানেও ي ساكن এবং আগে فَتْحَة (حَ) থাকায় حرف اللين। তবে ওয়াকফ করলে নিয়ম পরিবর্তন হবে (নিচে দেখুন)।
  7. ৭. تَفْخِيم (রা মোটা করা) رَ رْ (আগে فَتْحَة) رّ (তাশদীদ + پيش)
    فَأَخْرَجَهُمَا (রা-): এখানে ر (রা) হরফের ওপর فَتْحَة (رَ) আছে। ر مَفْخَّمَة (মোটা) হওয়ার শর্ত হলো এর حركة فَتْحَة বা ضَمَّة হওয়া। তাই এটি تَفْخِيم বা মোটা করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রা' ভারী ও গভীর হবে।
    الْأَرْضِ (আর-): এখানে ر سَاكِن (رْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (أَ) আছে। র سَاكِن-ও মোটা হবে যখন আগের হরফে فَتْحَة বা ضَمَّة থাকে। তাই এটিও মোটা করে পড়তে হবে।
    مُسْتَقَرٌّ (রার-): এখানে ر (রা) হরফের ওপর تَشْدِيد (رّ) এবং তার হরকত ضَمَّة (ـُ) আছে। তাই এটি মোটা করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'মুস্তাকাররুন' - যেখানে 'রর' অংশ মোটা ও জোরালো হবে।
  8. ৮. إدغام بغنة (উপরের মত) ٌ + و
    مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ (ররুন-ওয়া): ইতিমধ্যে নং ৩-এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি إدغام بغنة।
  9. ৯. إظهار (তানভীন + هَمْزَة) ٌ + إ
    وَمَتَاعٌ إِلَىٰ (উন্ ইলা): এখানে تَنْوِين (ٌ) এর পর هَمْزَة (إ) এসেছে। هَمْزَة حلقى حرف হওয়ায় এটি إظهار হবে। অর্থাৎ কোনো غُنَّة ছাড়াই তানভীনকে স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'ওয়া মাতা'উন্ ইলা' - তানভীন স্পষ্ট।
  10. ১০. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    حِينٍ (হী-ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'حِينٍ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'حِينٍ' এর মূল ছিল 'حِينٍ' (তানভীন সহ)। থামার কারণে আমরা تَنْوِين-কে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'হাইন' - যেখানে 'হাই' অংশ টানা হবে।
৩৭ فَتَلَقَّىٰ ফাতালাক্কা آدَمُ আদামু مِنْ মির্ رَبِّهِ রাব্বিহী كَلِمَاتٍ কালিমাতিন فَتَابَ ফাতাবা عَلَيْهِ আলাইহি ۚ إِنَّهُ ইন্নাহু هُوَ হুওয়া التَّوَّابُ আত-তাওয়াবু الرَّحِيمُ আর-রাহীমু

(ফাতালাক্কা আদামু মির্‌রাব্বিহী কালিমাতিন ফাতাবা আলাইহি; ইন্নাহু হুওয়াত-তাওয়াবুর-রাহীম)

অর্থ: অতঃপর আদম তার প্রতিপালকের কাছ থেকে কিছু কালিমা শিক্ষা করলেন। তারপর আল্লাহ তার তাওবা কবুল করলেন। নিশ্চয় তিনি অতি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।

Meaning: Then Adam received from his Lord words, and He accepted his repentance. Indeed, He is the Accepting of Repentance, the Merciful.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ أصلي ও بَدَل (১ আলিফ টান) ىٰ آ ا
    فَتَلَقَّىٰ (ক্ব-): খাড়া যবর (ىٰ) থাকায় ১ আলিফ টান। এটি مَدّ أصلي।
    آدَمُ (আ-): 'آ' (হামজা+আলিফ) - এটি مَدّ بَدَل (হামজার ওপর খাড়া যবর), তাই ১ আলিফ টানতে হবে।
    فَتَابَ (তা-): 'تا' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান। এটি مَدّ أصلي।
  2. ২. إدغام بلا غنة (গুন্নাহ ছাড়া মিলিয়ে পড়া) ن + ر
    مِنْ رَبِّهِ (মির্‌রাব্বিহি): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর ر (রা) এসেছে। إدغام-এর হরফ দুটি হলো (ي، ر، م، ل، و، ن)। এর মধ্যে ر এবং ل-এ إدغام بلا غنة হয়। অর্থাৎ نون ساكنة-কে ر-এর সাথে মিলিয়ে দিতে হবে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই। উচ্চারণ হবে 'মির্‌রাব্বিহি' - সরাসরি মিলিয়ে।
  3. ৩. صلة كبرى (১ আলিফ টান) هِ (উল্টো যের) ر-এর تَفْخِيم (মোটা) رَ
    رَبِّهِ (রাব্বিহী): এখানে هاء ضمير (হা) এর নিচে উল্টো যের (هِ) আছে। এটি صلة كبرى - যখন هاء এর পরে হামজা থাকে না কিন্তু পূর্ণ বিরতি না দিয়ে পড়া হয়, তখন ১ আলিফ টানতে হয়। উচ্চারণ 'রাব্বিহী' - 'হী' অংশ টানা।
    رَبِّهِ-এর 'ر' হরফটি يبر (رَ) থাকায় এটি مَفْخَّمَة (মোটা) করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রা' ভারী ও গভীর হবে।
  4. ৪. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ٍ + ف
    كَلِمَاتٍ فَتَابَ (কালিমাতিন ফাতাবা): এখানে تَنْوِين (ٍ) এর পর ف (ফা) এসেছে। ف إخفاء-র হরফ (১৫টি হরফের একটি)। তাই تَنْوِين-কে স্পষ্ট না করে ناكের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'কালিমাতিং-ফাতাবা' - যেখানে 'তিং' অংশে গুন্নাহ থাকবে।
  5. ৫. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ لين (নরম) يْ
    إِنَّهُ (ইন্-নাহু): نون (ن) হরফের ওপর تَشْدِيد (ّ) থাকায় ناكের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় غُنَّة করা وَاجِب। উচ্চারণ 'ইন্-নাহু' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ।
    عَلَيْهِ (আলাইহি): এখানে ي (ইয়া) سَاكِن (يْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (عَ) আছে। এটি حرف اللين। তবে এখানে বিরতি (ۚ) থাকায় থামলে এটি مَدّ عارِض لِلِّين হবে এবং ২, ৪ বা ৬ হরকত টানা যাবে। ওয়াসল অবস্থায় (মিলিয়ে পড়লে) এটি লীন হিসেবেই থাকবে - নরমভাবে দ্রুত।
  6. ৬. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الرَّحِيمُ (হী-ম): আয়াতের শেষ শব্দ 'الرَّحِيمُ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'الرَّحِيمُ' এর শেষ হরফ 'م' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। এছাড়া 'الرَّحِيمُ' এর 'ر' হরফটি تَشْدِيد (رّ) ও فَتْحَة-এর কারণে مَفْخَّمَة (মোটা) হবে। উচ্চারণ 'আর-রাহীম্' - যেখানে 'হী' অংশ টানা হবে এবং 'র' মোটা।
৩৮ قُلْنَا কুলনা اهْبِطُوا ইহবিতূ مِنْهَا মিনহা جَمِيعًا জামী'আন ۖ فَإِمَّا ফা-ইম্মা يَأْتِيَنَّكُمْ ইয়া'তিয়ান্নাকুম مِنِّي মিন্নী هُدًى হুদান فَمَنْ ফামাং تَبِعَ তাবি'আ هُدَايَ হুদায়া فَلَا ফালা خَوْفٌ খাওফুন عَلَيْهِمْ আলাইহিম وَلَا ওয়ালা هُمْ হুম يَحْزَنُونَ ইয়াহযানূন

(কুলনা ইহবিতূ মিনহা জামী'আন; ফা-ইম্মা ইয়া'তিয়ান্নাকুম মিন্নী হুদান ফামাং তাবি'আ হুদায়া ফালা খাওফুন আলাইহিম ওয়া লা হুম ইয়াহযানূন)

অর্থ: আমি বললাম, 'তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের কাছে আমার পক্ষ থেকে কোনো হিদায়াত আসে, তাহলে যে আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।'

Meaning: We said, "Go down from it, all of you. And when guidance comes to you from Me, whoever follows My guidance - there will be no fear concerning them, nor will they grieve."

