সূরা আল-হিজর (১৫) — আয়াত ১-৪, ৮ — Tajwid

সূরা আল-হিজর (১৫) — আয়াত ১-৪, ৮

الٓر ۚ تِلْكَ آيَاتُ ٱلْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُّبِينٍ

(আলিফ-লাম-রা; তিলকা আ-য়া-তুল কিতা-বি ওয়া ক্বুরআ-নিম মুবীন)

অর্থ: আলিফ-লাম-রা। এগুলো কিতাবের আয়াতসমূহ এবং সুস্পষ্ট কুরআন।

Meaning: Alif-Lam-Ra. These are the verses of the Book and a clear Qur’an.

আয়াত ১: তাজবীদ বিশ্লেষণ
  1. হরুফে মুক্বাত্তআত (আলিফ-লাম-রা)
    এখানে 'লাম' (ل) অক্ষরে মাদ্দে লাযিম হারফী হয়েছে, তাই একে ৩ আলিফ (৬ হারাকাত) পরিমাণ লম্বা করে টানতে হবে। 'রা' (ر) অক্ষরে মাদ্দে তাবিঈ হারফী হয়েছে, একে ১ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়তে হবে।
  2. র-এর নিয়ম (ক্বুরআ-ন)
    (রা): 'রা' অক্ষরের ওপর ফাতহা (যবর) থাকায় এটি পুর বা মোটা (Tafkheem) করে পড়তে হবে। (ক্বুরআ-ন): এখানে 'র' সাকিন এবং তার আগের অক্ষরে পেশ থাকায় এটিও পুর বা মোটা করে পড়তে হবে।
  3. মাদ্দ-এর নিয়ম (আ-য়া-তু) (কিতা-বি) (মুবী-ন)
    (আ-য়া-তু): 'হামযা' এবং 'ইয়া' উভয় অক্ষরে খাড়া যবর থাকায় এগুলো মাদ্দে তাবিঈ। ১ আলিফ করে টেনে পড়তে হবে। (কিতা-বি): 'তা' অক্ষরের সাথে খালি আলিফ থাকায় এটি মাদ্দে তাবিঈ। ১ আলিফ টেনে পড়তে হবে। (মুবী-ন): আয়াতের শেষে থামলে (ওয়াকফ) এটি মাদ্দে আরিদ লিস-সুকুন হবে। এটি ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া উত্তম।
  4. নূন সাকিন/তানভীন (ক্বুরআ-নim মুবীন)
    এখানে তানভীনের পর 'মীম' আসায় এটি ইদগামে বা-গুন্নাহ। তানভীনকে মীমের সাথে মিলিয়ে গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  5. লাম-এর নিয়ম (তিলকা / আল-কিতাব)
    এখানে 'লাম' স্পষ্ট করে পড়তে হবে। এটি ইযহারে ক্বামারী।
رُبَمَا يَوَدُّ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لَوْ كَانُوا۟ مُسْلِمِينَ

(রুবামা- ইয়াওয়াদ্দু-ল্লাযী-না কাফারূ- লাও কা-নূ- মুসলিমী-ন)

অর্থ: অবিশ্বাসীরা কখনো কামনা করবে—হায়! যদি তারা মুসলিম হতো।

Meaning: The disbelievers will wish, “If only we had been Muslims.”

আয়াত ২: তাজবীদ বিশ্লেষণ
  1. র-এর নিয়ম (রুবামা / কাফারূ)
    (রুবামা-): 'র' অক্ষরের ওপর পেশ থাকায় এটি পুর বা মোটা করে পড়তে হবে। (কাফারূ-): এখানেও 'র' অক্ষরের ওপর পেশ থাকায় মোটা করে পড়তে হবে।
  2. মাদ্দ-এর নিয়ম (রুবামা / ল্লাযীনা / কাফারূ / কা-নূ) (মুসলিমী-ন)
    (রুবামা-): 'মীম'-এর সাথে খালি আলিফ থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ। (ল্লাযী-না): 'যাল'-এর সাথে ইয়া সাকিন থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ। (কাফারূ-): 'র'-এর সাথে ওয়াও সাকিন থাকায় ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ। (কা-নূ-): এখানে 'কাফ' এবং 'নূন' উভয় অক্ষরে ১ আলিফ করে মাদ্দে তাবিঈ হবে। (মুসলিমী-ন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে এটি মাদ্দে আরিদ লিস-সুকুন হবে। ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া উত্তম।
  3. লফযতুল্লাহ (আল্লাহ শব্দের নিয়ম) (ইয়াওয়াদ্দু-ল্লাযী-না)
    (ইয়াওয়াদ্দু-ল্লাযী-না): এখানে আল্লাহ শব্দের আগের অক্ষরে পেশ থাকায় 'লাম' অক্ষরটি পুর বা মোটা করে পড়তে হবে।
  4. লীন-এর নিয়ম (লাও)
    (লাও): 'ওয়াও' সাকিন এবং তার আগের অক্ষরে যবর থাকায় এটি হারফে লীন। একে না টেনে দ্রুত পড়তে হবে।
ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا۟ وَيَتَمَتَّعُوا۟ وَيُلْهِهِمُ ٱلْأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ