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ا و ي
    قُلْنَا (না-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    اهْبِطُوا (তূ-): واو ساكنة (و) - ১ আলিফ টান।
    مِنْهَا (হা-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    جَمِيعًا (মী-): ياء ساكنة (ي) - ১ আলিফ টান।
    فَلَا (লা-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    وَلَا (লা-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    هُدَايَ (দা-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
  2. ২. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) مّ نّ إدغام مثلين م + مّ
    فَإِمَّا (ইম্মা): ميم (م) হরফের ওপর تَشْدِيد (مّ) থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ ওয়াজিব। উচ্চারণ 'ইম্মা' - প্রথম 'ম্ম' এ গুন্নাহ।
    يَأْتِيَنَّكُمْ (ইয়ান্-না): نون (ن) হরফের ওপর تَشْدِيد (نّ) থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ ওয়াজিব। উচ্চারণ 'ইয়া'তিয়ান্-নাকুম'।
    مِنِّي (মিন্-নী): নুন তাসদীদে ওয়াজিব গুন্নাহ।
    يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي (কুম্-মিন্নি): এখানে প্রথম শব্দের শেষে م (ميم ساكنة) এবং পরের শব্দের শুরুতে تَشْدِيدযুক্ত م (مّ) এসেছে। এটি إدغام مثلين صغير - দুটি ميم মিলে গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ 'ইয়া'তিয়ান্নাকুম্-মিন্নী'।
  3. ৩. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + هـ ً + ف ن + ت
    مِنْهَا (মিনহা): ن (نون ساكنة) এর পর هـ (হা) আসায় এটি إظهار حلقي - স্পষ্ট পড়তে হবে। এটি إخفاء নয়, إظهار। নং ৪-এ দেখুন।
    هُدًى فَمَنْ (হুদান ফামাং): تَنْوِين (ً) এর পর ف (ফা) আসায় إخفاء হবে - নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ। উচ্চারণ 'হুদাং-ফামাং'।
    فَمَنْ تَبِعَ (ফামাং তাবি'আ): ن (نون ساكنة) এর পর ت (তা) আসায় إخفاء হবে - গুন্নাহসহ লুকিয়ে। উচ্চারণ 'ফামাং-তাবি'আ'।
  4. ৪. إظهار حلقي (স্পষ্ট করে পড়া) ن + هـ
    مِنْهَا (মিনহা): ن (نون ساكنة) এর পর هـ (হা) এসেছে। هـ حلقى حرف (৬টি حلقى حرف-এর একটি)। তাই نون ساكنة-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'মিন্-হা' (নুন স্পষ্ট)।
  5. ৫. إظهار شفوي (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) م + و م + ي
    عَلَيْهِمْ وَلَا (হিম্ ওয়া): م (ميم ساكنة) এর পর و (ওয়াও) আসায় ميم-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আলাইহিম্-ওয়া' - মীম স্পষ্ট।
    هُمْ يَحْزَنُونَ (হুম্ ইয়াহ): ميم ساكنة-এর পর ي (ইয়া) আসায় إظهار شفوي - মীম স্পষ্ট।
  6. ৬. لين (নরম করে পড়া) و (আগে فَتْحَة) ي (আগে فَتْحَة)
    خَوْفٌ (খাও-): و (ওয়াও) سَاكِن (وْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (خَ) থাকায় এটি حرف اللين। নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে।
    عَلَيْهِمْ (লাই-): ي (ইয়া) سَاكِن (يْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (عَ) থাকায় এটি حرف اللين।
  7. ৭. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    يَحْزَنُونَ (নূ---ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'يَحْزَنُونَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'يَحْزَنُونَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'ইয়াহযানূন্' - যেখানে 'নূ' অংশ টানা হবে।
৩৯ وَالَّذِينَ ওয়াল্লাযীনা كَفَرُوا কাফারূ وَكَذَّبُوا ওয়া কাযযাবূ بِآيَاتِنَا বি-আয়াতিনা أُولَٰئِكَ উলাইকা أَصْحَابُ আসহাবু النَّارِ আন্‌নারি ۖ هُمْ হুম فِيهَا ফীহা خَالِدُونَ খালিদূন

(ওয়াল্লাযীনা কাফারূ ওয়া কাযযাবূ বি-আয়াতিনা উলাইকা আসহাবুন্‌নারি; হুম ফীহা খালিদূন)

অর্থ: আর যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে, তারাই আগুনের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।

Meaning: And those who disbelieve and deny Our signs - those will be companions of the Fire; they will abide therein eternally.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ي و ا
    وَالَّذِينَ (যী-): ياء ساكنة এবং আগে كسرة থাকায় ১ আলিফ টান।
    كَفَرُوا (রূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَكَذَّبُوا (বূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    بِآيَاتِنَا (আ- / ইয়া- / না-): এখানে তিনটি مَدّ। প্রথমটি 'آ' - مَدّ بَدَل (১ আলিফ)। দ্বিতীয়টি 'يَاتِ' এর ياء ساكنة - ১ আলিফ। তৃতীয়টি 'نَا' এর আলিফ - ১ আলিফ।
    خَالِدُونَ (খা-): 'خَا' এর আলিফ - ১ আলিফ টান।
  2. ২. مَدّ مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) ئ
    أُولَٰئِكَ (উলা-ইকা): এখানে 'أُولَٰئِ' অংশে مَدّ এর হরফ (ا) এবং হَمْزَة (ئ) একই শব্দের ভেতরে এসেছে। তাই এটি مَدّ مُتَّصِل এবং ৪ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'উলা---ইকা'।
  3. ৩. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ تَفْخِيم (মোটা হরফ) ص
    النَّارِ (আন্-না-): نون (ن) হরফের ওপর تَشْدِيد (نّ) থাকায় ناكের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় غُنَّة করা وَاجِب। উচ্চারণ 'আন্-নারি' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ।
    أَصْحَابُ (আসহাবু): ص (সোয়াদ) হরফটি 'হরুফে ইস্তি'লায়া' বা সবসময় مَفْخَّمَة (মোটা) হরফ। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে। ص مستعلية হরফ সাতটি: (خص ضغط قظ)।
  4. ৪. إظهار شفوي (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) م + ف
    هُمْ فِيهَا (হুম্ ফীহা): م (ميم ساكنة) এর পর ف (ফা) এসেছে। ميم ساكنة-এর পর ب বা م ছাড়া অন্য হরফ এলে إظهار شفوي হয়। অর্থাৎ ميم-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'হুম্-ফীহা' - মীম স্পষ্ট।
  5. ৫. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    خَالِدُونَ (দূ---ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'خَالِدُونَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'خَالِدُونَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'খালিদূন্' - যেখানে 'দূ' অংশ টানা হবে।
৪০ يَا ইয়া--- بَنِي বানী--- إِسْرَائِيلَ ইসরা-ঈলা اذْكُرُوا উযকুরূ نِعْمَتِيَ নি'মাতিয়া الَّتِي আল্লাতী أَنْعَمْتُ আন'আম্তু عَلَيْكُمْ আলাইকুম وَأَوْفُوا ওয়া আওফূ بِعَهْدِي বি'আহ্দী أُوفِ ঊফি بِعَهْدِكُمْ বি'আহ্দিকুম وَإِيَّايَ ওয়া ইয়্যায়া فَارْهَبُونِ ফারহাবূনি

(ইয়া--- বানী--- ইসরা-ঈলা উযকুরূ নি'মাতিয়াল্লাতী আন'আম্তু আলাইকুম ওয়া আওফূ বি'আহ্দী ঊফি বি'আহ্দিকুম ওয়া ইয়্যায়া ফারহাবূনি)

অর্থ: হে বনী ইসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ কর যা আমি তোমাদের উপর করেছিলাম এবং তোমরা আমার সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ কর, আমিও তোমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করব। আর আমাকেই ভয় কর।

Meaning: O Children of Israel, remember My favor which I have bestowed upon you and fulfill My covenant upon you that I will fulfill your covenant. And be afraid of Me.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ مُنْفَصِل ও مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) ا + ب (مُنْفَصِل) ي + إ (مُنْفَصِل) ائ (مُتَّصِل)
    يَا بَنِي (ইয়া--- বানী---): 'يَا' শব্দের শেষে مَدّ (ا) এবং পরের শব্দ 'بَنِي' শুরুতে ب (বা) নেই, বরং পরের শব্দ 'إِسْرَائِيلَ' এর সাথে সম্পর্ক। আসলে 'يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ' - এখানে 'يَا' এর مَدّ এবং 'بَنِي' এর مَدّ দুটোই مَدّ مُنْفَصِل কারণ পরের শব্দ 'إِسْرَائِيلَ' শুরুতে هَمْزَة (إ) আছে। তাই উভয় স্থানে ৪ আলিফ টান।
    إِسْرَائِيلَ (ইসরা-ঈলা): এখানে 'إِسْرَائِيلَ' শব্দের মধ্যে 'ائ' অংশে مَدّ و هَمْزَة একই শব্দে থাকায় مَدّ مُتَّصِل - ৪ আলিফ টান।
  2. ২. إظهار (স্পষ্ট করে পড়া) ن + ع م + ت م + و
    أَنْعَمْتُ (আন্'আম্তু): এখানে দুটি إظهار। প্রথমটি ن (نون ساكنة) এর পর ع (আইন) - إظهار حلقي (স্পষ্ট)। দ্বিতীয়টি م (ميم ساكنة) এর পর ت (তা) - إظهار شفوي (মীম স্পষ্ট)।
    عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا (কুম্ ওয়া): ميم ساكنة এর পর و (ওয়াও) - إظهار شفوي।
  3. ৩. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) و ي
    اذْكُرُوا (রূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    أَوْفُوا (ফূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    بِعَهْدِي (দী-): ياء ساكنة এবং আগে كسرة থাকায় ১ আলিফ টান।
    إِيَّايَ (ইয়া-): ياء ساكنة এবং আগে كسرة থাকায় ১ আলিফ টান।
  4. ৪. ر-এর تَفْخِيم (মোটা) رَ رُ رْ (আগে فَتْحَة)
    إِسْرَائِيلَ (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় মোটা হবে।
    اذْكُرُوا (রূ-): رُ (রা পেশ) থাকায় মোটা হবে।
    فَارْهَبُونِ (ফার্-): رْ ساكنة এবং আগের হরফে فَتْحَة (فَا) থাকায় মোটা হবে।
  5. ৫. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    فَارْهَبُونِ (বূ---নি): আয়াতের শেষ শব্দ 'فَارْهَبُونِ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'فَارْهَبُونِ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত كسرة (ـِ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'ফারহাবূন্' - যেখানে 'বূ' অংশ টানা হবে।
৪১ وَآمِنُوا ওয়া আমিনূ بِمَا বিমা--- أَنْزَلْتُ আংযাল্তু مُصَدِّقًا মুসাদ্দিক্বাল্ لِمَا লিমা مَعَكُمْ মা'আকুম وَلَا ওয়ালা تَكُونُوا তাকুনূ--- أَوَّلَ আওওয়ালা كَافِرٍ কাফিরিম্ بِهِ বিহি ۖ وَلَا ওয়ালা تَشْتَرُوا তাশতারূ بِآيَاتِي বি-আয়াতী ثَمَنًا ছামানাং قَلِيلًا কালীলান وَإِيَّايَ ওয়া ইয়্যায়া فَاتَّقُونِ ফাত্তাকূনি

(ওয়া আমিনূ বিমা--- আংযাল্তু মুসাদ্দিক্বাল্ লিমা মা'আকুম ওয়া লা তাকুনূ--- আওওয়ালা কাফিরিম্ বিহি; ওয়া লা তাশতারূ বি-আয়াতী ছামানাং কালীলাওঁ ওয়া ইয়্যায়া ফাত্তাকূনি)

অর্থ: আর তোমাদের কাছে যা নাযিল করা হয়েছে (কুরআন) তার উপর ঈমান আন, যা তোমাদের কাছে থাকা (তওরাত) সত্যায়ন করে। আর তোমরাই তার প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে সামান্য মূল্য ক্রয় করো না। আর আমাকেই ভয় কর।

Meaning: And believe in what I have sent down confirming that which is with you, and be not the first to disbelieve in it. And do not exchange My signs for a small price, and fear Me alone.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ مُنْفَصِل (৪ আলিফ টান) ا + أ و + أ
    بِمَا أَنْزَلْتُ (বিমা--- আংযাল্তু): 'بِمَا' শব্দের শেষে مَدّ (ا) এবং পরের শব্দ 'أَنْزَلْتُ' শুরুতে هَمْزَة (أ) আসায় ৪ আলিফ টান।
    تَكُونُوا أَوَّلَ (তাকুনূ--- আওওয়ালা): 'تَكُونُوا' শব্দের শেষে مَدّ (و) এবং পরের শব্দ 'أَوَّلَ' শুরুতে هَمْزَة (أ) আসায় ৪ আলিফ টান।
  2. ২. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ز ًا + ق
    أَنْزَلْتُ (আংযাল্তু): ن (نون ساكنة) এর পর ز (যা) আসায় إخفاء হবে - ناكের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ। উচ্চারণ 'আংযাল্তু'।
    ثَمَنًا قَلِيلًا (ছামানাং কালীলা): تَنْوِين (ًا) এর পর ق (ক্বাফ) আসায় إخفاء হবে - গুন্নাহসহ লুকিয়ে। উচ্চারণ 'ছামানাং-কালীলা'।
  3. ৩. إدغام بلا غنة (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) ًا + ل إقلاب (পরিবর্তন করে গুন্নাহ) ٍ + ب
    مُصَدِّقًا لِمَا (মুসাদ্দিক্বাল্ লিমা): تَنْوِين (ًا) এর পর ل (লাম) আসায় إدغام بلا غنة হবে - কোনো গুন্নাহ ছাড়াই সরাসরি মিলিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'মুসাদ্দিক্বাল্-লিমা'।
    كَافِرٍ بِهِ (কাফিরিম্ বিহি): تَنْوِين (ٍ) এর পর ب (বা) আসায় إقلاب হবে - তানভীনকে মীম দিয়ে পরিবর্তন করে গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ 'কাফিরিম্-বিহি'।
  4. ৪. مَدّ أصلي و بَدَل (১ আলিফ টান) آ و ا ي
    وَآمِنُوا (আ- / নূ-): 'آ' مَدّ بَدَل (১ আলিফ) এবং 'نُوا' এর واو ساكنة (১ আলিফ)।
    لِمَا (মা-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান।
    وَلَا (লা-): আলিফ (ا) - ১ আলিফ টান (দুইবার)।
    تَشْتَرُوا (রূ-): واو ساكنة - ১ আলিফ টান।
    بِآيَاتِي (আ- / ইয়া- / তী-): 'آ' مَدّ بَدَل (১ আলিফ), 'يَاتِ' এর ياء ساكنة (১ আলিফ), শেষের 'ي' মাদ্দ নয় কারণ তা ساكن নয়।
  5. ৫. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    فَاتَّقُونِ (কূ---নি): আয়াতের শেষ শব্দ 'فَاتَّقُونِ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'فَاتَّقُونِ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত كسرة (ـِ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'ফাত্তাকূন্' - যেখানে 'কূ' অংশ টানা হবে।
৪২ وَلَا ওয়ালা تَلْبِسُوا তালবিসূ الْحَقَّ আল-হাক্কা بِالْبَاطِلِ বিল-বাতিলি وَتَكْتُمُوا ওয়া তাক্তুমূ الْحَقَّ আল-হাক্কা وَأَنْتُمْ ওয়া আংতুম تَعْلَمُونَ তা'লামূন

(ওয়ালা তালবিসূল হাক্কা বিল-বাতিলি ওয়া তাক্তুমূল হাক্কা ওয়া আংতুম তা'লামূন)

অর্থ: তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-শুনে সত্য গোপন করো না।

Meaning: And do not mix the truth with falsehood or conceal the truth while you know.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ا و
    وَلَا (লা-): 'لَا' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    تَلْبِسُوا (সূ-): واو ساكنة (و) এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
    بِالْبَاطِلِ (বা-): 'بَاطِلِ' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَتَكْتُمُوا (মূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
  2. ২. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ت
    وَأَنْتُمْ (ওয়া আংতুম): ن (نون ساكنة) এর পর ت (তা) এসেছে। ت إخفاء-র হরফ (১৫টি হরফের একটি)। তাই نون ساكنة-কে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে 'ওয়া আংতুম' - যেখানে 'আং' অংশে গুন্নাহ থাকবে।
  3. ৩. إظهار شفوي (মীম স্পষ্ট করা) م + ت
    أَنْتُمْ تَعْلَمُونَ (আংতুম তা'লামূন): م (ميم ساكنة) এর পর ت (তা) এসেছে। ميم ساكنة-এর পর ب বা م ছাড়া অন্য হরফ এলে إظهار شفوي হয়। অর্থাৎ ميم-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'তুম্-তা' - মীম স্পষ্ট।
  4. ৪. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    تَعْلَمُونَ (মূ---ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'تَعْلَمُونَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'تَعْلَمُونَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'তা'লামূন্' - যেখানে 'মূ' অংশ টানা হবে।
৪৩ وَأَقِيمُوا ওয়া আক্বীমূ الصَّلَاةَ আস্-সালাতা وَآتُوا ওয়া আতূ الزَّكَاةَ আয-যাকাতা وَارْكَعُوا ওয়ারকা'ঊ مَعَ মা'আ الرَّاكِعِينَ আর-রাকি'ঈন

(ওয়া আক্বীমুস্-সালাতা ওয়া আতূয্-যাকাতা ওয়ারকা'ঊ মা'আর-রাকি'ঈন)