(যারহুম ইয়া’কুলূ ওয়া ইয়াতামাত্তাউ’ ওয়া ইয়ুলহিহিমুল আমালু ফাসাউফা ইয়া’লামূন)

অর্থ: তাদেরকে ছেড়ে দাও—তারা খাক, ভোগ করুক এবং আশা তাদেরকে ব্যস্ত রাখুক; অচিরেই তারা জানতে পারবে।

Meaning: Leave them to eat and enjoy, and let false hope distract them. Soon they will know.

আয়াত ৩: তাজবীদ বিশ্লেষণ
  1. র-এর নিয়ম (যারহুম)
    (যারহুম): 'র' সাকিন এবং তার আগের অক্ষরে যবর থাকায় এটি পুর বা মোটা করে পড়তে হবে।
  2. মাদ্দ-এর নিয়ম (ইয়া’কুলূ) (ইয়াতামাত্তাউ’) (ইয়া’লামূন)
    (ইয়া’কুলূ): 'লাম'-এর সাথে পেশযুক্ত ওয়াও সাকিন থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (ইয়াতামাত্তাউ’): 'আইন'-এর সাথে পেশযুক্ত ওয়াও সাকিন থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (ইয়া’লামূন): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করলে এটি মাদ্দে আরিদ লিস-সুকুন হবে। ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া উত্তম।
  3. মীম সাকিন-এর নিয়ম (যারহুম ইয়া’কুলূ) (ইয়ুলহিহিমুল)
    (যারহুম ইয়া’কুলূ): মীম সাকিনের পর 'ইয়া' আসায় এটি ইযহারে শাফাবী—গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্টভাবে পড়তে হবে।
    (ইয়ুলহিহিমুল): এখানেও মীম সাকিনের পর 'লাম' আসায় স্পষ্ট করে পড়তে হবে (ইযহার)।
  4. লীন-এর নিয়ম (ফাসাউফা)
    (ফাসাউফা): 'ওয়াও' সাকিন এবং তার আগের অক্ষরে যবর থাকায় এটি হারফে লীন। টান ছাড়া নরমভাবে দ্রুত পড়তে হয়।
  5. ইযহারে ক্বামারী (আল-আমালু)
    (আল-আমালু): আলিফ-লামের পর ক্বামারী অক্ষর (হামযা) থাকায় 'লাম' স্পষ্ট করে পড়তে হবে। একে ইযহারে ক্বামারী বলে।
وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَعْلُومٌ

(ওয়ামা- আহলাকনা- মিন ক্বারইয়াতিন ইল্লা- ওয়ালাহা- কিতা-বুম মা‘lূম)

অর্থ: আমি কোনো জনপদ ধ্বংস করিনি—যদি না তার জন্য নির্ধারিত একটি সময়লিপি ছিল।

Meaning: We never destroyed a city except that it had a known, appointed time.