অর্থ: তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।

Meaning: And establish prayer and give zakah and bow with those who bow.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ أصلي و بَدَل (১ আলিফ টান) ي و ا آ
    وَأَقِيمُوا (ক্বী-/মূ-): 'قِيمُ' অংশে ياء ساكنة (ي) এবং واو ساكنة (و) - উভয় স্থানে ১ আলিফ টান।
    الصَّلَاةَ (লা-): খাড়া যবর (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَآتُوا (আ-): 'آ' مَدّ بَدَل (১ আলিফ) এবং 'تُوا' এর واو ساكنة (১ আলিফ)।
    الزَّكَاةَ (কা-): খাড়া যবর (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَارْكَعُوا (ঊ-): واو ساكنة (و) এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান।
  2. ২. ر-এর تَفْخِيم (মোটা করা) رْ (আগে فَتْحَة) رّ (تَشْدِيد + فَتْحَة)
    وَارْكَعُوا (আর-): ر ساكنة (رْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (وَارْ) থাকায় ر مَفْخَّمَة (মোটা) হবে। উচ্চারণে 'র' ভারী ও গভীর হবে।
    الرَّاكِعِينَ (রা-): رّ (রা তাশদীদযুক্ত) এবং তার হরকত فَتْحَة থাকায় এটি মোটা করে পড়তে হবে।
  3. ৩. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الرَّاكِعِينَ (ঈ---ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'الرَّاكِعِينَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'الرَّاكِعِينَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত كسرة (ـِ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'আর-রাকি'ঈন্' - যেখানে 'ঈ' অংশ টানা হবে।
৪৪ ۞ أَتَأْمُرُونَ আতা'মুরূন النَّاسَ আন্‌নাসা بِالْبِرِّ বিল-বির্রি وَتَنْسَوْنَ ওয়া তাংসাওনা أَنْفُسَكُمْ আংফুসাকুম وَأَنْتُمْ ওয়া আংতুম تَتْلُونَ তাতলূন الْكِتَابَ আল-কিতাবা ۚ أَفَلَا আফালা تَعْقِلُونَ তা'কিলূন

(আতা'মুরূনান্‌নাসা বিল-বির্রি ওয়া তাংসাওনা আংফুসাকুম ওয়া আংতুম তাতলূনাল-কিতাবা; আফালা তা'কিলূন)

অর্থ: তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের আদেশ দাও আর নিজেদেরকে ভুলে যাও? অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর। তোমরা কি বুঝ না?

Meaning: Do you enjoin righteousness upon mankind while you forget yourselves, and you recite the Scripture? Then will you not reason?

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. هَمْزَة سَاكِنَة (ঝটকা দেওয়া) أ
    أَتَأْمُرُونَ (আতা'মুরূন): এখানে দ্বিতীয় هَمْزَة (أ) টি সাকিন (أْتَ) অবস্থায় আছে। هَمْزَة سَاكِنَة হলে তাকে স্বরযন্ত্রে সামান্য ঝটকা দিয়ে (نَبْرَة) দ্রুত উচ্চারণ করতে হয়। উচ্চারণে 'আতা'মুরূন' - 'তা' অংশে হালকা ধাক্কা।
  2. ২. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    النَّاسَ (আন্‌নাসা): نون (ن) হরফের ওপর تَشْدِيد (نّ) থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় غُنَّة করা وَاجِب। উচ্চারণ 'আন্‌নাসা' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ।
  3. ৩. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + س ن + ف ن + ت
    تَنْسَوْنَ (তাংসাওনা): ن (نون ساكنة) এর পর س (সীন) আসায় إخفاء হবে - নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ। উচ্চারণ 'তাংসাওনা'।
    أَنْفُسَكُمْ (আংফুসাকুম): ن (نون ساكنة) এর পর ف (ফা) আসায় إخفاء হবে - গুন্নাহসহ লুকিয়ে। উচ্চারণ 'আংফুসাকুম'।
    وَأَنْتُمْ (ওয়া আংতুম): ن (نون ساكنة) এর পর ت (তা) আসায় إخفاء হবে - গুন্নাহসহ লুকিয়ে। উচ্চারণ 'ওয়া আংতুম'।
  4. ৪. ر-এর تَفْخِيم (মোটা) رُ ر-এর تَرْقِيق (পাতলা) رِّ (كَسْرَة)
    أَتَأْمُرُونَ (রূ-): رُ (রা পেশ) থাকায় এটি مَفْخَّمَة (মোটা) হবে।
    بِالْبِرِّ (বির্রি): رِّ এর নিচে كَسْرَة (رِ) থাকায় এটি مَرْقُقَة (পাতলা) করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রি' অত্যন্ত চিকন হবে।
  5. ৫. لين (নরম করে পড়া) و (আগে فَتْحَة) مَدّ أصلي (১ আলিফ) و ا
    تَنْسَوْنَ (সাও-): و (ওয়াও) سَاكِن (وْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (سَ) থাকায় এটি حرف اللين - নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে।
    تَتْلُونَ (লূ-): واو ساكنة এবং আগে পেশ থাকায় ১ আলিফ টান (مَدّ أصلي)।
    الْكِتَابَ (تا-): আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান (مَدّ أصلي)।
    أَفَلَا (লা-): আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান (مَدّ أصلي)।
  6. ৬. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    تَعْقِلُونَ (লূ---ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'تَعْقِلُونَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'تَعْقِلُونَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'و' (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে 'তা'কিলূন্' - যেখানে 'লূ' অংশ টানা হবে।
৪৫ وَاسْتَعِينُوا ওয়াস্তা'ঈনূ بِالصَّبْرِ বিস্-সাবরি وَالصَّلَاةِ ওয়াস্-সালাতি ۚ وَإِنَّهَا ওয়া ইন্নাহা لَكَبِيرَةٌ লাকাবীরাতুন إِلَّا ইল্লা عَلَى আলা الْخَاشِعِينَ আল-খাশি'ঈন

(ওয়াস্তা'ঈনূ বিস্-সাবরি ওয়াস্-সালাতি; ওয়া ইন্নাহা লাকাবীরাতুন ইল্লা আলাল-খাশি'ঈন)

অর্থ: তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় এটি খুবই কঠিন, কিন্তু বিনীতদের জন্য সহজ।

Meaning: And seek help through patience and prayer. And indeed, it is difficult except for the humble.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. قَلْقَلَة (ধাক্কা দিয়ে পড়া) بْ
    بِالصَّبْرِ (বিস্-সাবরি): এখানে كلمة "بِالصَّبْرِ" এর মাঝে 'بْ' (با ساكنة) আছে। قلقلة-র হরফ পাঁচটি: قطب جد (ق، ط، ب، ج، د)। এর মধ্যে 'ب' সাকিন অবস্থায় আসায় এখানে ধাক্কা দিয়ে বা প্রতিধ্বনি (echo) সৃষ্টি করে পড়তে হবে। এটি صُغْرَىٰ (ছোট قلقلة) কারণ এটি শব্দের মাঝে এসেছে। উচ্চারণে 'ব' এর মধ্যে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে - 'সাব্রি' নয় বরং 'সাব্-রি' যেখানে 'ব' এ ধাক্কা।
  2. ২. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    وَإِنَّهَا (ওয়া ইন্নাহা): نون (ن) হরফের ওপর تَشْدِيد (نّ) থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় غُنَّة করা وَاجِب। উচ্চারণ 'ওয়া ইন্নাহা' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ।
  3. ৩. إظهار حلقي (স্পষ্ট করে পড়া) ٌ + إ
    لَكَبِيرَةٌ إِلَّا (কাবীরাতুন ইল্লা): تَنْوِين (ٌ) এর পর إ (হামজা) এসেছে। হামজা حلقى حرف (৬টি حلقى حرف-এর একটি)। তাই تَنْوِين-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'কাবীরাতুন্-ইল্লা' (তানভীন স্পষ্ট)।
  4. ৪. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ي و ا ى
    وَاسْتَعِينُوا (ঈ-/নূ-): 'عِينُ' অংশে ياء ساكنة (ي) এবং واو ساكنة (و) - উভয় স্থানে ১ আলিফ টান।
    وَالصَّلَاةِ (লা-): আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَإِنَّهَا (হা-): 'هَا' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    إِلَّا (লা-): আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
    عَلَى (লা-): আলিফ মাকসুরা (ى) থাকায় ১ আলিফ টান।
    الْخَاشِعِينَ (খা-): 'خَاشِعِينَ' অংশে আলিফ (ا) থাকায় ১ আলিফ টান।
  5. ৫. ر-এর تَفْخِيم (মোটা) رَ ر-এর تَرْقِيق (পাতলা) رِ
    لَكَبِيرَةٌ (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় এটি مَفْخَّمَة (মোটা) হবে। উচ্চারণে 'রা' ভারী ও গভীর হবে।
    بِالصَّبْرِ (রি): رِ (রা যের) থাকায় এটি مَرْقُقَة (পাতলা) করে পড়তে হবে। উচ্চারণে 'রি' চিকন হবে।
  6. ৬. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الْخَاشِعِينَ (ঈ---ন): আয়াতের শেষ শব্দ 'الْخَاشِعِينَ'। যখন আমরা এই আয়াতের শেষে وَقْف (থামা) করি, তখন 'الْخَاشِعِينَ' এর শেষ হরফ 'ن' এর মূল হরকত كسرة (ـِ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ 'ي' (ইয়া) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। এছাড়া 'الْخَاشِعِينَ' এর 'خ' হরফটি مَفْخَّمَة (মোটা) হরফ। উচ্চারণ হবে 'আল-খাশি'ঈন্' - যেখানে 'ঈ' অংশ টানা হবে এবং 'খ' মোটা।
৪৬ الَّذِينَ আল্লাযীনা يَظُنُّونَ ইয়াযোন্নূনা أَنَّهُمْ আন্নাহুম مُلَاقُو মুলা-ক্বূ رَبِّهِمْ রাব্বিহিম وَأَنَّهُمْ ওয়া আন্নাহুম إِلَيْهِ ইলাইহি رَاجِعُونَ রা-জিঊন

(আল্লাযীনা ইয়াযোন্নূনা আন্নাহুম-মুলা-ক্বূ রাব্বিহিম ওয়া আন্নাহুম ইলাইহি রা-জিঊন)

অর্থ: যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে যে, তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং নিশ্চয় তারা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।

Meaning: Who are certain that they will meet their Lord and that they will return to Him.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. লামে শামসিয়া ال + ذ
    الَّذِينَ (আল্লাযীনা): 'ال' এর পরে শামসি হরফ 'ذ' (যাল) এসেছে। নিয়ম: লাম উচ্চারণে আসে না, পরের হরফে তাশদীদ হয়। তাই 'আল্লাযীনা' পড়তে হবে।
  2. ২. তাখফিম (متفخیم حروف) ظ
    يَظُنُّونَ (ইয়া-যো-ন্নূ-না): 'ظ' (যোয়া) হরফটি সবসময় মোটা হরফ (হরুফে ইস্তিলা)। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে।
  3. ৩. ওয়াজিব গুন্নাহ (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    يَظُنُّونَ (ইয়া-যো-ন্নূ-না): ن (নূন) হরফের ওপর তাশদীদ (نُّ) থাকায় নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ সময় গুন্নাহ করা ওয়াজিব। উচ্চারণ 'যোন্নূনা' - প্রথম 'ন' এ গুন্নাহ।
    أَنَّهُمْ (আন্-না-হুম): নূন তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ ওয়াজিব।
    وَأَنَّهُمْ (ওয়া আন্-না-হুম): একই নিয়মে গুন্নাহ।
  4. ৪. ইদগাম-এ-মিছলাইন (م + م) مْ + م
    أَنَّهُمْ مُلَاقُو (আন্নাহুম-মুলা-ক্বূ): প্রথম শব্দের শেষে মীম সাকিন (هُمْ) এবং পরের শব্দের শুরুতে মীম (مُ) এসেছে। নিয়ম: দুই মীমকে মিলিয়ে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হয়। উচ্চারণ 'আন্নাহুম-মুলা-ক্বূ'।
  5. ৫. ইজহার-এ-শাফাবী (م + و) م + و
    رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ (রাব্বিহিম ওয়া): মীম সাকিন (هِمْ) এর পর ওয়াও (وَ) আসায় মীমকে কোনো গুন্নাহ ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
    وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ (হুম ইলা): মীম সাকিনের পর হামজা আসায় ইজহারে শাফাবী।
  6. ৬. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ي ا و
    الَّذِينَ (যী-না): 'ذِينَ' অংশে ইয়া মাদ্দিয়া - ১ আলিফ টান।
    يَظُنُّونَ (নূ-না): 'نُونَ' অংশে ওয়াও মাদ্দিয়া - ১ আলিফ টান।
    مُلَاقُو (লা- / ক্বূ-): 'مُلَا' অংশে খাড়া যবর (ا) এবং 'قُو' অংশে ওয়াও মাদ্দিয়া - উভয় স্থানে ১ আলিফ করে টান।
    رَاجِعُونَ (রা-): 'رَاجِ' অংশে খাড়া যবর (ا) - ১ আলিফ টান।
  7. ৭. ر-এর تَفْخِيم (মোটা করা) رَ رْ (আগে فَتْحَة)
    رَبِّهِمْ (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় মোটা হবে।
    رَاجِعُونَ (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় মোটা হবে।
  8. ৮. হরফে লীন (نرم حروف) يْ (আগে فَتْحَة)
    إِلَيْهِ (ইলাইহি): ي (ইয়া) সাকিন (يْ) এবং আগের হরফে ফাতহা (لَ) থাকায় এটি হরফে লীন। নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে। উচ্চারণ 'ইলাইহি' - 'লাই' অংশ নরম।
  9. ৯. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    رَاجِعُونَ (রূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে ওয়াও মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়ে যায়, তাই ২, ৪ বা ৬ হরকত (৩ আলিফ) টেনে পড়তে হয়।
৪৭ يَا ইয়া--- بَنِي বানী--- إِسْرَائِيلَ ইসরা-ঈলা اذْكُرُوا উযকুরূ نِعْمَتِيَ নি'মাতিয়া الَّتِي আল্লাতী أَنْعَمْتُ আন'আম্তু عَلَيْكُمْ আলাইকুম وَأَنِّي ওয়া আন্নী فَضَّلْتُكُمْ ফাদ্দালতুকুম عَلَى আলা الْعَالَمِينَ আল-আলামীন

(ইয়া--- বানী--- ইসরা-ঈলা উযকুরূ নি'মাতিয়াল্লাতী আন'আম্তু আলাইকুম ওয়া আন্নী ফাদ্দালতুকুম আলাল-আলামীন)

অর্থ: হে বনী ইসরাঈল! আমার সেই অনুগ্রহ স্মরণ কর যা আমি তোমাদের উপর করেছিলাম এবং নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে সকল সৃষ্টির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলাম।

Meaning: O Children of Israel, remember My favor that I have bestowed upon you and that I preferred you over the worlds.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ مُنْفَصِل (৪ আলিফ টান) ا + إ ي + إ
    يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ (ইয়া--- বানী--- ইসরা-ঈলা): 'يَا' শব্দের শেষে মাদ্দ (ا) এবং 'بَنِي' শব্দের শেষে মাদ্দ (ي) - উভয়ের পরের শব্দ 'إِسْرَائِيلَ' শুরুতে হামজা (إ) আসায় উভয় স্থানে মাদ্দ-এ-مُنْفَصِل হবে এবং ৪ আলিফ টানতে হবে।
  2. ২. مَدّ مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) ائ
    إِسْرَائِيلَ (ইসরা-ঈলা): 'إِسْرَائِيلَ' শব্দের মধ্যে 'ائ' অংশে مَدّ (ا) ও هَمْزَة (ئ) একই শব্দে থাকায় مَدّ مُتَّصِل - ৪ আলিফ টান। উচ্চারণ 'ইসরা---ঈলা'।
  3. ৩. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) نّ
    وَأَنِّي (ওয়া আন্নী): নূন তাশদীদ থাকায় ১ আলিফ গুন্নাহ ওয়াজিব। উচ্চারণ 'ওয়া আন্-নী'।
  4. ৪. إظهار حلقي (ن + ع) ن + ع
    أَنْعَمْتُ (আন্'আম্তু): ن (نون ساكنة) এর পর ع (আইন) আসায় إظهار হবে - কোনো গুন্নাহ ছাড়াই স্পষ্ট পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আন্-আম্তু'।
  5. ৫. إظهار شفوي (م + ت) م + ت م + ع
    أَنْعَمْتُ (আন্'আম্-তু): م (ميم ساكنة) এর পর ت (তা) আসায় إظهار شفوي - ميم স্পষ্ট পড়তে হবে।
    عَلَيْكُمْ وَأَنِّي (কুম ওয়া): ميم ساكنة এর পর و (ওয়াও) আসায় إظهار شفوي।
    فَضَّلْتُكُمْ عَلَى (কুম আলা): ميم ساكنة এর পর ع (আইন) আসায় إظهار شفوي।
  6. ৬. ر-এর تَفْخِيم (মোটা করা) رَ رْ (আগে فَتْحَة)
    إِسْرَائِيلَ (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় মোটা হবে।
    اذْكُرُوا (রূ-): رُ (রা পেশ) থাকায় মোটা হবে।
  7. ৭. ض-এর تَفْخِيم (মোটা করা) ض
    فَضَّلْتُكُمْ (ফাদ্-): ض (দোয়াদ) হরফটি সবসময় মোটা হরফ (হরুফে ইস্তিলা)। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে।
  8. ৮. হরফে লীন (نرم حروف) يْ (আগে فَتْحَة)
    عَلَيْكُمْ (আলাইকুম): ي (ইয়া) সাকিন (يْ) এবং আগের হরফে ফাতহা (لَ) থাকায় এটি হরফে লীন। নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আলাইকুম' - 'লাই' অংশ নরম।
  9. ৯. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ي ا ى
    الَّتِي (তী-): ياء মাদ্দিয়া - ১ আলিফ টান।
    اذْكُرُوا (রূ-): واو মাদ্দিয়া - ১ আলিফ টান।
    نِعْمَتِيَ (তি-): ياء মাদ্দিয়া - ১ আলিফ টান।
    عَلَى (লা-): আলিফ মাকসুরা (ى) - ১ আলিফ টান।
    الْعَالَمِينَ (আ-): খাড়া যবর (ا) - ১ আলিফ টান।
  10. ১০. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    الْعَالَمِينَ (মী-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে ইয়া মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়, তাই ২, ৪ বা ৬ হরকত (৩ আলিফ) টেনে পড়তে হয়।
৪৮ وَاتَّقُوا ওয়াত্তাকূ يَوْمًا ইয়াওমাল্ لَا লা تَجْزِي তাজ-যী نَفْسٌ নাফসুন্ عَنْ আন্ نَفْسٍ নাফসিং شَيْئًا শাইআং وَلَا ওয়ালা--- يُقْبَلُ ইউক্ব-বালু مِنْهَا মিনহা شَفَاعَةٌ শাফা'আতুন্ وَلَا ওয়ালা يُؤْخَذُ ইউ'খাযু مِنْهَا মিনহা عَدْلٌ আদ-লুন وَلَا ওয়ালা هُمْ হুম্ يُنْصَرُونَ ইউন্‌সরূন