আয়াত ৪: তাজবীদ বিশ্লেষণ
  1. মাদ্দ-এর নিয়ম (وَمَا) (أَهْلَكْنَا / إِلَّا / وَلَهَا / كِتَابٌ) (مَعْلُومٌ)
    (ওয়ামা- আহলাকনা-): 'মীম'-এর ওপর চিকন চিহ্ন এবং পরে পৃথক শব্দের শুরুতে হামযা আসায় এটি মাদ্দে মুনফাসিল। এটি ৩ আলিফ টেনে পড়তে হয়।
    (আহলাকনা-): 'নূন'-এর সাথে খালি আলিফ থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (ইল্লা-): 'লাম'-এর সাথে খালি আলিফ থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (ওয়ালাহা-): 'হা'-এর সাথে খালি আলিফ থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (কিতা-বুম): 'তা'-এর সাথে খালি আলিফ থাকায় এটি ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (মা‘lূম): আয়াতের শেষে ওয়াকফ করায় 'লাম'-এর সাথে পেশযুক্ত ওয়াও সাকিনটি মাদ্দে আরিদ লিস-সুকুন হয়েছে। এটি ৩ আলিফ পরিমাণ টেনে পড়া উত্তম।
  2. ইখফা ও গুন্নাহর নিয়ম (مِنْ قَرْيَةٍ) (كِتَابٌ مَعْلُومٌ)
    (মিন ক্বারইয়াতিন): নূন সাকিনের পর ইখফার অক্ষর 'ক্বাফ' আসায় এখানে ইখফা হবে। অর্থাৎ নাকের বাঁশিতে নিয়ে গুন্নাহ করে পড়তে হবে।
    (কিতা-বুম মা‘lূm): তানবীনের (দুই পেশ) পর মীম আসায় এটি ইদগামে বা-গুন্নাহ। এখানে মীমের সাথে মিলিয়ে গুন্নাহসহ পড়তে হবে।
  3. ইজহার-এর নিয়ম (قَرْيَةٍ إِلَّا)
    (ক্বারইয়াতিন ইল্লা-): তানবীনের (দুই যের) পর ইজহারের অক্ষর 'হামযা' আসায় এখানে ইজহার হবে। অর্থাৎ গুন্নাহ ছাড়া স্পষ্ট করে পড়তে হবে।
  4. কলকলাহ-এর নিয়ম (أَهْلَكْنَا)
    (আহলাকনা-): 'কাফ' অক্ষরের ওপর সাকিন থাকায় এটি কলকলাহ হবে। অর্থাৎ উচ্চারণের সময় ধাক্কা দিয়ে পড়তে হবে। (বি.দ্র. এটি ক্বাফ নয়, কাফ; তাই মৃদু ধাক্কা হবে)।
  5. র-এর নিয়ম (তাখফিম) (قَرْيَةٍ)
    (ক্বারইয়াতিন): 'র' সাকিন এবং তার আগের অক্ষরে যবর থাকায় এটি পুর বা মোটা (তাখফিম) করে পড়তে হবে।
  6. সাকিন ও তাশদীদের উচ্চারণ (أَهْلَكْنَا) (مَعْلُومٌ)
    (আহলাকনা-): 'হা' সাকিনটি হলকের মধ্যখান থেকে স্পষ্টভাবে বাতাসসহ উচ্চারণ করতে হবে।
    (মা‘lূm): 'আইন' সাকিন থাকায় হলকের মধ্যখান থেকে চাপ দিয়ে উচ্চারণ করতে হবে।
مَا نُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَا كَانُوا إِذًا مُّنظَرِينَ

(মা- নুনাযযিলুল মালা-ইকাতা ইল্লা- বিল হাক্ব ক্বি ওয়ামা- কা-নূ ইযাম মুনজয়ারীন)

অর্থ: আমরা ফেরেশতাদের কেবল সত্যসহই নাযিল করি; আর তখন তাদের আর কোনো অবকাশ দেওয়া হতো না।

Meaning: We do not send down the angels except with truth, and then they would not be given respite.

আয়াত ৮: তাজবীদ বিশ্লেষণ
  1. মাদ্দ-এর নিয়ম (مَا / إِلَّا / كَانُوا) (الْمَلَائِكَةَ) (مُّنظَرِينَ)
    (মা- / ইল্লা- / কা-নূ): এগুলোতে ১ আলিফ মাদ্দে তাবিঈ।
    (আল মালা-ইকাতা): এটি মাদ্দে মুত্তাসিল (৪ আলিফ টান)।
    (মুনজয়ারীন): আয়াতের শেষে মাদ্দে আরিদ লিস-সুকুন (৩ আলিফ)।
  2. গুন্নাহ-এর নিয়ম (إِذًا مُّنظَرِينَ)
    (ইযাম মুনজয়ারীন): তানবীনের পর 'মীম' আসায় ইদগামে বা-গুন্নাহ।
  3. ক্বাফ-এর নিয়ম (তাশদীদ) (بِالْحَقِّ)
    (বিল হাক্ব ক্বি): 'ক্বাফ' অক্ষরের ওপর তাশদীদ থাকায় তা শক্তভাবে এবং মোটা করে উচ্চারণ করতে হবে।
  4. র-এর নিয়ম (তারকীক) (مُّنظَرِينَ)
    (মুনজয়ারীন): 'র' অক্ষরের নিচে যের থাকায় এটি চিকন বা বারীক করে পড়তে হবে।
hijr

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to top