(ওয়াত্তাকূ ইয়াওমাল-লা তাজ-যী নাফসুন্-আন্ নাফসিং-শাইআং-ওয়ালা--- ইউক্ব-বালু মিনহা শাফা'আতুন-ওয়ালা ইউ'খাযু মিনহা আদলু-ওয়ালা হুম্ ইউন্‌সরূন)

অর্থ: আর তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যখন কোনো ব্যক্তি অন্য কারো কোনো কাজে আসবে না, কারো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কারো কাছ থেকে বিনিময় নেওয়া হবে না এবং তারা সাহায্যও পাবে না।

Meaning: And fear a Day when no soul will suffice for another soul at all, nor will intercession be accepted from it, nor will compensation be taken from it, nor will they be aided.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. إدغام بلا غنة (গুন্নাহ ছাড়া মিলন) ًا + ل
    يَوْمًا لَا (ইয়াওমাল-লা): تَنْوِين (ًا) এর পর ل (ل) আসায় إدغام بلا غنة হবে - কোনো গুন্নাহ ছাড়াই সরাসরি মিলিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'ইয়াওমাল-লা'।
  2. ২. قلقلة (ধাক্কা দিয়ে পড়া) جْ قْ دْ
    تَجْزِي (তাজ-যী): ج (জিম) সাকিন অবস্থায় থাকায় قلقلة করতে হবে। উচ্চারণে 'জ' এর মধ্যে একটি হালকা ধাক্কা থাকবে।
    يُقْبَلُ (ইউক্ব-বালু): ق (ক্বাফ) সাকিন অবস্থায় থাকায় قلقلة করতে হবে।
    عَدْلٌ (আদ-লুন): د (দাল) সাকিন অবস্থায় থাকায় قلقلة করতে হবে।
  3. ৩. إدغام بغنة (গুন্নাহসহ মিলন) ن + ن ٍ + ش
    عَنْ نَفْسٍ (আন্-নাফসিন): নূন সাকিন (عَنْ) এর পর ن (ن) আসায় إدغام بغنة হবে - নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আন্-নাফসিন'।
    نَفْسٍ شَيْئًا (নাফসিং-শাইআ): تَنْوِين (ٍ) এর পর ش (শীন) আসায় إدغام بغنة হবে - গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'নাফসিং-শাইআ'।
  4. ৪. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ًا + و ن + ص
    شَيْئًا وَلَا (শাইআং-ওয়ালা): تَنْوِين (ًا) এর পর و (ওয়াও) আসায় إخفاء হবে - নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে গুন্নাহ। উচ্চারণ 'শাইআং-ওয়ালা'।
    يُنْصَرُونَ (ইউন্-সরূন): ن (نون ساكنة) এর পর ص (সোয়াদ) আসায় إخفاء হবে - গুন্নাহসহ লুকিয়ে। উচ্চারণ 'ইউন্-সরূন' - 'ন্' এর আওয়াজ নাক থেকে আসবে।
  5. ৫. إظهار حلقي (ن + ع / ن + هـ) ن + ع ن + هـ
    نَفْسٌ عَنْ (নাফসুন্-আন): تَنْوِين (ٌ) এর পর ع (আইন) আসায় إظهار হবে - স্পষ্ট পড়তে হবে।
    مِنْهَا (মিনহা): নূন সাকিন (مِنْ) এর পর هـ (হা) আসায় إظهار হবে - স্পষ্ট পড়তে হবে।
  6. ৬. إظهار شفوي (م + ي) م + ي
    هُمْ يُنْصَرُونَ (হুম্ ইউন্): م (ميم ساكنة) এর পর ي (ইয়া) আসায় إظهار شفوي হবে - মীম স্পষ্ট পড়তে হবে।
  7. ৭. هَمْزَة سَاكِنَة (ঝটকা দেওয়া) ؤْ
    يُؤْخَذُ (ইউ'খাযু): هَمْزَة সাকিন (ؤْ) থাকায় স্বরযন্ত্রে সামান্য ঝটকা দিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'ইউ'খাযু' - 'উ' এর পরে হালকা ধাক্কা।
  8. ৮. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ا / و مَدّ مُنْفَصِل (৪ আলিফ) ا + ي
    لَا (লা-), وَلَا (লা-): আলিফ মাদ্দিয়া থাকায় ১ আলিফ টান।
    تَجْزِي (যী-): ياء مادّة থাকায় ১ আলিফ টান।
    وَلَا يُقْبَلُ (লা---ইউ): প্রথম শব্দের শেষে مَدّ (ا) ও পরের শব্দ শুরুতে ي (ي) আসায় মাদ্দ-এ-مُنْفَصِل - ৪ আলিফ টান।
  9. ৯. تَفْخِيم (متفخیم حروف) ص / ر
    يُنْصَرُونَ (সো- / রূ-): ص (সোয়াদ) এবং ر (রা) উভয় হরফই মোটা করে পড়তে হবে। ص সবসময় مَفْخَّمَة এবং ر এর হরকত পেশ থাকায় مَفْخَّمَة।
  10. ১০. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    يُنْصَرُونَ (রূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে ওয়াও মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়, তাই ২, ৪ বা ৬ হরকত (৩ আলিফ) টেনে পড়তে হয়।
৪৯ وَإِذْ ওয়া ইয্ نَجَّيْنَاكُم নাজ্জাইনা-কুম مِّنْ মিন্ آلِ আ-লি فِرْعَوْنَ ফির্-আও-না يَسُومُونَكُمْ ইয়াছু-মূ-নাকুম سُوءَ ছূ-আ الْعَذَابِ আল-আযা-বি يُذَبِّحُونَ ইউযাব-বিহূনা أَبْنَاءَكُمْ আব্‌না-আকুম وَيَسْتَحْيُونَ ওয়া ইয়াছতাহ্ইয়ূনা نِسَاءَكُمْ নিসা-আকুম وَفِي ওয়া ফী ذَٰلِكُمْ যা-লিকুম بَلَاءٌ বালা-উন্ مِّنْ মির্ رَّبِّكُمْ রাব্বিকুম عَظِيمٌ আ-যীম

(ওয়া ইয্ নাজ্জাইনা-কুম-মিন্ আ-লি ফির্-আও-না ইয়াছু-মূ-নাকুম ছূ-আল-আযা-বি ইউযাব-বিহূনা আব্‌না-আকুম ওয়া ইয়াছতাহ্ইয়ূনা নিসা-আকুম; ওয়া ফী যা-লিকুম বালা-উম্-মির্-রাব্বিকুম আ-যীম)

অর্থ: আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদেরকে ফিরআউনের বংশ থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম, যারা তোমাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দিত, তোমাদের পুত্রদের জবাই করত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখত। আর এতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ছিল এক মহা পরীক্ষা।

Meaning: And remember when We saved you from the people of Pharaoh, who afflicted you with the worst torment, slaughtering your sons and keeping your women alive. And in that was a great trial from your Lord.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) آ اء
    آلِ (আ-লি): হামজার পর মাদ্দ একই শব্দে থাকায় ৪ আলিফ টান।
    أَبْنَاءَكُمْ (আব্‌না-আকুম): 'اء' অংশে মাদ্দ ও হামজা একই শব্দে থাকায় ৪ আলিফ টান।
    نِسَاءَكُمْ (নিসা-আকুম): একই নিয়মে 'اء' অংশে ৪ আলিফ টান।
    بَلَاءٌ (বালা-উন): 'اء' অংশে মাদ্দ ও হামজা থাকায় ৪ আলিফ টান।
  2. ২. إدغام بغنة (ن + ر) ن + ر ٌ + م
    مِّن رَّبِّكُمْ (মির্-রাব্বিকুম): ن (نون ساكنة) এর পর ر (রা) আসায় إدغام بغنة হবে - নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'মির্-রাব্বিকুম'।
    بَلَاءٌ مِّن (বালাউম্-মিন): تَنْوِين (ٌ) এর পর م (মীম) আসায় إدغام بغنة হবে - গুন্নাহসহ মিলিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'বালাউম্-মিন'।
  3. ৩. قلقلة (ধাক্কা দিয়ে পড়া) بْ تْ
    أَبْنَاءَكُمْ (আব্-না-আকুম): ب (বা) সাকিন থাকায় قلقلة করতে হবে।
    وَيَسْتَحْيُونَ (ইয়াছ-তাহ-ইয়ূনা): ت (তা) সাকিন থাকায় قلقلة করতে হবে।
  4. ৪. ر-এর تَرْقِيق (পাতলা) رْ (আগে كسرة) ر-এর تَفْخِيم (মোটা) رَّ (ফাতহা)
    فِرْعَوْنَ (ফির্-আও-না): ر ساكنة (رْ) এবং আগের হরফে كسرة (فِ) থাকায় ر مَرْقُقَة (পাতলা) হবে।
    رَّبِّكُمْ (রাব্-): رَّ তাশদীদযুক্ত এবং ফাতহা (رَّ) থাকায় مَفْخَّمَة (মোটা) হবে।
  5. ৫. হরফে লীন و (আগে فَتْحَة)
    فِرْعَوْنَ (আও-না): و ساكنة (وْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (عَ) থাকায় এটি হরফে লীন। নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে। উচ্চারণ 'আওনা' - 'আও' অংশ নরম।
  6. ৬. إظهار شفوي (م + و/ن/ع) م + و م + ع
    يَسُومُونَكُمْ (কুম্ ইয়া): م (ميم ساكنة) এর পর ي (ইয়া) আসায় إظهار شفوي - ميم স্পষ্ট।
    أَبْنَاءَكُمْ وَ (কুম্ ওয়া): ميم ساكنة এর পর و আসায় إظهار شفوي।
    نِسَاءَكُمْ وَ (কুম্ ওয়া): একই নিয়মে إظهار شفوي।
    رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ (কুম্ আ): ميم ساكنة এর পর ع আসায় إظهار شفوي।
  7. ৭. هَمْزَة ء
    سُوءَ (ছূ-আ): هَمْزَة স্পষ্ট করে গলার নিচের অংশ থেকে পড়তে হবে।
  8. ৮. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ا و ي ٰ
    نَجَّيْنَاكُم (না-), فِرْعَوْنَ (না-), يَسُومُونَكُمْ (ছূ- / মূ-), الْعَذَابِ (বা-), يُذَبِّحُونَ (হূ-), وَفِي (ফী-), ذَٰلِكُمْ (যা-), عَظِيمٌ (যী-) - সব স্থানে ১ আলিফ টান।
  9. ৯. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ي + سكون
    عَظِيمٌ (যী-ম): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে ইয়া মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়, তাই ২, ৪ বা ৬ হরকত (৩ আলিফ) টেনে পড়তে হয়।
৫০ وَإِذْ ওয়া ইয্ فَرَقْنَا ফারাক্বনা بِكُمُ বিকুমু الْبَحْرَ আল-বাহরা فَأَنْجَيْنَاكُمْ ফা-আনজাইনা-কুম وَأَغْرَقْنَآ ওয়া-আগরাক্বনা-আ آلَ আ-লা فِرْعَوْنَ ফির্-আও-না وَأَنْتُمْ ওয়া আন্‌তুম تَنْظُرُونَ তান্‌যুরূন

(ওয়া ইয্ ফারাক্বনা বিকুমুল-বাহরা ফা-আনজাইনা-কুম ওয়া-আগরাক্বনা-আ-লা ফির্-আও-না ওয়া আন্‌তুম তান্‌যুরূন)

অর্থ: আর স্মরণ কর, যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলাম এবং তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম এবং ফিরআউনের বংশকে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম, আর তোমরা তা দেখছিলে।

Meaning: And remember when We parted the sea for you and saved you and drowned the people of Pharaoh while you were looking on.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. قلقلة (ধাক্কা দিয়ে পড়া) قْ
    فَرَقْنَا (ফারাক্বনা): ق (ক্বাফ) সাকিন থাকায় قلقلة করতে হবে।
    وَأَغْرَقْنَا (আগরাক্বনা): ق (ক্বাফ) সাকিন থাকায় قلقلة করতে হবে।
  2. ২. مَدّ مُتَّصِل (৪ আলিফ টান) آ + آ
    وَأَغْرَقْنَآ آلَ (ওয়া-আগরাক্বনা-আ-লা): প্রথম শব্দ 'وَأَغْرَقْنَآ' এর শেষে মাদ্দ (آ) এবং পরের শব্দ 'آلَ' শুরুতে হামজা (آ) থাকায় এটি একটি বিশেষ মাদ্দ। তবে 'أَغْرَقْنَآ' এর নিজস্ব মাদ্দ 'آ' এবং 'آلَ' এর নিজস্ব মাদ্দ 'آ' - উভয়েই مَدّ مُتَّصِل কারণ প্রতিটি শব্দের ভেতরেই মাদ্দ ও হামজা রয়েছে। তাই প্রতিটি শব্দেই ৪ আলিফ টানতে হবে: 'ওয়া-আগরাক্বনা---আ---লা'।
  3. ৩. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) ن + ج ن + ت ن + ظ
    فَأَنْجَيْنَاكُمْ (ফা-আনজাইনা-কুম): ن (نون ساكنة) এর পর ج (জিম) আসায় إخفاء হবে - গুন্নাহসহ লুকিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ 'ফা-আংজাইনা-কুম'।
    وَأَنْتُمْ (ওয়া আন্‌তুম): ن এর পর ت আসায় إخفاء - 'ওয়া আং-তুম'।
    تَنْظُرُونَ (তান্‌যুরূন): ن এর পর ظ (যোয়া) আসায় إخفاء - 'তাং-যুরূন'।
  4. ৪. ر-এর تَفْخِيم (মোটা) رَ رْ (আগে فَتْحَة) ر-এর تَرْقِيق (পাতলা) رْ (আগে كسرة)
    الْبَحْرَ (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় মোটা।
    وَأَغْرَقْنَا (রা-): رَ (রা যবর) থাকায় মোটা।
    فِرْعَوْنَ (ফির্-): ر ساكنة এবং আগের হরফে كسرة থাকায় পাতলা।
    تَنْظُرُونَ (রূ-): رُ (রা পেশ) থাকায় মোটা।
  5. ৫. ظ-এর تَفْخِيم (মোটা করা) ظ
    تَنْظُرُونَ (যু-): ظ (যোয়া) হরফটি সবসময় مَفْخَّمَة (মোটা) হরফ। এটি পড়ার সময় আওয়াজ ভারী ও শক্তিশালী হতে হবে।
  6. ৬. হরফে লীন و (আগে فَتْحَة)
    فِرْعَوْنَ (আও-না): و ساكنة (وْ) এবং আগের হরফে فَتْحَة (عَ) থাকায় হরফে লীন। নরমভাবে দ্রুত পড়তে হবে।
  7. ৭. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ا
    فَرَقْنَا (না-), الْبَحْرَ (বাহ-), فَأَنْجَيْنَاكُمْ (না-), فِرْعَوْنَ (না-) - সব স্থানে ১ আলিফ টান।
  8. ৮. إظهار شفوي (م + ت) م + ت
    وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ (তুম্ তান্): م (ميم ساكنة) এর পর ت (তা) আসায় إظهار شفوي - মীম স্পষ্ট পড়তে হবে।
  9. ৯. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) و + سكون
    تَنْظُرُونَ (রূ-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে ওয়াও মাদ্দিয়ার পর নূন সাকিন হয়, তাই ২, ৪ বা ৬ হরকত (৩ আলিফ) টেনে পড়তে হয়।
৫১ وَإِذْ ওয়া ইয্ وَاعَدْنَا ওয়া-আদনা مُوسَىٰ মূ-ছা أَرْبَعِينَ আর-বা-ঈ-না لَيْلَةٍ লায়-লা ثُمَّ ছুম্-মা اتَّخَذْتُمُ আত্তাখাজতুমু الْعِجْلَ আল-‘ইজলা مِن মিম্ بَعْدِهِ বা‘দিহী وَأَنْتُمْ ওয়া আন্‌তুম্ ظَالِمُونَ যা-লিমূন

(ওয়া ইয্ ওয়া-আদনা মূ-ছা আর-বা-ঈনা লায়-লা; ছুম্মাত্‌তাখাজতুমুল-‘ইজলা মিম্ বা‘দিহী ওয়া আন্‌তুম্ যা-লিমূন)

অর্থ: আর স্মরণ কর, যখন আমি মূসার সাথে চল্লিশ রাতের ওয়াদা করেছিলাম, তারপর তোমরা তার অনুপস্থিতিতে গো-বৎসকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিলে। আর তোমরা ছিলে যালিম।

Meaning: And [recall] when We made an appointment with Moses for forty nights. Then you took the calf [for worship] after him, while you were wrongdoers.

তাজবীদ বিশ্লেষণ ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা (হুবহু)
  1. ১. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) وَاعَدْنَا
    وَاعَدْنَا (ওয়া-‘আদনা): ‘আইন’ হরফের পর খালি আলিফ (ا) এসেছে। এটি مَدّ طبيعي বা أصلي। তাই ‘আদনা’-র ‘আ’ অংশটি ১ আলিফ (২ হরকত) পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  2. ২. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) مُوسَىٰ (মূ-)
    مُوسَىٰ (মূ-ছা): ‘মূ’ অংশে, পেশের পর ওয়াও সাকিন (و) এসেছে। এটি مَدّ أصلي। তাই ‘মূ’ অংশটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  3. ৩. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) مُوسَىٰ (ছা-)
    مُوسَىٰ (মূ-ছা): শেষের আলিফ মাকসুরা (ىٰ) বা খাড়া যবর থাকায় ‘ছা’ অংশটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  4. ৪. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) أَرْبَعِينَ
    أَرْبَعِينَ (আর-বা-‘ঈ-না): ‘ঈন’ অংশে كسرة-এর পর ياء ساكنة (ي) এসেছে। এটি مَدّ أصلي। তাই ‘ঈ’ অংশটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  5. ৫. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ظَالِمُونَ (যা-)
    ظَالِمُونَ (যা-লিমূন): ‘যা’ অংশে فتحة-এর পর খালি আলিফ (ا) এসেছে। এটি مَدّ أصلي। তাই ‘যা’ অংশটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  6. ৬. مَدّ أصلي (১ আলিফ টান) ظَالِمُونَ (মূ-)
    ظَالِمُونَ (যা-লিমূন): ‘মূ’ অংশে پيش-এর পর واو ساكنة (و) এসেছে। এটি مَدّ أصلي। তাই ‘মূ’ অংশটি ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  7. ৭. حرف اللين (নরম করে পড়া) لَيْلَةٍ
    لَيْلَةٍ (লায়-লা): এখানে ‘ইয়া’ ساكنة (يْ) এবং এর আগের হরফে فتحة (لَ) আছে। এটি حرف اللين। তাই এখানে কোনো টান বা মাদ্দ নেই; বরং ‘লায়’ অংশটি খুব নরম ও দ্রুত পড়তে হবে।
  8. ৮. ر-এর تَفْخِيم (মোটা করা) أَرْبَعِينَ
    أَرْبَعِينَ (আর-বা-‘ঈ-না): এখানে ر (রা) হরফটির حركة فتحة (رَ) আছে। ر مَفْخَّمَة (মোটা) হওয়ার শর্ত হলো এর حركة فتحة বা ضمة হওয়া। তাই এই ‘রা’ কে ভারী বা মোটা করে পড়তে হবে।
  9. ৯. إقلاب (পরিবর্তন করে গুন্নাহ) مِن بَعْدِهِ
    مِن بَعْدِهِ (মিম্-বা‘দিহী): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর ب (বা) এসেছে। إقلاب-এর নিয়ম হলো نون ساكنة বা تَنْوِين-কে মীম (م) দ্বারা পরিবর্তন করে নাকের বাঁশিতে ১ আলিফ পরিমাণ غُنَّة (গুন্নাহ) দিয়ে পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে ‘মিম্-বা‘দিহী’ - যেখানে ‘মিম্’ অংশে গুন্নাহ আছে।
  10. ১০. واجب الغنة (১ আলিফ গুন্নাহ) ثُمَّ
    ثُمَّ (ছুম্-মা): মীম (م) হরফের ওপর تَشْدِيد (مَّ) আছে। নুন বা মীম তাশদীদযুক্ত হলে নাকের বাঁশি দিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ غُنَّة করা وَاجِب (অবশ্যই পালনীয়)।
  11. ১১. إظهار شفوي (মীম সাকিন স্পষ্ট করা) وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ
    وَأَنْتُمْ ظَالِمُونَ (ওয়া আন্‌তুম্ যা-লিমূন): এখানে م (ميم ساكنة) এর পর ظ (যোয়া) এসেছে। ميم ساكنة-এর পর ب বা م ছাড়া অন্য হরফ এলে إظهار شفوي হয়। অর্থাৎ ميم-কে কোনো غُنَّة ছাড়াই একদম স্পষ্ট করে পড়তে হবে। উচ্চারণ ‘তুম্-যা’ - ‘ম্’ এর পরে কোনো গুন্নাহ নেই, সরাসরি ‘যা’ পড়তে হবে।
  12. ১২. إخفاء حقيقي (লুকিয়ে গুন্নাহ) وَأَنْتُمْ (নুন সাকিন)
    وَأَنْتُمْ (ওয়া আন্‌তুম্): এখানে ن (نون ساكنة) এর পর ت (তা) এসেছে। ت إخفاء-র হরফ (১৫টি হরফের একটি)। তাই نون ساكنة-কে স্পষ্ট না করে নাকের বাঁশিতে লুকিয়ে ১ আলিফ পরিমাণ গুন্নাহসহ পড়তে হবে। উচ্চারণ হবে ‘ওয়া আন্‌তুম্’ - যেখানে ‘আন্’ অংশে হালকা গুন্নাহ আছে। এই গুন্নাহ ইজহারে শাফাবীর গুন্নাহ থেকে আলাদা।
  13. ১৩. مَدّ عارِض لِلسُّكُونِ (৩ আলিফ টান) ظَالِمُونَ
    ظَالِمُونَ (যা-লিমূ-ন): আয়াতের শেষ শব্দ। যখন আমরা এখানে وَقْف (থামা) করি, তখন ‘ظَالِمُونَ’ এর শেষ হরফ ‘ن’ এর মূল হরকত পেশ (ـُ) থাকলেও থামার কারণে আমরা তাকে سَاكِن (ـْ) দিয়ে পড়ি। যেহেতু سَاكِن হওয়া হরফের ঠিক আগে مَدّ এর হরফ ‘و’ (ওয়াও) আছে, তাই এটি مَدّ عَارِض لِلسُّكُونِ। এটি ২, ৪ বা ৬ হরকত (আমাদের সেটিং অনুযায়ী ৩ আলিফ) পরিমাণ টেনে পড়তে হয়। উচ্চারণ হবে ‘যা-লিমূন্’ - যেখানে ‘মূ’ অংশ টানা হবে।
  14. ১৪. هَمْزَةُ الْوَصْلِ (সংযোগকারী হামযা) اتَّخَذْتُمُ
    اتَّخَذْتُمُ (আত্তাখাজতুমু): এখানে শব্দের শুরুতে هَمْزَةُ الْوَصْل (ا) আছে, যা সাধারণত ‘আ’ হিসেবে পড়া হয়। কিন্তু এই আয়াতটি যখন আগের আয়াতের সাথে মিলিয়ে পড়া হয়, তখন এই হামযা পড়া হয় না। যেহেতু আমরা আয়াত ৫১ আলাদাভাবে পড়ছি, শুরুতে এটি ‘আ’ হিসেবেই উচ্চারিত হবে। এটিই هَمْزَةُ الْوَصْل-এর বৈশিষ্ট্য।
  15. ১৫. لام قمرية (লাম স্পষ্ট) الْعِجْلَ
    الْعِجْلَ (আল-‘ইজলা): ‘আল’ (ال) এর পরে কামারি হরফ ‘ع’ (আইন) এসেছে। কামারি হরফ ১৪টি। এগুলোর পরে لام (ل) কে স্পষ্ট করে পড়তে হয়। তাই لام স্পষ্ট - ‘আল-‘ইজলা’। এটি لام شمسية-র বিপরীত।
Elementor #601

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top